Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

‘বার্ধ্যকের বারাণসী’ ইউটিউব থেকে ‘যৌবনের উপবনে’ তির ছুড়ছেন অশ্বিনরা! রেগে কাঁই গম্ভীর

গম্ভীরের আপত্তি যতই গম্ভীর শোনাক, বাস্তবে পৃথিবী বদলে গেছে। আর সেই বদলের ভিতরেই জন্ম নিচ্ছে নতুন ক্রিকেট সংস্কৃতি। যেখানে ব্যাট আর বলের পাশাপাশি ইউটিউবের মাইক্রোফোনও এই মুহূর্তে খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

‘বার্ধ্যকের বারাণসী’ ইউটিউব থেকে ‘যৌবনের উপবনে’ তির ছুড়ছেন অশ্বিনরা! রেগে কাঁই গম্ভীর

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 15 October 2025 15:48

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় ক্রিকেটারদের বিশ্লেষণ শোনা যেত কমেন্ট্রি বক্সে, দেখা মিলত টিভির পর্দায়। এখন তাঁরা আকছার রিং লাইটের সামনে! হাতে মাইক্রোফোন, অনুরাগীদের চোখ পাতা ইউটিউবের স্ক্রিনে!

এই নতুন অভ্যাসের ভিতরে কি লুকিয়ে আছে বড় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন? গৌতম গম্ভীর কিন্তু তাই-ই বলছেন!

আসলে ভারতীয় ক্রিকেট টিমের হেডকোচের অভিযোগ হঠাৎ করে আসেনি। প্রাক্তন ওপেনার কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত সম্প্রতি তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘চিকি চিকা’-তে বেশ কিছু মন্তব্য করেন, যা শোনা মাত্রই গম্ভীরের রাগ যায় চড়ে। সরাসরি বলে বসেন, “এগুলো এখন আর বিশ্লেষণ নয়, মনগড়া বক্তব্যে ভরা প্ররোচনামূলক ভিডিও।”তাঁর কথার সুরে ক্ষোভ স্পষ্ট। মোদ্দা দাবি—যাঁরা একসময় দেশের হয়ে খেলেছেন, তারা এখন ‘ভিউ’ আর ‘সাবস্ক্রাইবারে’র পিছনে দৌড়চ্ছেন।

কিন্তু বাস্তব কী বলছে? সত্যিই কি মুনাফা লুটতে বিতর্ককে মূলধন করছেন প্রাক্তনীদের বড় অংশ?

একটু তলিয়ে দেখলে, আজকের দিনে একজন ক্রিকেটারের ইউটিউব চ্যানেল মানে শুধু রোজগার নয়, যোগাযোগের নতুন জানালাও বটে। মাঠের বাইরে থেকেও দর্শকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পথ। কেউ করেন বিশ্লেষণ, কেউ বলেন গল্প, কেউ ক্যামেরার সামনে নিজের ভুলভ্রান্তি নিয়েও আলোচনা সারেন। এই নতুন প্রজন্মের তালে তাল মিলিয়ে অবসৃত ক্রিকেটাররা, বলা যায়, একধরনের ‘ডিজিটাল ক্লাবহাউস’ গড়ে ফেলেছেন!

সবচেয়ে সফল উদাহরণ আকাশ চোপড়া। প্রাক্তন ওপেনার। পেশায় ধারাভাষ্যকার। পাশপাশি প্রভাবশালী ইউটিউবার। তাঁর চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার ৫০ লক্ষেরও বেশি। প্রতিদিন প্রায় দশ মিনিটের ভিডিও পোস্ট করেন। কখনও ম্যাচ-পর্যালোচনা, কখনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়ে ঠান্ডা মাথার বিশ্লেষণ। কণ্ঠে আক্রমণ নয়, অস্ত্র হয়ে ওঠে ‘যুক্তি’। আর সেই যুক্তির দৌলতেই তিনি অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ক্রিকেট-ভয়েস।

ঠিক এর উলটো প্রান্তে রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এই মুহূর্তে সক্রিয় ক্রিকেটার। কিন্তু তাঁর চ্যানেল ‘কুট্টি তামিলনাড়ু থেকে ত্রিনিদাদ পর্যন্ত চর্চিত। সাংবাদিক, ক্রিকেটার, এমনকি তরুণ ভক্তদের সঙ্গে কথোপকথন—অশ্বিনের ভিডিওর প্রাণ। আলাদা গুণ: তিনি নিজের অমিত ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্লেষণ করেন। উপরন্তু ইংরেজি, তামিল, হিন্দি—সব ভাষায় নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন। খেলার গভীরে ঢোকেন, যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা সাজান।

লিস্টের তিন নম্বরে হরভজন সিং। ৬ লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার। ছোট ছোট ক্লিপে ক্রিকেটের খবর ব্যাখ্যা করেন নিজের মতো করে। ভাষা সহজ, ভাব সরল। কিন্তু মেজাজ সেই চিরচেনা ‘ভাজ্জি’-সুলভ! একই রকম তীব্র, ঝাঁঝালো। একসময় মাঠে প্রতিপক্ষকে আটকাতেন। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকের মন বেঁধে রাখেন।

তুলনায় ছকভাঙা কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। তাঁর চ্যানেল ‘চিকি চিকা’ বরাবরই অন্যরকম। আদ্যন্ত খোলামেলা। কখনও তির্যক, কখনও একেবারে রগচটা মন্তব্য। ভিডিওর টোন অনেক সময় বিতর্ক ডেকে আনে। কিন্তু সেটাই বা অস্বাভাবিক কী? যে মানুষটা খেলোয়াড়জীবনে ছিলেন ঠোঁটকাটা, তিনি তো অবসরের পর, একই মেজাজে কথা বলবেন! হয়তো তাঁর বক্তব্যের ধরনে অতিরিক্ত লঘুতা বা কষাঘাত থাকে। কিন্তু ইউটিউবের মঞ্চটাই তো মূলত রিয়্যাকশনের খেলা! আর গম্ভীরের মতো লোক, যিনি অতিরিক্ত গাম্ভীর্য নিয়ে ক্রিকেটকে দেখতে চান, তাঁদের কাছে এমনধারা নিপাট মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ‘অস্বস্তিকর’ শোনাবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু আছে কি?

তালিকায় নতুন সংযোজন রবিন উথাপ্পা ও অজিঙ্কা রাহানে। উথাপ্পার চ্যানেল ছোট হলেও, বিশ্লেষণ ধারালো। মাঝেমধ্যে দেখা যায়, তিনি অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক জ্যারড কিম্বারের সঙ্গে বসে ক্রিকেট-ইতিহাস ও ট্যাকটিক্স নিয়ে লম্বা আলোচনা করছেন। রাহানে সম্প্রতি নিজস্ব চ্যানেল খুলেছেন। সক্রিয় ক্রিকেটার। কিন্তু ইতিমধ্যেই নিজের ভাবনাকে প্রকাশের নতুন মাধ্যম খুঁজে পেয়েছেন। এই পদক্ষেপ আসলে নতুন এক পালাবদলের ইঙ্গিত—একজন খেলোয়াড়ের ময়দানে ব্যাট হাতে নামা থেকে থেকে মাইক্রোফোন মুখে বিশ্লেষকের অভিযাত্রা!

প্রশ্ন হচ্ছে, এতে গম্ভীরের আপত্তি আসলে কোথায়? তিনি হয়তো বলতে চান, মাঠের গোপন কৌশল বা ড্রেসিংরুমের পর্দার পেছনের কথা প্রকাশ্যে আসুক, এটা কাম্য নয়। ক্রিকেটের একটা মায়া, একটা রহস্য হারিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু এই যুক্তিও এখন আধা-প্রচলিত। আধুনিক দর্শক আর অন্ধ অনুরাগী নয়। সে জানতে চায়, বুঝতে চায়, প্রশ্ন করতে চায়। তাই ইউটিউবের এই বিপ্লব আসলে দর্শকের হাতে এক অর্থে খেলার লাগাম তুলে দিচ্ছে। একটা সময়, ক্রিকেটারদের ভাবনা জানার একমাত্র উপায় ছিল টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের গল্প বলে। অশ্বিন যেমন ম্যাচ শেষে বোঝান, কোন উদ্দেশ্যে অমুক ব্যাটারকে কোনও নির্দিষ্ট বল করেছিলেন? কিংবা আকাশ চোপড়া বিশ্লেষণ করেন, কেন কোনও সিদ্ধান্ত সঠিক বা ভুল? এই কথালাপ তো শিক্ষা, বিনোদন আর মতবিনিময়ের একত্র মিশ্রণ! এই অতিরিক্ত স্পষ্টতা গম্ভীরের চোখে বিপজ্জনক। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বিশ্লেষণকে জনতা সমাদর করে। তাতে দলের খামতি সামনে আসার এবং তা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠার কোনও আশঙ্কা কি টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যারকে একটু হলেও বিচলিত করে তুলেছে?

গম্ভীর-পন্থীরা অবশ্য ভারসাম্যের প্রশ্ন সামনে টানবেন। কারণ, এই স্বাধীনতা যতটা সুন্দর, ততটাই বিপজ্জনক। যদি কেউ শুধু মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বক্তব্য দেন, তাহলে সেটা খেলার ভাবমূর্তি নষ্ট করে। এখানেই গম্ভীরের বক্তব্য খানিকটা ওজন পায়। বিশ্লেষণ মানে তথ্য ও যুক্তির ওপর দাঁড়ানো আলোচনা, গসিপ নয়। আর যাঁরা ক্রিকেটার ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে দর্শক সেটাই আশা করে।

কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেখলে, ক্রিকেটারদের ইউটিউব দুনিয়া এখন এক নীরব বিপ্লব। এখানে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা মিশছে নয়া প্রজন্মের ডিজিটাল ভাবনায়। এখানে আকার বড় নয়, চিন্তা বড়। মাঠ থেকে সরে গেলেও এই তারকারা এখন খেলছেন নতুন ময়দানে—দর্শকের মনে!

তাই গম্ভীরের আপত্তি যতই গম্ভীর শোনাক, বাস্তবে পৃথিবী বদলে গেছে। আর সেই বদলের ভিতরেই জন্ম নিচ্ছে নতুন ক্রিকেট সংস্কৃতি। যেখানে ব্যাট আর বলের পাশাপাশি ইউটিউবের মাইক্রোফোনও এই মুহূর্তে খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ।


```