শেঠির মতো প্রাক্তন কর্তার চোখে, পাকিস্তান দলের ভিতরকার সমস্যা আরও গভীরে—সংস্কৃতি, পটভূমি, শিক্ষার অভাব। শুধুমাত্র মানসিক বিশেষজ্ঞ এনে সমাধান মিলবে না।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 21 September 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) গ্রুপ পর্বে হাত না মেলানো বিতর্ক, সাত উইকেটে লজ্জার হার—সব মিলিয়ে টিম ইন্ডিয়া এই মুহূর্তে পাকিস্তানের কাছে মূর্তিমান দুঃস্বপ্ন। রবিবার দুবাইয়ে আবার যুযুধান দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার আগে পাক শিবিরে নতুন সংযোজন—মোটিভেশনাল স্পিকার। নাম ডঃ রাহিল করিম (Dr. Raheel Karim)।
উদ্দেশ্য সৎ। খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা। কিন্তু এই পদক্ষেপ নিয়েই এবার কড়া মন্তব্য করলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজম শেঠি (Najam Sethi)। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা এসব মেনে নেবে না। সামা টিভিকে (Samaa TV) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের আমলেও চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এখানকার সংস্কৃতির জন্য খেলোয়াড়রা সাইকিয়াট্রিস্ট মেনে নেয় না। মানসিক থেরাপিকে দুর্বলতা বা পাগলামির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে!’
মানসিক স্বাস্থ্যকে পাকিস্তানে কতটা বিকৃতভাবে দেখা হয়, সে দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। শেঠির কথায়, ‘মানসিক স্বাস্থ্য আসলে বিস্তৃত পরিসর। দুর্ভাগ্যবশত এখানে সেটা সীমিত হয়ে যায়—তুমি পাগল না স্বাভাবিক? তার উপর সমস্যা হচ্ছে, যাঁরা আসছেন তাঁরা অধিকাংশ বিদেশে পড়াশোনা করা। ইংরেজিতে কথা বলেন। অথচ আমাদের ছেলেদের জন্য উর্দু বা পশতুতে বোঝানো দরকার!’ সামাজিক-শিক্ষাগত পটভূমিও মানসিক প্রশিক্ষণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে মত শেঠির। তাঁর কটাক্ষ, ‘সাইকিয়াট্রিস্ট রাতারাতি ওদের কিছু শেখাতে পারবে না!’
উল্লেখ্য, ডঃ রাহিল গত বুধবার থেকে পাকিস্তান দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকবেন বলে সূত্রের খবর। গত দশকে বিভিন্ন ক্রীড়া দল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ভারত ম্যাচের বাড়তি চাপ সামলাতে তিনি আদৌ সফল হবেন তো?
শেঠির মতো প্রাক্তন কর্তার চোখে, পাকিস্তান দলের ভিতরকার সমস্যা আরও গভীরে—সংস্কৃতি, পটভূমি, শিক্ষার অভাব। শুধুমাত্র মানসিক বিশেষজ্ঞ এনে সমাধান মিলবে না। ভারত ম্যাচের আগে যখন হিসেব বুঝে নিতে চাইছেন সলমন আঘারা, তখন ঘরের লোকের এমন মন্তব্য কমানোর বদলে নতুন করে চাপ বাড়াবে নিশ্চিত।