আদরের যন্ত্র কিংবা হাতিয়ার—তা রুজিরুটির হোক চায় স্বপ্নপূরণের—কেউই অবহেলা করতে পারে না। বিমল তার জগদ্দলকে আগলে রেখেছিল পরম মমতায়, রাহুলও সেই মমত্বের ডোর কেটে বেরতে পারলেন না!

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 23 June 2025 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অযান্ত্রিক’ গল্পে বিমল তার আদরের ট্যাক্সি জগদ্দল বৃষ্টিতে ভিজছে দেখে শোয়ার ঘর থেকে টেনে আনে বর্ষাতি, বিছানার কম্বল আর শতরঞ্জি চাদর। তারপর সবকিছু বিছিয়ে গাড়িটার সর্বাঙ্গ ঢেকে নিজেও ঢুকে পড়ে ভেতরে; নতুন নরম গদিটার ওপর গুটিসুটি হয়ে বিমল শুয়ে পড়ে; আরামে তার দু’চোখে যেন ঘুমের ঢল নেমে আসে!
সুবোধ ঘোষ তাঁর কালজয়ী গল্পে তুলে ধরেন বিমলের কথা। ছাপোষা ট্যাক্সিড্রাইভার বিমল। তার সাধের গাড়ি ‘জগদ্দল’। যার আয়ু ফুরলেও বিমল মায়া ছাড়তে পারেনি। বৃষ্টি পড়ছে দেখে নিজের বিছানাপত্র টেনে এনে গাড়িটিকে রক্ষা করে। একফোঁটা জল যেন তার গায়ে না পড়ে! ঋত্বিক ঘটকের নির্দেশনায়, ক্যামেরার জাদুতে এই দৃশ্য আরও বাঙ্ময় হয়েছে!
গতকাল হেডিংলেতে ছিল বৃষ্টিঘন সকাল। আকাশের মুখ গোমড়া। থেকে থেকে বর্ষণ। যার জেরে ম্যাচ বন্ধ থাকে। ফের চালু হয়। ভারত যখন ব্যাট করছে, তখন আচমকা বৃষ্টি নামে। ক্রিজে তখন কেএল রাহুল, অন্যদিকে শুভমান গিল। রাহুল দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন আগ্রাসী মেজাজে। ৭৫ বলে ৪৭ রান তুলে যখন হাফ-সেঞ্চুরির পথে, তখন বাদ সাধে বৃষ্টি।
আম্পায়াররা বাধ্য হয়ে সেদিনের মতো মুলতবি টানেন। বাকি খেলোয়াড়ের মতো ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন রাহুলও। মাথা হেলমেটে ঢাকা। তাই ভেজেনি। কিন্তু হাতের ব্যাট? অত সাধের ব্যাট? তার কি হবে?
বাধ্য হয়ে উপায় না দেখে রাহুল জার্সির ভেতর ঢুকিয়ে ফেলেন। তারপর দ্রুত পায়ে হন হন করে সাজঘরে ঢুকে যান।

খেলা শেষে স্বাভাবিকভাবে সবার নজরে রাহুল! কেন তিনি জার্সির মধ্যে ব্যাট পুরলেন—এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চা। একদল টেনে এনেছে যুক্তির কথা। আন্তর্জাতিক ময়দানে যে ব্যাটে ক্রিকেটাররা খেলে থাকেন, তা একাধারে দামি এবং বেশ যত্নও দাবি করে। কয়েক ফোঁটা জলও এর গুণমান বদলে দিতে পারে। বৃষ্টিতে খানিকক্ষণ ভিজলে ধরে পচন। ফলে যত্নবান হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দ্বিতীয় আরেক পক্ষ তুলে এনেছে আবেগ। খেলোয়াড়েরা নিজেদের তূণীরের তীর নিয়ে বেশ স্পর্শকাতর। রোনাল্ডো, মেসিদের আসল অস্ত্র বুট। তার সঙ্গে কোনওরকম আপোসে নারাজ। একইরকমভাবে ক্রিকেটাররা ব্যাট নিয়ে এক শতাংশও ঝুঁকি নিতে চান না। তাই জার্সিতে ঢেকে পরম আদরে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন রাহুল। লক্ষ্য করার মতো আরও একটি বিষয় হচ্ছে, ব্যাটটি ঘুরিয়ে পেছনের অংশ সামনে রেখেছেন টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার। যাতে জলকণা যদি ঢুকেও যায়, তা যেন ব্যাটের সামনের অংশ স্পর্শ না করে!
আদরের যন্ত্র কিংবা হাতিয়ার—তা রুজিরুটির হোক চায় স্বপ্নপূরণের—কেউই অবহেলা করতে পারে না। বিমল তার জগদ্দলকে আগলে রেখেছিল পরম মমতায়, রাহুলও সেই মমত্বের ডোর কেটে বেরতে পারলেন না!