অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই পরাজয়ের সাক্ষী রইলেন শুভমান গিল। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির জোড়া অবসরের পর সবার নজর ছিল নবাগত দলনেতার দিকে। সেই অগ্নিপরীক্ষায় সাফল্য আসেনি।

শুভমান গিল ও গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 25 June 2025 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাই ধৈর্যং রহু ধৈর্যং। ধৈর্য ধরো অপেক্ষা করো।
অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই পরাজয়ের সাক্ষী রইলেন শুভমান গিল। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির জোড়া অবসরের পর সবার নজর ছিল নবাগত দলনেতার দিকে। সেই অগ্নিপরীক্ষায় সাফল্য আসেনি। সবচেয়ে বড় কথা, জয়ের নাগালে এসেও একাধিক ব্যর্থতা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। যার সমস্তটা শুভমানের একার দোষ না হলেও, অধিনায়ক হিসেবে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে বোলার পরিবর্তন—গিলের অপরাগতা ও অনভিজ্ঞতার জেরেই কি ভারত প্রথম টেস্ট হারল?—উঠছে প্রশ্ন।
যদিও তাতে খুব একটা আমল দিতে রাজি নন কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর দাবি, নতুন অধিনায়ককে আরও সময় দেওয়া হোক। প্রথম টেস্টে ব্যর্থতাকে বাড়িয়ে-চড়িয়ে দেখা বন্ধ হোক। সুদিন আসবে। সেই ক্ষমতা শুভমানের রয়েছে।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ‘দেখুন, প্রথম টেস্ট ম্যাচে একটা অস্থিরতা থাকবেই। কিন্তু শুভমান নিজেও যেমনটা একাধিকবার বলেছে, টেস্টে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ওর কাছে সম্মানের। এই সুযোগ সবার আসে না। আর সত্যি বলতে শুভমান অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছে।’
শুধু দল পরিচালনাই নয়, ব্যাট হাতেও যে একইভাবে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সে কথা মনে করিয়ে গম্ভীরের বক্তব্য, ‘সমস্ত চাপ দূরে সরিয়ে প্রথম ইনিংসে যেভাবে ব্যাট করেছে শুভমান, হাঁকিয়েছে শতরান, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তাই সফল অধিনায়ক হওয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমাদের উচিত ওকে সেই সবকিছু ওর হাতে তুলে দেওয়া। এটা সবে শুরু। আর অধিনায়ক হিসেবে শুভমানের প্রথম টেস্ট। আমি জানি ও আরও উন্নতি করবে।’
ইংল্যান্ড যে দলনেতা শুভমানের কঠিন ঠাঁই, সে কথা মেনে নিয়েছেন গম্ভীর। সমালোচকদের সমালোচনা ‘কাউকে হুট করে গভীর সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার সামিল’ হলেও পাক্কা পেশাদারের মতো সমস্ত বাধা ছিন্ন করে বেরিয়ে আসবেন শুভমান। এমনটাই মনে করছেন টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ।
প্রসঙ্গত, প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে শুভমান গিল রান পাননি। ১৬ বলে ৮ রানে আউট হন। রুখে দাঁড়ান কেএল রাহুল ও ঋষভ পন্থ। প্রথম ইনিংসের অ্যাডভান্টেজের সুবাদে মোট ৩৭১ রানের টার্গেট দাঁড় করায় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঝলসে ওঠে বেন ডাকেট (১৪৯)। যোগ্য সঙ্গত দেন জো রুট (৫৩)। যার সুবাদে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড।