সমালোচকদের সবাই যে বিস্মিত, এমনটা নয়। তাঁদের নজরে পুরস্কার এক হাতে, অন্য হাতে জরিমানার নোটিস—এমন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে বন্দি ফারহানের গল্পটা পাকিস্তানের ক্রিকেটের ধারাবাহিক অসঙ্গতির সঙ্গে খাপে খেয়ে যায়।

সাহিবজাদা ফারহান
শেষ আপডেট: 24 March 2026 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই সঙ্গে পুরস্কার আর তিরস্কার—অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়েছেন পাকিস্তানের (Pakistan) ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) দু-দুটো সেঞ্চুরি, ৩৮৩ রান—ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের নিরিখে রীতিমতো ঈর্ষণীয়। যাকে কুর্নিশ জানিয়ে আইসিসি (ICC) তাঁকে দিচ্ছে মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। অথচ সেই ফারহানকেই জরিমানা করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। কারণ বড় বিচিত্র। ইতিমধ্যে সমালোচিত। তবু পিসিবি পিছু হটতে নারাজ।
ফেব্রুয়ারির আইসিসি ‘মেনস প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ (ICC Men's Player of the Month) পুরস্কার পেয়েছেন ফারহান। পাকিস্তানের হয়ে সম্মানটি শেষবার উঠেছিল হারিস রউফের (Haris Rauf) হাতে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে। প্রায় পনেরো মাস পর আবার কোনও পাক ক্রিকেটারের ঝুলিতে এই স্বীকৃতি।
অযৌক্তিক কিছু নয়। বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স অসাধারণ। গ্রুপ পর্বে নামিবিয়ার (Namibia) বিপক্ষে কলম্বোয় ৫৮ বলে অপরাজিত শতরান। পাকিস্তানকে সুপার এইটে তুললেন। তারপর পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কাকে (Sri Lanka) গুঁড়িয়ে আরও একটি সেঞ্চুরি। ফখর জামানের (Fakhar Zaman) সঙ্গে ১৭৬ রানের জুটি—রেকর্ড! দল পৌঁছল ২১২ রানে।
টুর্নামেন্ট শেষে মোট রান ৩৮৩। বিরাট কোহলির (Virat Kohli) ২০১৪ সালের ৩১৯ হাঁকানোর নজিরও ভেঙে দিলেন। একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের নতুন মালিক তরুণ পাক ওপেনার।
দুই সেঞ্চুরি, তবু জরিমানা কেন?
এখানেই বিতর্ক। ফারহান ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড গড়েছেন, কিন্তু পাকিস্তান দলের বিশ্বকাপে ফল হতাশাজনক। সেই ব্যর্থতার দায়ে পিসিবি গোটা দলকে জরিমানা করেছে। বাদ যাননি ফারহানও।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া। দলগত ব্যর্থতা সত্ত্বেও যিনি একা লড়াই চালালেন, দুটো সেঞ্চুরি করলেন, তাঁকেও কেন একই সাজা? সওয়াল উঠছে। অবশ্য পিসিবি ভাঙতে নারাজ। তাদের যুক্তি—দলীয় দায়বদ্ধতা সবার সমান। তাই জরিমানার শাস্তি। যদিও তাতে ডাল গলেনি। অনেকে এখনও মনে করছেন, ফারহানকে এই জরিমানা থেকে রেহাই দেওয়া উচিত ছিল। পাক ক্রিকেটার নিজে অবশ্য বিতর্কে না জড়িয়ে সামনে তাকিয়ে। বললেন, ‘বিশ্বমঞ্চে এই পুরস্কার পাওয়া অবিশ্বাস্য অনুভূতি। এই ছন্দ ধরে রাখতে চাই!’ পাশাপাশি সতীর্থদের ধন্যবাদ দিতেও ভোলেননি।
সমালোচকদের সবাই যে বিস্মিত, এমনটা নয়। তাঁদের নজরে পুরস্কার এক হাতে, অন্য হাতে জরিমানার নোটিস—এমন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে বন্দি ফারহানের গল্পটা পাকিস্তানের ক্রিকেটের ধারাবাহিক অসঙ্গতির সঙ্গে খাপে খেয়ে যায়।