এশিয়া কাপে সুপার ফোরে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ফাইনাল। পাকিস্তান আর ভারত তাদের বাকি ম্যাচ মসৃণভাবে জিতলে চূড়ান্ত যুদ্ধে দুই দলের ফের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা।

সূর্যকুমার যাদব
শেষ আপডেট: 22 September 2025 10:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার পরই সটান খোঁচা। এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) জানিয়ে দিলেন, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে আর কোনও ভাবেই ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ বলা উচিত নয়। কারণ সংখ্যাই বলে দিচ্ছে—দুই মুলুকের রেষারেষি ভারতের পক্ষে ১২-৩। ফলে টক্কর একপেশে। যেখানে অবধারিত, একচ্ছত্র দাপট কেবলমাত্র ভারতের।
রবিবার দুবাইয়ে পাকিস্তানকে চুরমার করার পর সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকুমারকে প্রশ্ন করা হয়, দুই দলের মানের ফারাক কি অনেকটা বেড়ে গিয়েছে? মুচকি হেসে সূর্যর জবাব, ‘স্যার, আমার অনুরোধ একটাই—এখন থেকে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলা বন্ধ করুন!’ সাংবাদিক যখন স্পষ্ট করলেন, তিনি লড়াই কিংবা রেষারেষি নয়, আসলে ‘মানে’র কথা বোঝাতে চান, তখন সূর্যের সাফ কথা: ‘স্যার, দুটোই এক জিনিস। প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানে কী? যদি ১৫ ম্যাচে ফল হয় ৮-৭, তাহলে সেটা লড়াই। এখানে তো ১৩-১ বা ১২-৩-এর মতো অবস্থা। কোনও টক্কর-ই নেই!’ কথা শেষ হওয়ামাত্র একগাল হেসে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান ভারত অধিনায়ক।
সূর্যকুমার যে ভুল বলেননি, গতকাল মাঠে নেমে তা বুঝিয়েও দিয়েছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া, কুলদীপ যাদবরা। ব্যাট হাতে নেমে অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) আর শুভমন গিল (Shubman Gill) শুরুতেই ঝড় তোলেন। মাত্র ৯.৫ ওভারে ১০৫ রানের দুরন্ত পার্টনারশিপ। সূর্যের কথায়, ‘আমরা ব্যাটিং-বোলিং—দুটোতেই ওদের চেয়ে ভালো খেলেছি!’ একই সঙ্গে তিনি খোলাখুলি প্রশংসা করেন অভিষেকের: ‘ও জানে ওর থেকে কী চাওয়া হচ্ছে, কোন বোলার কীভাবে বল করবে। এটাই ওর বড় সুবিধা। প্রতিটি ম্যাচে শিখে চলেছে!’
পরাজয় মেনে ভারতের দাপট স্বীকার করেছেন পাক অধিনায়ক সলমন আঘা (Salman Agha)। তাঁর দাবি, দল অন্তত ১৫–২০ রান কম করেছে। ‘১০ ওভারে ৯১/১। তারপর হঠাৎ ছন্দ হারালাম। তবু ১৭১ খারাপ স্কোর নয়। কিন্তু নিখুঁত ম্যাচ খেলতে পারিনি!’ বক্তব্যে হতাশা স্পষ্ট। পাশাপাশি সোজাসাপ্টা মন্তব্য—বোলাররা ভারতীয় ওপেনারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। তবু ফাইনালে ওঠার লড়াই এখনও থমকে যায়নি। লক্ষ্য এখন পরের ম্যাচ, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। যা জিততে না পারলে কার্যত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাবে পাকিস্তান।
এশিয়া কাপে সুপার ফোরে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ফাইনাল। পাকিস্তান আর ভারত তাদের বাকি ম্যাচ মসৃণভাবে জিতলে চূড়ান্ত যুদ্ধে দুই দলের ফের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু টিম ইন্ডিয়া অধিনায়কের আর্জি যদি মানা হয়, তাহলে ফাইনালের উত্তেজনার আঁচ বোঝাতে সম্ভবত কেউ ‘লড়াই’, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ জাতীয় শব্দ ব্যবধারের রাস্তায় হঁটবেন না!