গত দু’দিন ধরে হেডিলংলের ময়দানে হতাশাচ্ছন্ন জসপ্রীত বুমরাহর বিভিন্ন মূর্তি দেখা দিল সতীর্থদের ‘কেরামতি’তে। কেউ স্লিপে, কেউ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে দফায় দফায় ক্যাচ ফস্কালেন।

জসপ্রীত বুমরাহ
শেষ আপডেট: 23 June 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও ব্যাগি ব্লু টুপিটা মাথা থেকে মুখ ঢাকলেন। হতাশায়।
কখনও কাঁধ ঝুঁকিয়ে নতমস্তক হলেন। এটাও হতাশায়।
না, নিজের কোনও ডেলিভারি ভুল ‘পিচ’ হয়েছে, ব্যাটসম্যান তার ফায়দা তুলে চার-ছক্কা মেরেছে বলে নয়, গত দু’দিন ধরে হেডিলংলের ময়দানে হতাশাচ্ছন্ন জসপ্রীত বুমরাহর বিভিন্ন মূর্তি দেখা দিল সতীর্থদের ‘কেরামতি’তে। কেউ স্লিপে, কেউ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে দফায় দফায় ক্যাচ ফস্কালেন।
তার উপর বোলিং! গতকাল তবু প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, মহম্মদ সিরাজরা কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছিলেন। দেদার রান বিলোলেও খানকতক উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। কিন্তু গত পরশুর ছবিটা ছিল ভয়ানক ধূসর। একা বুমরাহ ছাড়া আর কেউ ইংরেজদের ব্যাটিং লাইন আপে দাঁত ফোটাতে পারেননি।
দিনের শেষে ২৪ ওভার ৪ বলে ৮৩ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলে, একাধিক রেকর্ড ভেঙে, নজির গড়ে পালিশ চটে যাওয়া ডিউক বল ঘুরিয়ে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করতে করতে বুমরাহ মাঠ ছাড়লেন ঠিকই। কিন্তু অকথিত থেকে গেল বোলিং বিভাগে বাকিদের নির্বিষ পারফরম্যান্স, ফিল্ডারদের হতশ্রী অবস্থা। যশস্বী জয়সওয়াল, শুভমান গিলরা মিলে প্রায় হাফ ডজন ক্যাচ ছাড়লেন। শচীন তেন্ডুলকরও তাই রাখঢাক না করেই জানিয়ে দিলেন, এতগুলো সহজ সুযোগ হাতছাড়া না হলে জসপ্রীত হয়তো নয় উইকেট নিয়ে ইনিংস খতম করতেন!
যদিও বাকিদের মতো সতীর্থদের ঘাড়ে দোষ চাপাননি বুমরাহ। উলটে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যতই গতপরশু সবার আগে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান না কেন, গম্ভীরের সঙ্গে উত্তেজিত আলোচনা চালান না কেন, সাংবাদিকদের সামনে ভিন্ন সুরে, ভিন্ন মেজাজে দেখা দিলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসার। বললেন, ‘এটা অবশ্যই সাময়িক হতাশার। কিন্তু এর জন্য বসে থাকা বা কান্নকাটি করার কোনও মানে হয় না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বেশি ভাবা ঠিক নয়। এড়িয়ে যাওয়া উচিত।’
রোহিত-বিরাট-অশ্বিনের অবর্তমানে তরুণ এই ভারতীয় দল যে অনভিজ্ঞ, সে কথা মনে করিয়ে বুমরাহ জুড়ে দেন, ‘অনেক খেলোয়াড়ই এত বড় মঞ্চে এই প্রথম খেলতে নেমেছে। তা ছাড়া এরকম পরিবেশে বল ধরাটাও কখনও কখনও সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ইচ্ছে করে ক্যাচ ছাড়ে না। সবাই আরও উন্নতি করবে। আমি বাজেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কিংবা রাগ প্রকাশ করে অহেতুক চাপ বাড়াতে চাই না।’