বাইশ গজে দ্বৈরথের টান এড়িয়ে থাকা গেল কই? বরং এই উত্তাপেই বেড়েছে দর্শকের আগ্রহ। এশিয়া কাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে দু'দলের ফাইনাল এই প্রথম। তাই আলাদা কৌতূহল, বাড়তি উন্মাদনা, ইতিহাসে নাম লেখানোর সুযোগ!

ভারত বনাম পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 28 September 2025 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারদিকের বিতর্ক, রাজনৈতিক উত্তাপ, বয়কটের ডাক—সবকিছুকে পেছনে ফেলে ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের (India vs Pakistan Asia Cup 2025 Final) উত্তেজনা থাবা বসিয়েছে সিনেমা হলে! রবিবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের প্রথম ভারত-পাক ফাইনালের মঞ্চে সাজো সাজো রব। আর সেই লড়াই এবার দেখা যাবে গোটা দেশের একশো’রও বেশি সিনেমা হলে।
পিভিআর আইনক্স (PVR INOX), দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেন, ঘোষণা করেছে—এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) আর আইটিডব্লিউ ইউনিভার্সের (ITW Universe) সঙ্গে নির্ধারিত চুক্তি মেনে তারা দেখাবে লাইভ ম্যাচ। বিজ্ঞাপন ছাড়া। হুবহু সিনেমা-স্ক্রিনে উপভোগ করা যাবে মাঠের টাটকা-তাজা অভিজ্ঞতা!
পিভিআর আইনক্সের কর্তা আমির বিজলি বলেন, ‘১৪ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক ম্যাচের দিন অডিটোরিয়ামের ভিতরে কী দারুণ পরিবেশ! কোথাও ৮০–৯০ শতাংশ আসন ভর্তি। দর্শকদের হাততালি, উল্লাস—সবাই সবকিছু একেবারে মাঠের মতো উপভোগ করছিলেন। সিনেমা হলে ক্রিকেটের এই আমেজ অভূতপূর্ব!’
অথচ এই ছবিই সপ্তাহখানেক আগেও ছিল অপ্রত্যাশিত! টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতে ভরপুর সংশয়! পহেলগামের সন্ত্রাসবাদী হামলা, সীমান্তে গুলি চালনা—সব মিলিয়ে ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে দেশজুড়ে বয়কটের হুঙ্কার ওঠে। অনেকেই গলা তুলে জানিয়ে দেন, রক্ত আর সৌহার্দ্য একসঙ্গে বইতে পারে না। টিম ইন্ডিয়ার মাঠে নামাই উচিত নয়।
কিন্তু দিনকয়েক কাটতে না কাটতেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। টানা তিন রবিবারে তিনবার মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। আগের দু'বার উন্মাদনা ছড়িয়েছে গ্যালারিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবার তৃতীয় কিস্তিতে সিনেমা হলে!
অথচ এতকিছুর মধ্যে দুই দলের ঝগড়াঝাঁটিও কম হয়নি। প্রথম ম্যাচে জয় উৎসর্গ করে সেনাদের নাম টেনে সমালোচনার মুখে পড়েন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। দ্বিতীয় ম্যাচে উসকানিমূলক ভঙ্গি করে বিতর্কে জড়ান পাক শিবিরের হারিস রউফ (Haris Rauf) আর সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। হাত মেলানো নিয়েও বিস্তর টানাপড়েন। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের অশান্তি ছাপিয়ে যায় ময়দানের ক্রিকেটকে।
তবু বাইশ গজে দ্বৈরথের টান এড়িয়ে থাকা গেল কই? বরং এই উত্তাপেই বেড়েছে দর্শকের আগ্রহ। এশিয়া কাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে দু'দলের ফাইনাল এই প্রথম। তাই আলাদা কৌতূহল, বাড়তি উন্মাদনা, ইতিহাসে নাম লেখানোর সুযোগ! একদিকে সূর্যকুমারের ভারত দুরন্ত ফর্মে। অন্যদিকে সলমন আঘার পাকিস্তান মরিয়া হারানোর জন্য, মুখিয়ে বদলা নিতে। ফলে লড়াই শুধু ব্যাট-বলের নয়, আবেগ আর মর্যাদারও বটে!
রবিবারের দিন তাই সবদিক দিয়ে অনন্য! একদিকে দুবাইয়ের স্টেডিয়াম, অন্যদিকে দেশের একশো’রও বেশি সিনেমা হল—দু’জায়গাতেই জমবে ভারত-পাক যুদ্ধের আসর। বয়কটের স্লোগান কোথায় মিলিয়ে গেল, আজকের পর আদৌ কেউ খেয়াল রাখবে কি?