মেনিনজাইটিস বিরল হলেও অবহেলার সুযোগ নেই, দ্রুত চিকিৎসাই একমাত্র রক্ষা।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 31 December 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ড্যামিয়েন মার্টিনের (Damien Martyn) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবরে ক্রিকেট দুনিয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মেনিনজাইটিসে (Meningitis) আক্রান্ত প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় ব্যাটারকে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে ইনডিউসড কোমা–য় (Induced Coma) রাখা হয়েছে। বক্সিং ডে–র দিন থেকেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। খবর প্রকাশ্যে আসার পর একাধিক প্রাক্তন সতীর্থ ও ক্রিকেটার প্রকাশ্যে সমানুভূতি জানিয়েছেন। প্রাক্তন অজি ক্রিকেটার ড্যারেন লেম্যান (Darren Lehmann) যেমন লেখেন, ‘মার্টিনের জন্য ভালোবাসা আর প্রার্থনা। ঈশ্বর পরিবারকে শক্তি দিক!’
এই ঘটনার পর অনেকের মনে প্রশ্ন—মেনিনজাইটিস (Meningitis) কী? কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এই রোগ? নিরাময়ই বা মেলে কোন উপায়ে?
মেনিনজাইটিস কী?
মেনিনজাইটিস (Meningitis) একটি গুরুতর রোগ, যেখানে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুরজ্জুকে ঘিরে থাকা সুরক্ষাকবচ—যাকে বলা হয় মেনিনজিস (Meninges)—সেখানে ফোলা ভাব তৈরি হয়। এই প্রদাহ মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে হতে পারে মৃত্যুর কারণ। যে কারও হতে পারে এই রোগ। তবে শিশু, নবজাতক, বয়স্ক মানুষ ও যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।
মেনিনজাইটিসের কারণ কী কী?
পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—
ক। ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (Viral and Bacterial Infection)। সবচেয়ে সাধারণ।
খ। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস (Bacterial Meningitis) হঠাৎ শুরু হয়, খুব দ্রুত খারাপের দিকে যায় এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক।
গ। ভাইরাল মেনিনজাইটিস (Viral Meningitis) তুলনামূলক কম গুরুতর, উপসর্গ ধীরে বাড়ে।
ঘ। ফাঙ্গাল বা প্যারাসাইট সংক্রমণ (Fungal or Parasitic Infection)। বিরল হলেও যাঁদের প্রতিরোধশক্তি দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
ঙ। মাথায় গুরুতর আঘাত, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অটোইমিউন রোগ (Autoimmune Disease) বা ক্যানসারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে।
কী কী উপসর্গ দেখা যায়?
মেনিনজাইটিসের (Meningitis) উপসর্গ অনেক সময় আচমকাই শুরু হয়—
ক। হঠাৎ জ্বর ও তীব্র মাথাব্যথা
খ। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, আলোতে চোখে ব্যথা
গ। বমি ভাব, বমি, বিভ্রান্তি
ঘ। অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা জাগতে অসুবিধা
ঙ। শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ আলাদা হতে পারে—খেতে না চাওয়া, অস্বাভাবিক কান্না, মাথার নরম অংশ ফুলে ওঠা
এই লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা দিলেই দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসা ও ঝুঁকি
মেনিনজাইটিসের (Meningitis) চিকিৎসা পুরোপুরি নির্ভর করে কোন কারণে রোগটি হয়েছে তার উপর—
ক। ব্যাকটেরিয়াল হলে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics)।
খ। ভাইরাল হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল (Antiviral) ও সাপোর্টিভ কেয়ার (Supportive Care)।
গ। ফাঙ্গাল হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ (Antifungal Medication)।
ঘ। সঙ্গে দেওয়া হয় স্টেরয়েড (Steroids), আইভি ফ্লুইড (IV Fluids)—যাতে প্রদাহ কমে ও শরীর স্থিতিশীল থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেন, ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসে (Bacterial Meningitis) সময় নষ্ট মানেই বড় ঝুঁকি। দেরি হলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়া, স্থায়ী মস্তিষ্ক ক্ষতি বা মৃত্যুর সম্ভাবনাও থাকে।
ড্যামিয়েন মার্টিনের (Damien Martyn) ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যে পথ বেছে নিয়েছেন—ইনডিউসড কোমা (Induced Coma)—তা সাধারণত তখনই করা হয়, যখন মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিয়ে শরীরের উপর চাপ কমানো জরুরি হয়ে পড়ে। আপাতত ক্রিকেট দুনিয়া তাকিয়ে তাঁর দ্রুত সুস্থতার দিকে। যদিও এই ঘটনা আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—মেনিনজাইটিস (Meningitis) বিরল হলেও অবহেলার সুযোগ নেই, দ্রুত চিকিৎসাই একমাত্র রক্ষা।