এত অস্পষ্টতার ভিড়েও একটা বিষয় পরিষ্কার: গম্ভীরের কোচিংয়ে, শুভমানের নেতৃত্বে এই তরুণ ভারতীয় দল মরার আগে মরবে না! চোখে চোখ দিয়ে শেষ শক্তি দিয়ে তারা লড়ে যেতে প্রস্তুত।

গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 5 August 2025 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লড়াইটা মাঠে লড়েছে টিম ইন্ডিয়ার প্রথম একাদশ। কিন্তু একই দিনে মাঠের বাইরে একটা অদৃশ্য যুদ্ধ কোচ গৌতম গম্ভীরের জন্য অপেক্ষা করেছিল! যে যুদ্ধের বাজির নাম ‘কুর্সি’। জিতলে বা ড্র ছিনিয়ে নিয়ে মসনদের অধিকার নিয়ে সওয়াল উঠবে না। কিন্তু দল পরাজিত হলে চেয়ার ছাড়তে হতে পারে!
খেলোয়াড় হিসেবে বারবার এমন জাঁতাকল দেখেছেন। কখনও ভাল খেলেও দলের বাইরে যেতে হয়েছে। বারবার নিজেকে প্রমাণ করে, কখনও ঘরোয়া ক্রিকেটে, কখনও কাউন্টিতে হাত পাকিয়ে জাতীয় দলে ফিরে এসেছেন গৌতম।
কিন্তু তখন সবকিছুই তাঁর হাতে ছিল। ভাল খেলো, রান তোলো, আসন ফিরে পাও। কিন্তু এবার তিনি সূত্রধরের ভূমিকায়। রণকৌশল বানানো, ট্রেনিং সেশন নেওয়া, খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করা, প্রথম একাদশ বাছা—এটুকুই তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ময়দানে নেমে তো আর খেলার সুযোগ নেই। দল খারাপ খেললে যেমন, ভাল খেলে ব্যর্থ হলেও তাঁকেই দায় নিতে হয়। আর ক্রিকেট, যা ব্যাকরণগতভাবে ‘অনিশ্চয়তার খেলা’ নামে পরিচিত, সেখানে মাঠে নামার আগে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলার পরেও কখনও কখনও খালি হাতে ফিরতে হয় এবং সেটা নিয়ে অভিযোগ করা যায় না!
গম্ভীরের আগে টিম ইন্ডিয়া হেড কোচ ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। পুরোপুরি সফল, তা বলা যাবে না। ওয়ান ডে বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তাঁরই জমানায়। বিদেশের মাটিতেও সব সময় সিরিজ জিতে ফেরেনি টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সম্ভবত, অবিতর্কিত চরিত্র হওয়ার কারণেই, রাহুলকে সেভাবে ব্যর্থতার মুহূর্তে তোপের মুখে পড়তে হয়নি।
গম্ভীর স্পষ্টবাক, কখনও কখনও অনৃতভাষী। ছকের বাইরে গিয়ে কথা বলেন। তাতে কেউ আহত হলে, কারও ভাবাবেগে আঘাত লাগলেও তাঁর খুব একটা কিছু এসে যায় না। আর সেই কারণেই তাঁকে নিয়ে অনুরাগী এবং বিশ্লেষকদের বড় অংশ দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি খুইয়ে আসাকে বড় করে দেখতে চান। তাঁরাই ইংল্যান্ড সিরিজকে ‘ডু অর ডাই’ হিসেবে দেগে দেন। ব্যাপারটা দাঁড়ায় এরকম, যে, ওভাল টেস্ট জিততে না পারলেই বুঝি দেশে ফিরে চাকরি যেত গম্ভীরের। পরপর তিনটি টেস্ট সিরিজে বিপর্যয়, সমালোচকদের চোখে লঘু বিষয় নয়!
আবার আরেক পক্ষ সময় দেওয়ার পক্ষপাতী। এমনিতেই বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার অবসরের পরে টেস্ট টিম একটা পর্বান্তরের (Transition) মধ্যে রয়েছে। দলে অভিজ্ঞতার অভাব। তরুণদের নিয়ে গড়া দল। আর তাঁদের থেকে সেরাটা বের করার জন্য দরকার গম্ভীরের মতো কোচ। যিনি অতীতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে একই ধাঁচে আনকোরা খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করেছেন। পেয়েছেন সাফল্য। আইপিএল জিতেছে কেকেআর!
এই মতৈক্যে কাদের পাল্লা ভারী, সেই নিয়ে জোর তরজা চলবে। কিন্তু ওভালের রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর একটা বিষয় পরিষ্কার: গম্ভীরের উপরই আগামী দিনে আস্থা রাখবে বোর্ড। যদি না অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় কোনও বিপর্যয় ঘটে। এই দল কি তৈরি? সমস্ত ধাঁধা, জটিল প্রশ্নের উত্তর মিলেছে? বিরাটের উত্তরসূরী কে? তিনি কি প্রস্তুত? শুভমান রোহিতের ফাঁকা আসনের যোগ্য দাবিদার? বুমরাহকে কাজে লাগানোর কৌশলের জবাব জেনে ফেলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট?
উপরের সমস্ত প্রশ্নের জবাব হয়তো ‘না’। কিন্তু এত অস্পষ্টতার ভিড়েও একটা বিষয় পরিষ্কার: গম্ভীরের কোচিংয়ে, শুভমানের নেতৃত্বে এই তরুণ ভারতীয় দল মরার আগে মরবে না! চোখে চোখ দিয়ে শেষ শক্তি দিয়ে তারা লড়ে যেতে প্রস্তুত। তাই পঞ্চম টেস্ট জিতে নিন্দুক, ছিদ্রান্বেষী, সমালোচকদের—সবাইকে আলাদা আলাদা দীর্ঘ বার্তা না দিয়ে কোচ গম্ভীর এক্স-হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া: ‘আমরা কিছু জিতব, কিছু হারব। কিন্তু কখনও আত্মসমর্পণ করব না! সাবাশ ছেলেরা!’
এই পিঠ চাপড়ানি শুধু শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল কিংবা কেএল রাহুলের নয়… গম্ভীরেরও সমানভাবে প্রাপ্য।