গত ৪৮ ঘণ্টায় দৃশ্যপট পুরো বদলে গিয়েছে। চিকিৎসা শুরু হতেই মার্টিনের শরীর প্রত্যাশার থেকেও ভালোভাবে সাড়া দিচ্ছে।
.jpeg.webp)
ড্যামিয়েন মার্টিন
শেষ আপডেট: 4 January 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দিন আগেও ছবিটা ছিল ভয়ঙ্কর। ব্রিসবেনের হাসপাতালে আইসিইউ। জীবন-মৃত্যুর দড়ি টানাটানি। মেনিনজাইটিসে (meningitis) আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা ব্যাটার ড্যামিয়েন মার্টিন (Damien Martyn)। বয়স ৫৪। পরিস্থিতি এতটাই জটিল, যে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তাঁকে রাখা হয়েছিল ইন্ডিউসড কোমায়। সেখান থেকেই ভেসে এল বড় খবর—মার্টিন এখন জেগে উঠেছেন! কথা বলছেন। সাড়া দিচ্ছেন চিকিৎসায়। আইসিইউ ছাড়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই অলৌকিক পরিবর্তনকে ‘মিরাকল’ বলতে দ্বিধা করছেন না তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।
কীভাবে বদলাল পরিস্থিতি?
২৬ ডিসেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্টিন। দ্রুত ভর্তি করা হয় ব্রিসবেনের এক হাসপাতালে। মেনিনজাইটিস ধরা পড়ার পর শরীর দুর্বল হতে থাকে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ইন্ডিউসড কোমায় রাখেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে ওঠে, যে মার্টিনের পরিবার ও বন্ধুমহলে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উৎকণ্ঠা।
কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টায় দৃশ্যপট পুরো বদলে গিয়েছে। চিকিৎসা শুরু হতেই মার্টিনের শরীর প্রত্যাশার থেকেও ভালোভাবে সাড়া দিচ্ছে। কোমা থেকে বেরিয়ে তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন, চারপাশে কী হচ্ছে বুঝে ফেলতে পারছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের অবস্থায় এত দ্রুত উন্নতি ‘বিরল’।
পরবর্তী ধাপে অজি ব্যাটারকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনও পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পর্ব চলবে, তবু সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গাটা কেটে গিয়েছে।
‘এটা প্রায় অলৌকিক’: গিলক্রিস্ট
মার্টিনের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রাক্তন সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (Adam Gilchrist) পরিস্থিতির আপডেট দিতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় যা হয়েছে, সেটা অবিশ্বাস্য। ও এখন কথা বলতে পারছে। চিকিৎসায় দারুণ সাড়া দিয়েছে। পরিবার বলছে, এটা প্রায় অলৌকিক!’ গিলি আরও জানান, মার্টিন মানসিকভাবে চাঙ্গা। সমর্থকদের বার্তা, শুভেচ্ছা এবং ক্রিকেটমহলের পাশে থাকার অনুভূতিতে তিনি আপ্লুত। তাঁর স্ত্রী আমান্ডা (Amanda) বিশ্বাস করেন, এই সমর্থন ও শুভকামনাই মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। এখনও পথ চলা বাকি। চিকিৎসা চলবে। তবে পরিস্থিতি যে ইতিবাচক, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
মার্টিনের ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকার
ড্যামিয়েন মার্টিন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ১৯৯২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্রিসবেনেই টেস্ট অভিষেক। পরবর্তী সময়ে ৬৭টি টেস্ট ও ২০৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। এলিগেন্ট ব্যাটিং, চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথা—এই দুইয়ের জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক ২০০৪ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের নেপথ্যেও ছিল তাঁর ব্যাট। এই কারণেই মার্টিনের অসুস্থতার খবর ক্রিকেটবিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। ভিভিএস লক্ষ্মণ (VVS Laxman), রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin), ড্যারেন লেম্যান (Darren Lehmann), জিম উইলসন (Jim Wilson)—অনেকে শুভেচ্ছা পাঠান।
এখন মার্টিন ধীরে ধীরে ফিরছেন। আবেগের অতিরঞ্জন নয়, কোনও নাটকীয়তা নয়—শুধু এটুকুই বলা যায়, এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে অজি কিংবদন্তি আপাতত নিরাপদ জীবনের দিকে এগোচ্ছেন।