জাদেজার ধৈর্য ও সংযম প্রশংসনীয় হলেও চ্যাপেলের প্রশ্ন, ‘এটা কি আদতে সঠিক রাস্তা?’ তাঁর মতে, এই সওয়াল জন্য শুধু জাদেজার জন্য নন, অধিনায়ক শুভমান গিলকেও এর জবাব দিতে হবে।

গ্রেগ চ্যাপেল
শেষ আপডেট: 20 July 2025 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লর্ডসে (Lords Test) হারের পর অদ্ভুত পরিস্থিতিতে রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)।
একদল তাঁর হার-না-মানা মানসিকতার প্রশংসা করছেন।
আরেক পক্ষ পরাজিত নায়কের মতো বাইশ গজে নতমস্তকে দাঁড়িয়ে থাকার, প্রাণান্ত চেষ্টার পরেও দলকে জেতাতে না পারা নিয়ে সহানুভূতি জানাচ্ছেন, ঝরে পড়ছে আক্ষেপও।
তৃতীয় পক্ষ সাবাশি জানিয়েও পরামর্শের ছলে ঈষৎ সমালোচনার পথ বেছে নিয়েছেন।
এই রাস্তায় হেঁটেছেন প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক, একদা ভারতীয় দলের কোচ গ্রেগ চ্যাপেল (Greg Chappell)। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধরে চাপ সামলে খেলেছেন জাদেজা। সে কারণে তিনি অবশ্যই বাহবা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চ্যাপেলের চোখে সেটা ‘আধা-সত্য’। তাঁর মতে, শুধু পরিস্থিতি সামলে রান আটকে রাখা যথেষ্ট নয়। ম্যাচ জিততে গেলে, বিশেষ করে আর কোনও স্বীকৃত ব্যাটার বাকি নেই যখন, তখন আক্রমণাত্মক হওয়াটাই আসল দায়িত্ব।
একটি দৈনিকের হয়ে কলাম লিখতে বসে চ্যাপেলের বক্তব্য, ‘জাদেজা নিজের মতো করে চেষ্টা চালিয়েছে, বোলারদের আড়ালে খেলেছে, স্ট্রাইক নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু ওর বাউন্ডারি খোঁজার দরকার ছিল। প্রতি ওভারে একটা সিঙ্গল যথেষ্ট নয়, তাতে দল জিতত না। অন্য প্রান্তে রান আসাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’
জাদেজার ধৈর্য ও সংযম প্রশংসনীয় হলেও চ্যাপেলের প্রশ্ন, ‘এটা কি আদতে সঠিক রাস্তা?’ তাঁর মতে, এই সওয়াল জন্য শুধু জাদেজার জন্য নন, অধিনায়ক শুভমান গিলকেও এর জবাব দিতে হবে। চ্যাপেলের বক্তব্য, ‘যখন একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে জাদেজা খেলছেন, তখন তাঁর মাথায় এটা ঢোকানো দরকার ছিল যে, ও-ই ম্যাচ জেতাবে। এই বার্তা আসা উচিত ড্রেসিংরুম থেকে। অধিনায়ক খোলাখুলি কথাটা জানিয়ে দেবেন!’
চ্যাপেলের সাফ মন্তব্য, ‘ডিফেন্স করে সিঙ্গল নেওয়া জাদেজার কাজ নয়। ওর দায়িত্ব ম্যাচটা জেতানো। শুভমানের উচিত ছিল স্পষ্ট করে বলা—জয় আসবে শুধু তোমার হাত ধরে। টেলএন্ডারদের কাজ দাঁড়িয়ে থাকা, তুমি ঝুঁকি নিয়ে খেলে যাও!’
এই প্রসঙ্গে ২০১৯-এ লিডস টেস্টের স্মৃতি টেনে এনেছেন চ্যাপেল। ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস (Ben Stokes Against Australia) কীভাবে একা হাতে অজিদের থেকে ম্যাচের রাশ ছিনিয়ে নেন, তার উদাহরণ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘স্টোকস জানত, সফল হোক বা ব্যর্থ—পুরো দল ওর পাশে থাকবে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলেছে ও। একটা বড় দল গড়তে গেলে এমন মানসিকতাই জরুরি!’
লর্ডস টেস্টের শেষ ইনিংসে প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাট করেছেন জাদেজা। সঙ্গে ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ ও মহম্মদ সিরাজ। ভারত শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ১৭০ রানে। জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯৩। টিম ইন্ডিয়া হেরে যায় ২২ রানে। বুমরাহ ৫৪ বলে ৫ রান করেন। সিরাজ ৩০ বলে ৪। জাদেজা একপ্রান্তে ৫৬ রানে অপরাজিত দাঁড়িয়ে থাকেন।
প্রসঙ্গত, জাদেজার পাশাপাশি শুভমানের (Shubhman Gill) উদ্দেশে চ্যাপেলের বার্তা, ‘এটাই গিলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কীভাবে খেলতে চায় দল, সেই দিশা স্পষ্ট করে দেওয়াটাই ওর কাজ। শুধু মুখে নয়, কাজে, নীতিতে, মানসিকতায় সেটা বোঝাতে হবে!” তাঁর মতে, সফল অধিনায়করা সব সময়েই ভালো ‘কমিউনিকেটর’। শুধু নিজের ব্যাটিং দিয়ে নেতা হওয়া যায় না। অনুশীলন হোক বা ম্যাচ চলাকালীন—দুটো ক্ষেত্রেই দলনেতার শান্ত, স্বচ্ছ বার্তা টিমের মনোবল গড়ে তোলে।
চ্যাপেলের পর্যবেক্ষণ, ‘গিলকে বলতে হবে, ব্যাটারদের বড় ইনিংস কেন জরুরি। ছোট ছোট পার্টনারশিপ বানিয়ে ধৈর্য ধরে খেলতে হবে। সেট হওয়ার পরেও যারা খেই হারায়, তারাই দলের ভরাডুবির কারণ!’