রিপোর্ট বলছে: প্রথম দিনে না পারলেও ইংল্যান্ড কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতের বোলারদের হয়ে কার্যত একা লড়লেন বুমরাহ।

সুনীল গাভাসকার
শেষ আপডেট: 22 June 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেডিংলে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে টিম ইন্ডিয়ার খেলোয়াড়রা যা ফিল্ডিং উপহার দিলেন, ফেলে চললেন ক্যাচের পর ক্যাচ, তাতে টি দিলীপ কি টেস্টের পর মেডেল উপহার দেবেন?
হতাশা গোপন করে বিদ্রূপের সুরেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সুনীল গাভাসকার। প্রথা মেনে ফিল্ডিং কোচ দিলীপ কোনও ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেরা ফিল্ডারদের গলায় মেডেল পরান। কিন্তু গতকাল ইংল্যান্ডকে বাগে পেয়েও যেভাবে হতশ্রী ফিল্ডিং উপহার দিলেন যশস্বী জয়সওয়ালরা, তাতে শুধু দিনের লড়াইয়েই নয়, গোটা ম্যাচ থেকেও ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে ভারত।
কিস্যা শুরু করেন যশস্বী জয়সওয়াল। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। দলের বড় রানের ভিতও গড়ে দিয়েছেন। কিন্তু স্লিপে দাঁড়িয়ে নড়বড়ে পারফরম্যান্স তরুণ ক্রিকেটারের। ম্যাচের পঞ্চম ওভারে বল হাতে বুমরাহ। উলটো দিকে বেন ডাকেটের ব্যাটে খোঁচা লেগে বল যায় স্লিপে। যশস্বী নাগালে পেয়েও মিস করেন।
সাত নম্বর ওভারে আবার মিস। আবার ভাগ্যবান ডাকেট। বোলার সেই বুমরাহ। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো রবীন্দ্র জাদেজা ক্যাচ ছাড়েন। এরপর জীবন ফিরে পান অলি পোপ। বুমরাহর বলে থার্ড স্লিপে ক্যাচ তোলেন ইংরেজ ব্যাটার। ফস্কান যশস্বী। এই অলি পোপই দিনের শেষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত!
এতকিছু দেখার পর রাগ ও হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি সুনীল গাভাসকার। বলেন, “আমার মনে হয় না, টি দিলীপ এরপর আর কাউকে কোনও মেডেল দেবেন বলে! এই ফিল্ডিং পারফরম্যান্স খুবই খুবই হতাশার। যশস্বী এমনিতে ভাল ফিল্ডার। কিন্তু এই মুহূর্তে ও কিছু ধরতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।”
সবমিলিয়ে লড়াই থেকে ধীরে ধীরে পিছু হটছে টিম ইন্ডিয়া। অথচ দিনের শুরুতে ছবিটা এত মলিন ছিল না। দলের তিন জন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেন। এক সময় মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৩০ রানে পৌঁছে যায় ভারতীয় দল। কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স দেখান ঋষভ পন্থ। করেন ১৪৭ রান। অধিনায়ক শুভমান গিলও নায়কের মেজাজে ছিলেন। ১৩৪ রানে আউট হন। কিন্তু এই দুই ব্যাটসম্যান ড্রেসিং রুমে ফিরতেই চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। মাত্র ৪১ রান জুড়ে ৭ উইকেট খুইয়ে ফেলে দল।
ইনিংস ব্রেকের পর বৃষ্টি নামে। যার জেরে দেরিতে শুরু হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস। গোড়ায় যশপ্রীত বুমরাহ বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন ঠিকই। কিন্ত শান্ত মাথায় দ্বিতীয় উইকেটে ১২২ রানের জুটি গড়েন ওলি পোপ ও বেন ডাকেট। ডাকেট ৬২ রানে আউট হলেও, পোপ কেরিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান। তিনি শেষ সেশনের শুরুতেই ৬৪ বলে লেট কাটে হাফ সেঞ্চুরি করেন। তবে এরপর পালটা আঘাত হানে ভারত। বুমরাহর বল স্টাম্পে টেনে ডাকেট ফেরেন সাজঘরে। ৬০ রানের মাথায় পোপ আবার ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো যশস্বী জয়সওয়াল ধরতে পারেননি, সহজ সুযোগ ফের হাতছাড়া!
অন্তিম সেশনে কিছুটা হলেও ছন্দ ফিরে পান মহম্মদ সিরাজ। তখন তিনি লেন্থ বুঝে বল করছেন। ফাঁদে ফেলেন জো রুটকে। আম্পায়ার এলবিডব্লু ঘোষণা করলেও রিভিউ রুটের পক্ষে যায়। প্রাণ ফিরে পান। অন্যদিকে, পোপ আত্মবিশ্বাসের জোরে বাজবলের ফর্মুলা মেনে প্রতি আক্রমণ শুরু করেন। জাদেজা, প্রসিদ্ধ ও শার্দুলকে বিশেষভাবে টার্গেট করেন। মারতে থাকেন করে টানা বাউন্ডারি। যার ফল: ১২৫ বলে দুর্দান্ত শতরান।
যদিও পোপের সেঞ্চুরির ঠিক পরেই রুটকে আউট করে ফের একবার ইংল্যান্ডকে ধাক্কা দেন বুমরাহ—এই নিয়ে দশবার টেস্ট ক্রিকেটে রুটকে আউট করলেন তিনি। দুপুরের ঠিক আগে হ্যারি ব্রুককে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়েছিলেন, কিন্তু ওভারস্টেপের কারণে আউট বাতিল হয়ে যায়—ওভারে সেটা ছিল বুমরাহর তিন নম্বর নো বল!
দিনশেষে ঘরের ছেলে ব্রুক ও সেঞ্চুরি হাঁকানো পোপ মাঠ ছাড়েন। রিপোর্ট বলছে: প্রথম দিনে না পারলেও ইংল্যান্ড কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতের বোলারদের হয়ে কার্যত একা লড়লেন বুমরাহ। আজ টেস্টের তৃতীয় দিন। প্রসিধ কৃষ্ণ, মহম্মদ সিরাজরা সাহায্য না করলে ভারত লড়াই থেকে পুরোপুরি ছিটকে যেতে পারে।