ভারতের আধিপত্যের রেকর্ড অবশ্য সূর্যকে কিছুটা ঢাল দিচ্ছে। শেষ সাতবারের মুখোমুখিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতেছে ভারত। গত দশ বছরে ১৯ ম্যাচে জয় ১৫, হার মাত্র ৩। এবারের টুর্নামেন্টেও দু'বার সলমন ব্রিগেডকে হারিয়েছে যথাক্রমে ৭ উইকেট আর ৬ উইকেটে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ মাঠে নামবে ভারতীয় দল।

সূর্যকুমার যাদব
শেষ আপডেট: 28 September 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায়, অনুরাগীদের জবানিতে ‘মিস্টার ৩৬০’। কিন্তু এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) তাঁর ব্যাট যেন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১৮০ ডিগ্রিতে—সরাসরি ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে! অথচ তিনিই ভারতের দলনেতা। দু-দু’বার পাকিস্তানকে হারানোর সাক্ষী। আর তাঁরই মুখে অতিসম্প্রতি শোনা গিয়েছিল ‘ভারত–পাক ম্যাচে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, এটা একপাক্ষিক লড়াই!’
সেই দম্ভমিশ্রিত ঘোষণা এখন যেন গলার কাঁটা। ফাইনালে যদি ব্যাট জ্বলে না ওঠে, চাপটা বহুগুণে বেড়ে যাবে সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav)।
গ্রুপ লিগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টসের সময় প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সালমান আঘার সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেছিলেন সূর্য। পরে ম্যাচে খেললেন ৪৭* রানের ম্যাচ-জেতানো ইনিংস। তখন মনে হয়েছিল, তিনি কথার পাশাপাশি কাজেও প্রমাণ করতে মরিয়া। কিন্তু সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আউট হলেন মাত্র তিন বল খেলে। তারপরও সাহস করে বললেন, ‘এটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়!’ ধারাবাহিক অফ ফর্মের চক্করে সেই কথার ওজন বিলক্ষণ টের পাচ্ছেন ভারতীয় অধিনায়ক!
সংখ্যাই বলে দিচ্ছে দুশ্চিন্তার কারণ। এশিয়া কাপে পাঁচ ইনিংসে সূর্যের স্কোরকার্ড: ৭*, ৪৭, ০, ৫, ১২। সব মিলিয়ে মোটে ৭১ রান। তাঁর পাকিস্তান-রেকর্ডও ভয় ধরাচ্ছে—সাত ইনিংসে গড় মাত্র ১৮.৫, সর্বোচ্চ ৪৭*। একবছরেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। জুলাই ২০২৪ থেকে খেলা ১৯ ইনিংসে মাত্র ৩২৯ রান, গড় ১৯.৩৫। কেবল দুটি হাফসেঞ্চুরি। এটা কি ভারতের অধিনায়কসুলভ রেকর্ড?
তবু এতকিছুর পরেও অস্বীকার করা যাবে না—অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমারের টিম এখনও কোনও সিরিজ হারেনি। নেতৃত্বের কৌশল, ফিল্ড সেটিং, বোলার পরিবর্তন—সব জায়গাতেই তিনি শাণিত, বিচক্ষণ। দল দুরন্ত ছন্দে। প্রায় নিখুঁত। আট দলের টুর্নামেন্টে এখনও অপরাজিত। কিন্তু টিম পরপর শত্রুনিকেশ করলেও তাঁর নিজের ব্যাটিং যেন ক্রমশ চাপের গহ্বরে!
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকরের পরামর্শ, ‘সূর্যকে উচিত কিছুটা সময় নিয়ে সেট হওয়া। তিন-চার বল দেখে পেস-বাউন্স-টার্ন কেমন আছে বুঝে নেওয়া। ডাগআউট থেকে দেখা আর মাঠে দাঁড়িয়ে খেলা এক জিনিস নয়।’
ভারতের আধিপত্যের রেকর্ড অবশ্য সূর্যকে কিছুটা ঢাল দিচ্ছে। শেষ সাতবারের মুখোমুখিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতেছে ভারত। গত দশ বছরে ১৯ ম্যাচে জয় ১৫, হার মাত্র ৩। এবারের টুর্নামেন্টেও দু'বার সলমন ব্রিগেডকে হারিয়েছে যথাক্রমে ৭ উইকেট আর ৬ উইকেটে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ মাঠে নামবে ভারতীয় দল।
কিন্তু অতীত বলছে, এই ম্যাচ আলাদা। আবহাওয়া, সীমান্ত-রাজনীতি, মাঠের বিতর্ক—সব মিলিয়ে ফাইনালের উত্তাপ অন্য মাত্রায়। যা দ্বিগুণ করেছে প্রতিপক্ষ শিবিরের লাগাতার উসকানি। হারিস রউফের যুদ্ধবিমান-ইশারা, সাহিবজাদা ফারহানের বন্দুক-সেলিব্রেশন—সবই প্রমাণ করছে, এ লড়াই শুধু ক্রিকেটের নয়, মর্যাদারও।
আর তাই সূর্যের কাঁধে চাপ কয়েক দফা বেড়ে গিয়েছে। আগুনে কথা বলার অভ্যাস তিনি আগেই দেখিয়েছেন। কিন্তু আজ দরকার ব্যাটে জবাব দেওয়া। ভারতের নবম এশিয়া কাপ শিরোপা তাঁর হাত ধরেই এলে হয়তো ‘কোণঠাসা সূর্য’-র বদলে আবার শোনা যাবে পুরনো নাম—‘মিস্টার ৩৬০’। কিন্তু যদি না পারেন? যদি আবার ব্যাট থেমে যায় অল্পতেই? তবে হয়তো তাঁরই মুখের বুলি ফিরে আসবে বুমেরাং হয়ে। ‘এ লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই’-কে কাজে করে দেখানোর আসল পরীক্ষা আজই।