প্রশ্ন এই মুহূর্তে একগুচ্ছ: ভারতের বিরুদ্ধে বসিয়ে রেখে কামিন্সকে যতটা ‘সুরক্ষা’ দেওয়া সম্ভব? অ্যাশেজের আগুনে ঝলসে উঠবেন তিনি? নাকি চোটের ছায়া কিছুতেই পিছু ছাড়বে না?

প্যাট কামিন্স
শেষ আপডেট: 2 September 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজই মিচেল স্টার্কের হঠাৎ টি-টোয়েন্টি অবসরের ঘোষণা ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছে। সেই চর্চার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আরও এক ধাক্কা—ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ান ডে সিরিজে দেখা যাবে না প্যাট কামিন্সকে (Pat Cummins)। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA) জানিয়ে দিয়েছে, পিঠের চোট এখনও পুরোপুরি সারেনি। তাই অক্টোবরের ভারত ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে কামিন্সের চোট সামনে আসে। দেখা যায়, লম্বার বোনে বাড়তি চাপ দানা বেঁধেছে (Lumbar bone stress)। যে কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বক্তব্য—‘কামিন্স সীমিত ওভারের সিরিজে খেলবেন না। রিহ্যাবিলিটেশন চলবে। ফেরার সময় নির্ভর করবে অ্যাশেজ প্রস্তুতির অগ্রগতির উপর!’ এই মুহূর্তে দলের অধিনায়কের সামনে একটাই টার্গেট—২১ নভেম্বর পার্থে শুরু হওয়া অ্যাশেজ!
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, একে ‘ধাক্কা’ হিসেবে দেখাটা ভুল। কামিন্সকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের কৌশল ও বিচক্ষণতা স্পষ্ট। স্বল্পমেয়াদি সিরিজে ঝুঁকি নেওয়ার কোনও মানে নেই। কামিন্স শুধু দলের সেরা পেসার নন, নেতাও বটে। ফলে তাঁকে হারানো মানে ‘কোর সিস্টেম’ দুর্বল হয়ে যাওয়া। তাই আপাতত অগ্রাধিকার অ্যাশেজ। একে বলা যায় ‘প্রটেকশন স্ট্র্যাটেজি’—ভারত ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে কামিন্সকে বসিয়ে রেখে লম্বা দৌড়ের স্বার্থে তাঁর ফিটনেস নিশ্চিত করা।
যদিও ভারতীয় দলের কাছে এটা হয়তো স্বস্তির খবর। কামিন্সের ধারাল স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, পাওয়ারপ্লে-তে তাঁর শুরুয়াতি ঝটকায় বহুবার টিম ইন্ডিয়ার টপ অর্ডার সমস্যায় পড়েছে। রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তনের সিরিজে কামিন্সের না থাকাটা তাই বড় ফ্যাক্টর। দু’জনই কামিন্সের বিপক্ষে আগেও চাপে পড়েছেন। এবার সেই নতুন বলের তীক্ষ্ম সুইং আক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই মিলবে। উপরন্তু মিডল অর্ডারের শুভমান গিল, শ্রেয়স আইয়াররাও চাপমুক্তভাবে খেলতে পারবেন। ডেথ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া ও সঞ্জু স্যামসনরা আক্রমণ শানাবেন খোলস ছেড়ে।
তবে এ-ও ঠিক, অজিদের ফাস্ট বোলিংয়ের ভাঁড়ার বেশ গভীর। জশ হেজলউড, শন অ্যাবট কিংবা নতুন প্রতিভারা যে-কোনও সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ফলে ভারত যদি আত্মতুষ্টিতে ভোগে, তাহলে কামিন্সের অনুপস্থিতি বাড়তি সুবিধা নাও হতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কামিন্সকে লম্বা সময় বাইরে রাখলে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? পিঠের চোটে আক্রান্ত বোলারদের জন্য রিদমে ফেরা সবসময়ই কঠিন। যতই ফিজিও–ট্রেনাররা কন্ডিশনিং করান, ম্যাচ-সিচুয়েশনের চাপ একেবারে আলাদা। নভেম্বরের অ্যাশেজের আগে তাই অস্ট্রেলিয়ার আসল চিন্তা—কামিন্সকে পুরোপুরি সতেজ রাখা, আবার একই সঙ্গে ছন্দে ফেরানো।
প্রসঙ্গত, কামিন্সের অ্যাশেজ কেরিয়ার এখনও পর্যন্ত দুর্দান্ত। ২০২১-২২-এ ঘরের মাঠে ৪-০ ব্যবধানে জেতেন, তুলে নেন ২১ উইকেট। ২০২৩-এ ইংল্যান্ডে ২-২ ড্র করেও অ্যাশেজ ধরে রেখেছিলেন, ১৮ উইকেট নিয়ে। তাঁর উপস্থিতি মানেই অজি আক্রমণে আলাদা মাত্রা যুক্ত হওয়া। ফলে ওঁর না থাকা শুধু একজন বোলার নয়—একজন স্ট্র্যাটেজিস্ট, একজন নেতাকে হারানোর সমতুল্য।
প্রশ্ন এই মুহূর্তে একগুচ্ছ: ভারতের বিরুদ্ধে বসিয়ে রেখে কামিন্সকে যতটা ‘সুরক্ষা’ দেওয়া সম্ভব? অ্যাশেজের আগুনে ঝলসে উঠবেন তিনি? নাকি চোটের ছায়া কিছুতেই পিছু ছাড়বে না?