২৩ বছরের হর্ষিত এখন অনেকটা স্বস্তিতে। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যর্থতা, গম্ভীরের ধমক, তারপর বড় জবাব—এতকিছু সব এক সপ্তাহের মধ্যে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 26 October 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ আপন। কেউ পর। এই নিয়ে সমালোচনা, বিতর্ক—যা-ই থাকুক না কেন, কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) যে শত্রু-মিত্র কাউকে সহজে ছাড় দেন না, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল ফের একবার।
অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ানডে সিরিজ শেষ। যা খতম হওয়ার পর জানা গিয়েছে, সিডনিতে (Sydney) ম্যাচের আগে একান্ত ‘প্রিয়পাত্র’ হর্ষিত রানাকে (Harshit Rana) ডেকে নাকি রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ সরাসরি বলে দেন, ‘পারফর্ম কর, না হলে বাইরে বসাব!’ আর তার পরই হর্ষিত দেখান নিজের সেরা পারফরম্যান্স! তুলে নেন ৪ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া (Australia) অলআউট ২৩৬ রানে। ভারত (India) লড়াই জেতে ৯ উইকেটে।
ঘরে-বাইরে বিদ্ধ হর্ষিতের জন্য এই ম্যাচ ছিল বড়সড় পরীক্ষা। আগের দুই ম্যাচে উইকেট পেলেও দেদার রান বিলিয়েছেন। ১২ ওভারে ৮৬ রান! যে কারণে ফর্ম নিয়ে, দলে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জাতীয় টিমে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই সমালোচনায় ক্ষতবিক্ষত এই তরুণ পেসার। পাশাপাশি নির্বাচনের সূত্রে চাপ তৈরি হয় গম্ভীরের উপর। সমালোচকদের বড় অংশের বক্তব্য: প্রভাব খাটিয়ে একান্ত ‘প্রিয়’ বলে পরিচিত ও নিজের রাজ্যের এই ক্রিকেটারকে নাকি সব সময় সমর্থন জুগিয়েছেন গম্ভীর। যখন অভিমন্যু ঈশ্বরনের মতো খেলোয়াড়রা ধারাবাহিক ভাল খেলেও দলের বাইরে, মহম্মদ সামির ফিটনেস নিয়ে সমস্যা না থাকলেও নির্বাচকরা তাকেই কারণ হিসেবে দেগে দিয়ে বাংলার পেসারকে দলে নেন না, গম্ভীরও থাকেন নীরব, সেখানে হর্ষিতের প্রতি এতটা ‘উদারতা’ কি ‘নির্লজ্জ পক্ষপাত’ নয়?
এতকিছুর মধ্যে সিডনির আগে গম্ভীরের ধৈর্য ফুরোয়। কড়া ভাষায় বিতর্কিত অলরাউন্ডারকে বলে দেন—‘এখন না পারলে আর সুযোগ নয়!’ কথাটা যে জল্পনা নয়, পরে নিশ্চিত করেন হর্ষিতের শৈশবের কোচ শ্রবণ (Sharvan)। বলেন, ‘ম্যাচের আগেই ও আমাকে ফোন করেছিল। জানায়, গম্ভীর স্যার খুব রাগ করেছেন। আমি ওকে নিজের উপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিই। গম্ভীর কঠিন মানুষ। কিন্তু ঠিক জানেন কাকে কীভাবে ঠেলতে হয়। ওর কথাই হর্ষিতকে জাগিয়ে দিয়েছে।’
চাপে থাকা পেসার সুযোগ কাজে লাগালেন। নতুন বলে গতি ও বাউন্স ব্যবহার করে তুলে নিলেন চারটি উইকেট। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’। লড়াইয়ের পর হর্ষিত বলেননি কিছু। কিন্তু দলের ভেতরেই সবাই জানত, তিনি ম্যাচের আগে ঠিক কেমন অবস্থায় ছিলেন!
প্রসঙ্গত, তাঁকে ঘিরে সিরিজ শুরুর আগেই বিতর্ক। প্রাক্তন ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত (Kris Srikkanth) এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘গম্ভীরের প্রিয় বলেই দলে জায়গা পেয়েছে হর্ষিত!’ ছাত্রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেই মন্তব্যেরও জবাব দেন কোচ শ্রবণ। তাঁর কথায়, ‘অবসর নেওয়ার পর ইউটিউব চ্যানেলের জন্য কথা বলছেন অনেকে। একটা তরুণ খেলোয়াড়ের উপর এত চাপ দেওয়া ঠিক নয়। ওর হাতে এখনও সময় আছে।’
২৩ বছরের হর্ষিত এখন অনেকটা স্বস্তিতে। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যর্থতা, গম্ভীরের ধমক, তারপর বড় জবাব—এতকিছু সব এক সপ্তাহের মধ্যে। সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০ (T20) সিরিজ। সেখানে ফের দেখা যাবে তাঁকে। গম্ভীরের বার্তা কিন্তু বদলানোর সম্ভাবনা কম: ‘পারফর্ম কর, নয়তো বাইরে বসো।’