গম্ভীরের চাহিদা বলতে—তাঁর পরিচয়ের যে কোনও অননুমোদিত কন্টেন্ট ব্যবহারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। এআই, ডিপফেক, মর্ফিং বা মুখ বদলের মাধ্যমে তৈরি সমস্ত কিছু, তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেওয়া। শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কন্টেন্ট ছড়ানো বন্ধ রাখতে জরুরি আর্জিও দেওয়া হয়েছে।

গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 19 March 2026 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ভিডিও ভাইরাল হল—গম্ভীর পদত্যাগ করছেন। ২৯ লক্ষ মানুষ দেখলেন। কিন্তু বিষয়টা সম্পূর্ণত ভুয়ো!
আরও একখানা ক্লিপ। সেখানে সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে গম্ভীরের মন্তব্য… একই রকম মিথ্যে, তবু ১৭ লক্ষ ভিউ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI Deepfake) সাহায্যে মুখ বদলে, গলা নকল করে এই ভিডিওগুলো তৈরি হচ্ছে। যার বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ শুধু মুখ খোলা নয়, নামলেন আইনি লড়াইয়েও! দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) দায়ের করা মামলায় গম্ভীর চেয়েছেন ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কন্টেন্ট বন্ধের কড়া নির্দেশ।
‘আমার পরিচয়কে অস্ত্র বানানো হয়েছে’
মামলা দায়েরের পর সূর্যদের হেডস্যার বলেন, ‘আমার নাম, মুখ, গলা—সব মিলিয়ে একটা পরিচয় তৈরি হয়েছে বছরের পর বছর। সেই পরিচিতিকেই এখন অজ্ঞাত অ্যাকাউন্টগুলো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে—মিথ্যা ছড়াচ্ছে, আমার খরচে টাকা কামাচ্ছে!’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এটা ব্যক্তিগত কষ্টের বিষয় নয়—আইন, সম্মান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিটি মানুষের সুরক্ষার প্রশ্ন!’
টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে গম্ভীরকে নিয়ে ট্রোলিং ও নকল কন্টেন্টের বন্যা আরও বেড়েছে বলে তাঁর আইনজীবীর দাবি। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ইউটিউব ও ফেসবুকে এই ধরনের কন্টেন্টের সংখ্যা হুহু করে চড়েছে। যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই এবার আদালতের শরণ।
কার বিরুদ্ধে মামলা, কী চাওয়া হয়েছে?
সাকুল্যে ১৬টি পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মেটা, এক্স ও গুগল-ইউটিউবের মতো ইন্টারমিডিয়ারি সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। মামলায় কপিরাইট আইন ১৯৫৭, ট্রেডমার্ক আইন ১৯৯৯ ও কমার্শিয়াল কোর্টস আইন ২০১৫-এর ধারা উল্লিখিত। দিল্লি হাইকোর্টের আগের রায়গুলো—যেখানে ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ স্বীকৃত—সেগুলোও উদ্ধৃত করা হয়েছে।
গম্ভীরের চাহিদা বলতে—তাঁর পরিচয়ের যে কোনও অননুমোদিত কন্টেন্ট ব্যবহারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। এআই, ডিপফেক, মর্ফিং বা মুখ বদলের মাধ্যমে তৈরি সমস্ত কিছু, তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেওয়া। শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কন্টেন্ট ছড়ানো বন্ধ রাখতে জরুরি আর্জিও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গম্ভীরের কোচিংয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ধরে রেখেছে টিম ইন্ডিয়া—ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে। এর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (২০২৫) ও এশিয়া কাপ-ও (২০২৫) জিতেছে ভারত। কিন্তু এত সাফল্যের পাশাপাশি ট্রোলিং ও মিথ্যা প্রচারও বেড়েছে সমানতালে—এই মামলা সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনল।