মার্ক বুচার সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, বেন স্টোকসের দল যদি জিততে চায়, তাহলে তাদের গিলের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

শুভমান গিল ও মার্ক বুচার
শেষ আপডেট: 8 July 2025 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার তথা কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা কথা ময়দানে অমর হয়ে রয়েছে। তিনি ফুটবলারদের উজ্জীবীত করার জন্য বলতেন, “হারলে পাঁচু আর জিতলে পঞ্চানন।” পিকের এই অমর উক্তি অবশ্য গোটা ক্রিড়া-বিশ্বেই প্রযোজ্য। না হলে কয়েকদিন আগেও বেন স্টোকসদের নিয়ে যে মাতামাতি হচ্ছিল, দ্বিতীয় টেস্টে এজবাস্টনে হারতেই সব উধাও।
ভারত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ (England vs India Test Series) শুরু করেছিল লিডসে হার দিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে টিম ইন্ডিয়া (Team India) ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ৩৩৬ রানের বড় ব্যবধানে। এরপর থেকেই প্রাক্তন ইংলিশ ক্রিকেটাররা স্টোকস-রুটদের মুণ্ডুপাত শুরু করে দিয়েছেন।
সে দেশের প্রাক্তনরা মনে করছেন, লিডসে প্রথম টেস্টে জয়ের পর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল ইংল্যান্ড। আর তারই মূল্য চোকাতে হয়েছে দ্বিতীয় টেস্টে। তাঁদের মতে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ভারতীয় ব্যাটার ও বোলারদের অবমূল্যায়ন করে চরম ভুল করেছেন। বিশেষ করে শুভমান গিলের (Shubman Gill) কাছে ইংল্যান্ড দলের কোনও উত্তর ছিল না।
১০ জুলাই লর্ডসে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট। তার আগে, ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার মার্ক বুচার সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, বেন স্টোকসের দল যদি জিততে চায়, তাহলে তাদের গিলের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। গিলের টেকনিক্যালি শক্তিশালী খেলা এবং শান্ত স্বভাব বুচারকে রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। প্রাক্তন এই ইংলিশ ওপেনারের বিশ্বাস, বর্তমান ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক সহজেই বিরাট কোহলির চার নম্বর অবস্থান দখল করে নিয়েছেন।
ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে চলমান টেস্ট সিরিজে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় রয়েছেন বুচার। তবে তিনি অবশ্য শুধু গিলেই মুগ্ধ নন, তাঁর প্রশংসা পেয়েছেন কেএল রাহুল এবং যশস্বী জয়সওয়ালও। চলতি সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে গিল, রাহুল ও যশস্বী, তিনজন ব্যাটারই সেঞ্চুরি করেছেন। গিলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনটি সেঞ্চুরি রয়েছে এবং মাত্র দু’টি টেস্ট ম্যাচে তিনি তাঁর ব্যাটিং গড় প্রায় ৩৫ থেকে ৪২-এ উন্নীত করেছেন। বুচার বলেছেন, অধিনায়ক হিসাবে গিল তাঁর প্রথম সিরিজে যা করেছেন, তা খুবই বিশেষ।
বুচার বলেন, “এমন কোনও খেলা বা দল নেই যার অধিনায়কদের ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কের মতো চাপের মুখোমুখি হতে হয়। ভারতীয় অধিনায়করা সবসময় পর্যালোচনার মধ্যে থাকেন।গিল কোহলির জায়গা পূরণ করছেন, নাকি তেন্ডুলকরের জায়গা পূরণ করছেন তা বলার দরকার নেই।”
১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের হয়ে ৭১টি টেস্ট ম্যাচ খেলা ৫২ বছর বয়সি বুচার বলেন, “অধিনায়কত্ব এবং চার নম্বরে ব্যাটিং উভয় ক্ষেত্রেই অনেক চাপ থাকে। এবং এখন পর্যন্ত গিল খুব সহজেই এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ওকে খুব স্বাচ্ছন্দ্য এবং ধৈর্যশীল দেখাচ্ছে।”
সিরিজের আগে গিলের মনোভাব এবং কৌশল নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিল, কিন্তু ২৫ বছর বয়সি এই খেলোয়াড় চার ইনিংসে ৫৮৫ রান করে অদূর ভবিষ্যতের জন্য এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। বুচার বলেন, “গিল টেকনিক্যালি খুবই স্ট্রং। সিরিজটি দুর্দান্তভাবে শুরু করেছে। হয়তো এই সিরিজের শেষে তার কিছু রেকর্ড থাকবে। ইতিমধ্যেই অনেক রান করেছে। ইতিমধ্যেই সিরিজে প্রায় ৬০০ রান করে ফেলেছে। এটি একটি অবিশ্বাস্য শুরু ছিল।”
বুচার বলেন, “ইংল্যান্ডকে মিডল অর্ডারে তার গিলের জন্য একটা সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। কারণ প্রথম তিন বা চারজন ব্যাটার আউট হয়ে গেলে ভারতের লোয়ার অর্ডারকে গুটিয়ে ফেলা একটু সহজ হয়ে যায়।”
বুচার রাহুলের প্রতি খুবই মুগ্ধ। রোহিত শর্মার অবসরের পর জয়সওয়াল এবং রাহুলের ওপেনিং জুটি চলতি সিরিজে যে সফল, এটা বলাই যায়। বুচার বলেন, “আমি রাহুলকে আগেও দেখেছি, ২০২১ সালের ইংল্যান্ড সিরিজে ও রোহিতের সঙ্গে টপ অর্ডারে ব্যাট করেছিল। আমি মনে করি, টেকনিক্যালি রাহুল টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই উপযুক্ত। বাস্তবতা হল, সে এখন একজন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটসম্যান। আশা করি ওপেনিংয়ে তার গড় খুব শীঘ্রই ৪০-এর উপরে চলে যাবে, কারণ টেকনিক্যালি সে অসাধারণ। আমি রাহুলের ব্যাটিং দেখতে ভালবাসি। আর যশস্বী এক প্রজন্মের প্রতিভা। ভারতের জন্য তিন নম্বরে থাকাটা একটু কঠিন। প্রথম টেস্টের পর সাই সুদর্শনের জন্য নিজেকে খুঁজে বের করা একটু কঠিন ছিল। আর এখন সিরিজে করুণ নায়ার তিন-চারবার ব্যর্থ হয়েছেন।”