গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে ফারহানের হঠাৎ করে বন্দুক চালানোর ভঙ্গি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। সাধারণ দর্শক থেকে রাজনৈতিক মহল, একযোগে একে ‘সংবেদনশীলতার অভাব’ বলে দেগে দিয়েছে।

সাহিবজাদা ফারহান
শেষ আপডেট: 22 September 2025 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) সুপার ফোরে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দল হারলেও ব্যাট হাতে শুরুটা খারাপ করেননি পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। ৪৫ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। কিন্তু ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে গেল বিতর্কিত উল্লাস। অক্ষর প্যাটেলের (Axar Patel) বলে ছক্কা মেরে অর্ধশতরান করামাত্র ফারহান হঠাৎ ব্যাটকে বন্দুকের মতো ধরে গুলি ছোড়ার ভঙ্গিতে সামনে তাক করে বসেন। মুহূর্তে ভাইরাল (Viral) সেই দৃশ্য। যাকে ঘিরে লড়াই শেষেও আকচাআকচি থামেনি!
যেহেতু ইঙ্গিতে যা বোঝাতে চেয়েছেন সাহিবজাদা, সেই পহেলগাম জঙ্গি হামলা ও অপারেশন সিঁদুরের ক্ষত-বিতর্ক এখনও দগদগে, তাই সংবেদনশীল ইস্যুটি ঘা খাওয়ামাত্র জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই, ২২ এপ্রিল, জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় নিহত হন ২৬ জন ভারতীয় পর্যটক। সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। যার প্রতিশোধ নিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। বেশ কয়েকদিন সীমান্ত সংঘর্ষ জারি থাকে।
#INDvPAK #PAKvIND
This is how sahibzada farhan celebrated his half century, signifying his bat as Ak 47 and pointing it towards Indian Dug out.
Modi ji if this is not an act of war, what is ?
Stop this match and attack pakistan asap or else resign.
pic.twitter.com/9aHtttohMA— Jitesh (@Chaotic_mind99) September 21, 2025
গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে ফারহানের হঠাৎ করে বন্দুক চালানোর ভঙ্গি সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। সাধারণ দর্শক থেকে রাজনৈতিক মহল, একযোগে একে ‘সংবেদনশীলতার অভাব’ বলে দেগে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই চড়েছিল উত্তেজনা। টসের (Toss) সময় দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আঘার (Salman Ali Agha) সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। এর আগের গ্রুপ পর্বেও ভারতীয় শিবির হ্যান্ডশেক (Handshake) এড়িয়ে যায়। এমনকি পাকিস্তানকে চুরমার করে ছিনিয়ে নেওয়া জয়ও অধিনায়ক সূর্যকুমার উৎসর্গ করেছিলেন পহেলগামের শহিদ পরিবার ও সেনাদের।
খেলার বাইরেও ম্যাচ ঘিরে উত্তাল ছিল রাজনীতি। নিহতদের স্বজন এবং একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল আগেই পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের (Boycott) পক্ষে আওয়াজ তোলে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও বহুপাক্ষিক টুর্নামেন্টে (Multilateral Tournament) খেলা চলবে। কারণ ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০৩২ কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games) ও ২০৩৬ অলিম্পিক্স (Olympic Games) আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে। আর তাই দায়িত্বশীল অতিথির ভাবমূর্তি গড়ে তোলাটা জরুরি!
এই পরিস্থিতিতে ফারহানের উল্লাস আগুনে ঘি ঢেলেছে। মহারাষ্ট্রে বিরোধীরা আস্তিন গুটিয়ে নেমে পড়েছে। বিসিসিআই (BCCI) ও বিজেপিকে (BJP) নাগাড়ে তুলোধোনা চলছে। সুর চড়িয়ে শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা সঞ্জয় রাউত (Sanjay Raut) এক্সে (X) লিখেছেন—‘সাহিবজাদা ফারহান মাঠে প্রমাণ করে দিল পাকিস্তানি জঙ্গিরা পহেলগামে কীভাবে ২৬ নিরপরাধকে গুলি করে মেরেছিল—যেন কিছুই হয়নি। হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছে ব্যাটকে একে-৪৭ (AK-47)-এর মতো ধরে গুলি চালাল! এই লজ্জা আসলে বিসিসিআই আর মোদী সরকারের গালে থাপ্পড়। ভারতের অপমানের জন্য জয় শাহেরই তো ভারতরত্ন পাওয়া উচিত!’
বিতর্ক বাদ দিলে ব্যাট হাতে ফারহান পাকিস্তানকে ভাল শুরুয়াত উপহার দেন। তাঁকে ফিরিয়ে দেন শিবম দুবে (Shivam Dube)। আউট করেন সাইম আয়ুবকেও (Saim Ayub, ২১)। অন্যদিকে হার্দিক পান্ডিয়া (Hardik Pandya) তুলে নেন ফখর জামানের উইকেট (Fakhar Zaman)। যদিও সেই ক্যাচের বৈধতা নিয়ে আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান শিবির। পরে কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) আঘাত হেনে আউট করেন হুসেন তালাতকে (Hussain Talat)। সব মিলিয়ে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে দাঁড় করায় ১৭১ রান।
ফারহান একা নন। মাঠে বিতর্ক ছড়ান আরেক পাক ক্রিকেটার হ্যারিস রউফ। ভারতীয় দর্শকের ‘কোহলি, কোহলি’ (Kohli Chants) উল্লাসের জবাবে যিনি (Haris Rauf) যুদ্ধবিমান ওড়ানোর ভঙ্গি করেন। মনে করিয়ে দেন পাকিস্তানের দাবি—গত মে মাসে সীমান্ত উত্তেজনায় ছয়টি ভারতীয় বিমান টেনে নামানো হয়েছিল। সেই দাবি কতটা সত্যি, সেই নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পাকিস্তান টিম যে তাকে সত্যি বলেই মানছে, এই স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা মাঠে দাঁড়িয়ে নয়াদিল্লির দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন হ্যারিস।