প্রশ্ন উঠছে—সলমন আঘারা যদি সত্যিই ভারতকে হারায়, তাহলে কি বাইশ গজ থেকে সরাসরি কোনও ‘রাজনৈতিক বার্তা’ উড়ে আসবে? নাকি সবই ফাঁকা বুলি?

পাকিস্তান টিম
শেষ আপডেট: 21 September 2025 16:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) সুপার ফোরে ফের মুখোমুখি ভারত–পাকিস্তান (India vs Pakistan)। রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে (Dubai International Stadium) দ্বিতীয় দফার লড়াই। যদিও এর আগে পাক শিবিরে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে, টিম ইন্ডিয়াকে আজ হারাতে পারলে নাকি মাঠ থেকেই ‘রাজনৈতিক বার্তা’ ছুড়ে দেবেন সলমন আঘারা!
পটভূমি পুরনো। গ্রুপ ম্যাচে সাত উইকেটে হারের থেকেও বেশি স্পটলাইট কেড়েছিল করমর্দন না করার নাটক। টসের সময় কিংবা ম্যাচ শেষে—কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার পাকিস্তানের কারও সঙ্গে হাত মেলাননি। সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এপ্রিলের পাহেলগাম (Pahalgam) জঙ্গিহানায় নিহত ২৬ নিরপরাধের প্রতি সংহতি জানাতেই এই সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি নিয়ে ফুঁসে ওঠে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। জোর গলায় রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে (Andy Pycroft) সরানোর দাবি তোলে। এমনকী টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিও ছুড়ে দেয়। কিন্তু আইসিসি (ICC) কর্ণপাত করেনি। এখান থেকেই শুরু তুমুল বিতর্ক।
এবার সেই উত্তাপের মধ্যে ‘রহস্য বার্তা’-র আভাস। একটি সংবাদমাধ্যমের (RevSportz) রিপোর্টে দাবি, ভারত ম্যাচের আগের দিন দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (ICC Academy) পাক খেলোয়াড়দের অনুশীলনে আচমকা হাজির হন চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন কোচ মাইক হেসনের (Mike Hesson) সঙ্গে। আলোচনার সময় তাঁর হাতের ভঙ্গি, উত্তেজিত শরীরী ভাষা, এমনকি একসময় অধিনায়ক সলমন আঘাকে (Salman Agha) ডেকে পাঠানো—সবই নজর কেড়েছে।
জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। কারণ, ট্রেনিংয়ের ফাঁকেই কয়েক জন পাক ক্রিকেটারকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়—‘৬-০’! জানা যাচ্ছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় পাকিস্তানের প্রচারমাধ্যমের ছড়ানো দাবি—ছ’টি ভারতীয় বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল—এরই সাংকেতিক বার্তা ওই স্লোগান। পাকিস্তানের ওই দাবি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে অনেক আগেই। তবু মিথ্যে তথ্যকেই হাতিয়ার করে প্রচারের অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে আঘা বাহিনী।
এখানেই থেমে নেই নাটক। রিপোর্ট বলছে, নকভি নাকি কিছু আইসিসি কর্মকর্তার সঙ্গেও তলে তলে বৈঠক করেছেন। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বৃহস্পতিবারই পিসিবিকে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ জানায়—সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ম্যাচের আগে পাক বোর্ড অনেক বার ‘প্লেয়ারস অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়াল এরিয়া’-র (PMOA) প্রোটোকল ভেঙেছে। শোনা যাচ্ছে, খেলার আগে পিসিবি নাকি পাইক্রফটের রুমে প্রবেশ করে কথোপকথন রেকর্ডও করে! পরে দাবি তোলে, রেফারি ক্ষমা চেয়েছেন। যদিও আইসিসির বক্তব্য, ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার আলোচনায় ক্ষমা প্রার্থনা কোনও প্রতিপাদ্যই ছিল না!
এই অস্থিরতার মধ্যে দ্বিতীয়বার সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করেছে পাকিস্তান। আগেও ইউএই ম্যাচের আগে একই কাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা। একবার ‘হ্যান্ডশেকে’র অজুহাতে, এবার অনিশ্চিত নীরবতায়।
সব মিলিয়ে রবিবারের লড়াই ঘিরে ক্রিকেট মাঠের চেয়ে বেশি রহস্য জমাট বাঁধছে বাইরে। প্রশ্ন উঠছে—সলমন আঘারা যদি সত্যিই ভারতকে হারায়, তাহলে কি বাইশ গজ থেকে সরাসরি কোনও ‘রাজনৈতিক বার্তা’ উড়ে আসবে? নাকি সবই ফাঁকা বুলি? আজ এরই উত্তর দেবে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে রাত।