এই মুহূর্তে নতুন স্পনসর খোঁজার জন্য বিসিসিআইয়ের হাতে সময় খুব কম। বোর্ড সূত্রে খবর, খুব শিগগিরই নতুন বিড ডাকা হবে। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন স্পনসর চূড়ান্ত করা, চুক্তি সই এবং জার্সি বানানো—সব মিলিয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ!

রোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 24 August 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকস্মিকভাবে শেষ তিন বছরের স্পনসরশিপ চুক্তি। আর সেই কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি থেকে মুছে যেতে চলেছে ড্রিম ইলেভেন লোগো (Dream11)। এশিয়া কাপের ঠিক আগে এই ব্যাপক পালাবদল বিসিসিআইয়ের মাথাব্যথা বাড়িয়ে তুলেছে। কারণ শুধু নতুন স্পনসর খোঁজা নয়, তৈরি হয়ে যাওয়া জার্সিগুলিও বোর্ডকে সময়ের মধ্যে বদলাতে হবে।
অতিসম্প্রতি সংসদে পাস হয়েছে ‘প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’ (‘Promotion and Regulation of Online Gaming Bill, 2025’)। যেখানে গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ক্রীড়ামন্ত্রক। এই সেক্টরই ড্রিম ইলেভেনের মূল ব্যবসা। বিলটি লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই অনুমোদন পেয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার পর বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার স্পষ্ট জবাব, ‘যা অনুমোদিত নয়, সেটা আমরা করব না। কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত নীতি বিসিসিআই সম্পূর্ণভাবে মেনে চলবে।’
দু’বছর আগে, ২০২৩ সালে ‘বাইজু’স’-কে (Byju’s) সরিয়ে ভারতীয় দলের প্রধান স্পনসর হয়েছিল ড্রিম ইলেভেন। তিন বছরের জন্য প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকার চুক্তি। শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি হোম ম্যাচে বিসিসিআই পেত প্রায় ৩ কোটি আর বিদেশের ম্যাচে ১ কোটি টাকা। প্রথমবার ড্রিম ইলেভেন লোগো দেখা যায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে। সেই সম্পর্কের ইতি ঘটল আচমকা, অপ্রত্যাশিত কায়দায় এবং সময়ের অনেকটা আগে।
‘ড্রিম ইলেভেনে’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হর্ষ জৈন ও ভাবিত শেঠ। ২০২৪ অর্থবর্ষে (FY24) তাদের আয় ছিল প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। মূল ব্যবসা রিয়েল-মানি গেমিং বন্ধ হওয়ায় সংস্থাটি এখন বড়সড় ধাক্কার মুখে। আর এই কারণেই তারা সরে যাওয়ায় এশিয়া কাপের মঞ্চে লিড স্পনসর ছাড়াই খেলতে নামছে ভারতীয় দল—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না!
টুর্নামেন্ট শুরু ৯ সেপ্টেম্বর। চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ম্যাচ হবে দুবাই ও আবুধাবিতে। ভারত রয়েছে গ্রুপ এ-তে, সঙ্গে পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ওমান। প্রথম ম্যাচ ১০ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ আমিরশাহি।
এই মুহূর্তে নতুন স্পনসর খোঁজার জন্য বিসিসিআইয়ের হাতে সময় খুব কম। বোর্ড সূত্রে খবর, খুব শিগগিরই নতুন বিড ডাকা হবে। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন স্পনসর চূড়ান্ত করা, চুক্তি সই এবং জার্সি বানানো—সব মিলিয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ! ফলে, ফাঁকা জার্সি পরে টিম ইন্ডিয়ার মাঠে নামা—যা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক—এই দৃশ্য এ বার দেখা যেতে পারে!
যদিও বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের বক্তব্য: ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসরশিপ দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন চুক্তিগুলির একটি। ফলে, আগ্রহের অভাব হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য বিড তিনটি বড় সেক্টর থেকে আসতে পারে—
১. ফিনটেক সংস্থা: জেরোধা (Zerodha), অ্যাঞ্জেল ওয়ান (Angel One), গ্রো (Groww)-এর মতো ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে নতুন গ্রাহক টানার জন্য ‘আগ্রাসী মার্কেটিং’ শুরু করছে। জার্সিতে নাম লেখা মানে কোটি কোটি চোখের সামনে ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো।
২. অটোমোবাইল ও এফএমসিজি সেক্টর: অতীতে এই খাতের সংস্থাগুলিকে একাধিকবার এ ধরনের মঞ্চে দেখা গিয়েছে। টাটা গ্রুপ তো এখনই আইপিএলের প্রধান স্পনসর।
৩. বড় শিল্পগোষ্ঠী: রিলায়েন্স (Reliance) ও আদানি (Adani) ইতিমধ্যেই আইপিএল ও ডব্লুউপিএলে বিনিয়োগ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় দলের জার্সিতে জায়গা পাওয়া তাদের জন্য অবশ্যই সোনায় সোহাগা!
যদিও ড্রিম ইলেভেনের আকস্মিক বিদায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বিসিসিআইয়ের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা। অতীতে বাইজুস কিংবা সাহারাও মাঝপথে বোর্ডকে ফেলে গিয়েছে। তবে এবার চ্যালেঞ্জ আরও বড়। কারণ টুর্নামেন্ট সদ্য শুরু হতে চলেছে। সময় একেবারেই নেই। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার সবচেয়ে বড় দলের জার্সি যদি বহুদেশীয় প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফাঁকা থাকে, সেটা বোর্ডের কাছে অবশ্যই অস্বস্তিকর।
চোখ এখন বিসিসিআইয়ের দিকে। নতুন অংশীদারের নাম তারা কবে ঘোষণা করে, সেটাই দেখার।