ময়দান থেকে বিদায় নিয়েছেন অশ্বিন। অতীত স্মরণে নিরপেক্ষ তিনি। তাই হয়তো বিনা ভণিতায়, হাসি মুখে আজও সবটুকু মেলে ধরতে পারছেন।

গম্ভীর ও অশ্বিন
শেষ আপডেট: 18 March 2026 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪ সালের ডিসেম্বর। ব্রিসবেনে তৃতীয় টেস্টের পর হঠাৎ অবসর ঘোষণা করলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin)। গোটা দেশ অবাক। অ্যাডিলেডে খেলেছিলেন, তারপর ব্রিসবেনে বাদ—আর সেখান থেকেই আচমকা সিদ্ধান্ত! ১০৬ টেস্টে ৫৩৭ উইকেট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন—অনিল কুম্বলের ৬১৯ উইকেটের রেকর্ড ছোঁয়ার আগেই। এবার ‘রেভস্পোর্টজ কনক্লেভে’ প্রথমবারের মতো সমস্ত ইস্যু খুলে বললেন অশ্বিন।
‘আমার সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল’
প্রাক্তন স্পিনারের দাবি, পার্থের পর থেকেই বদল বুঝতে পারছিলেন। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। পরের ম্যাচে আবার সুযোগ পান। তারপর আবার বাদ। এই আসা-যাওয়াই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল: নিশ্চিত আসনটি হাতছাড়া হয়েছে। এতদিন যিনি চোখ বন্ধ করে প্রথম একাদশে জায়গা পেতেন, টিমের স্পিন ইউনিটের নেতা ছিলেন, এবার তাকে বারবার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হবে।
অশ্বিনের কথায়, ‘আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেটা ঠিক না ভুল, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা আমার জীবন—যেটা কিনা আমার শর্তে চলবে! যে জায়গা নেবে, তার সেই জায়গা ও সময় দরকার। আমি তেমন মানুষ নই, যে ফেরার অপেক্ষায় ঝুলে থাকবে!’
গম্ভীরের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন
সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) সঙ্গে সম্পর্ক। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। অশ্বিন সরাসরি বললেন, ‘গম্ভীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে সবার আগে আমার থাকার কথা—কারণ ওঁর দ্বিতীয় বা তৃতীয় সফরেই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে!’ এতেই থামলেন না। খানিক আকপট মেজাজেই বলে দিলেন, ‘গম্ভীরের একটা দায়িত্ব আছে। তাতে যদি মনে হয় আমাকে, বিরাটকে বা রোহিতকে সরে যেতে হবে—সেটা মানা যায়। সেই মুহূর্তে তিক্ততা আসতে পারে, কারণ আমিও মানুষ। কিন্তু নিজেকে যদি আলাদা করে দেখি, তাহলে বোঝা যায়—গম্ভীরের কাজ গম্ভীর করেছে, আমার ভবিষ্যৎ হয়তো ওর পরিকল্পনায় ছিল না!’
অহংকার ঝেড়ে ফেলার লড়াই
অশ্বিনের বক্তব্য, তাঁর বাবা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর মিডিয়ায় কিছু বলেছিলেন। যা কানে আসার পর বাড়িতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—কোনও খেলোয়াড় সম্পর্কে আগামীতে কেউ খারাপ কথা বলবে না।
উল্লেখ্য, দেশে ক্রিকেটারদের যে পরিমাণ আবেগ ও সমর্থন মেলে, তাতে নিজেকে অপরিহার্য মনে হওয়া স্বাভাবিক। অশ্বিনও সে কথা মেনে নিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, ‘আবেগের কারণেই অনেকে মনে করে বসেন, আমি অপ্রতিরোধ্য—যেটা সত্যি নয়!’ অহংকার ঝেড়ে ফেলার একটা লড়াই রয়েছে। সে লড়াই চলছে। ময়দান থেকে বিদায় নিয়েছেন অশ্বিন। অতীত স্মরণে নিরপেক্ষ তিনি। তাই হয়তো বিনা ভণিতায়, হাসি মুখে আজও সবটুকু মেলে ধরতে পারছেন।