পরিসংখ্যানই যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিচ্ছে। প্রথম তিনটি ডব্লিউটিসি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম স্থানে শেষ করেছে। অর্থাৎ, একেবারেই তলানিতে।

ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ আপডেট: 3 October 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদা দাপুটে দল। ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, ব্রায়ান লারা—টেস্ট ক্রিকেটে (Test Cricket) ক্যারিবিয়ান টিম ঐতিহাসিকভাবে ত্রাস সঞ্চার করে চলত! বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে বিপক্ষ দলের ডেরায় ঢুকে তাদের ল্যাজেগোবরে হারানো—অতীত শ্লাঘনীয়, গর্বের যোগ্য! কিন্তু বর্তমান? সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই বুঝিয়ে দিচ্ছে, আজকের দিনে এসে ছবিটা কীভাবে সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ভারতের (Team India) বিরুদ্ধে আমদাবাদের (Ahmedabad) নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিমের ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে পড়ল মাত্র ১৬২ রানে। লড়াইয়ের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। যে কারণে প্রশ্ন উঠছে—এই দল আদৌ টেস্ট খেলার মানদণ্ডে খাপ খায় তো?
প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার, এখন বিশ্লেষক, আকাশ চোপড়ার (Aakash Chopra) সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ‘ওরা টেস্টে নামছে বটে, কিন্তু কি আসলেই লাল বলের ক্রিকেট খেলার যোগ্য?’ কেন এই সওয়ল—স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি নজর টানেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ-অর্ডারের করুণ পরিস্থিতির দিকে। যেখানে প্রথম ছ’জনের গড় রান কুড়ির কোঠায়। কেবল চন্দ্রপলই (Tagenarine Chanderpaul) একটু ওপরে—৩১.১১। বাকিদের অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। চোপড়ার মন্তব্য, ‘যখন এত ম্যাচ খেলার পরও একজন ব্যাটারের গড় ২৫-এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে, তখন বুঝতে হবে ক্ষমতার অভাব রয়েছে।’
এই ব্যাটিং ব্যর্থতাই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে। চোপড়া সরাসরি বলেছেন, এ ধরনের একপেশে সিরিজ আসলে টেস্ট ক্রিকেটের সুনামকেই নষ্ট করছে। তাঁর প্রস্তাব—প্রয়োজন টায়ারভিত্তিক (Two-tier system) ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শক্তিশালীরা একসঙ্গে খেলুক, বাকিরা থাকুক আলাদা স্তরে। তাতে অন্তত প্রতিযোগিতার মানটা বজায় থাকবে। তাঁর কথায়, ‘ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) চালুর আসল উদ্দেশ্য ছিল ফরম্যাটে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু যদি দুই দশক ধরে একটাও ম্যাচ না হারো, তবে কিসের প্রতিযোগিতা?’
আসলে পরিসংখ্যানই যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিচ্ছে। প্রথম তিনটি ডব্লিউটিসি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম স্থানে শেষ করেছে। অর্থাৎ, একেবারেই তলানিতে। অন্যদিকে ভারত প্রথম দু’বারের রানার্স আপ, আর একবার সেমিফাইনালের দোরগোড়ায়। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভারতীয় দলও এখনও কড়া টক্কর দিচ্ছে। কিন্তু বাকিদের সঙ্গে সেই মানের প্রতিযোগিতা কোথায়?
আমদাবাদের প্রথম টেস্টেই সেটাই আবার স্পষ্ট হল। সিরাজ–বুমরাহর (Mohammed Siraj, Jasprit Bumrah) ঝড়ে ভেঙে পড়ল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং। পাল্টা প্রতিরোধের নামগন্ধও নেই। ফলে চোপড়ার মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, বরং গোটা টেস্ট ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে সচেতন ও জরুরি ইঙ্গিত।