এই একবার অজিত আগরকর সমেত বাকি নির্বাচকরা সত্যিই কলার তুলে সাহস দেখিয়েছেন। ভুল ঢাকেননি। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় দাঁড়িয়েছেন।

অজিত আগরকর
শেষ আপডেট: 21 December 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) পথ কখনওই মসৃণ নয়। না আগে ছিল, না এখন আছে, হলফ করে বলা যায়—ভবিষ্যতেও থাকবে না! দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে। কখনও পক্ষপাতের অভিযোগ, কখনও ‘একই খেলোয়াড়কে বেশি সুযোগ’দেওয়া নিয়ে তোপ।
কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দল ঘোষণার পর একটা বিষয় মানতেই হচ্ছে—এই প্রথম, সমালোচনার নখদন্ত সামলে আগরকর নেতৃত্বাধীন বিসিসিআইয়ের নির্বাচক কমিটি নিখুঁত পরিকল্পনা বা ভিশন সামনে তুলে ধরলেন! সাহস দেখালেন। ভুল স্বীকার করলেন। আর সবচেয়ে বড় কথা—নাম নয়… প্রাধান্য দিলেন দলগত ভারসাম্যকে!
গিলকে বাদ, বার্তা পরিষ্কার—কম্বিনেশনই শেষ কথা
এই দলে সবচেয়ে বড় চমক নিঃসন্দেহে শুভমান গিলের (Shubman Gill) বাদ পড়া। ছন্দে না থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে টি-২০ দলে গিল কার্যত ‘অপরিহার্য’হয়ে উঠেছিলেন। সহ-অধিনায়কত্ব, লাগাতার সুযোগ—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর নাম প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই ধারণা ভাঙল।
কারণটা স্পষ্ট—টি-২০ ফরম্যাটে ভারতের যে আক্রমণাত্মক ব্লুপ্রিন্ট, শুভমান সেখানে ঠিক ফিট নন। পুরোপুরি বেমামান। ওপেনিংয়ে গিল এলে ছিটকে যাচ্ছিলেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। ভেঙে যাচ্ছিল বাঁ-হাতি-ডান-হাতি জুটি। গতি কমছিল পাওয়ারপ্লে-তে।
আশার কথা, দেরিতে হলেও নির্বাচকেরা সেটা বুঝেছেন এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি। গিলের টেস্ট ও ওয়ানডে গুরুত্ব অটুট রেখেই টি-২০ থেকে সরে আসার ঘোষণা—এটাই এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সাহসী দিক।
পুরনো ভুল শোধরানো—ঈশানের ফেরা, অক্ষরের দায়িত্ব
এই দলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঈশান কিশানের (Ishan Kishan) প্রত্যাবর্তন। ২০২৩ সালে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেই নিজের জবাব দিয়েছেন তিনি। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ধারাবাহিক রান, দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেট—সব মিলিয়ে ফেরার দাবি জোরালো ছিল। নির্বাচকেরা সেটাই গুরুত্ব মনে করেছেন।
এখানেই বার্তাটা স্পষ্ট—শুধু আইপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটও জাতীয় দলে জায়গা পাকা করার অন্যতম রাস্তা। এই দর্শন আগেও শোনা গিয়েছে, কিন্তু কাজে ছাপ পড়েনি। এবার সেটা বাস্তবে কার্যকর হল।
এ ছাড়া সহ-অধিনায়ক হিসেবে অক্ষর প্যাটেলকে (Axar Patel) বেছে নেওয়াও ভবিষ্যতমুখী সিদ্ধান্ত। ব্যাট-বল দু’দিকেই নির্ভরযোগ্য, চাপের ম্যাচে ঠান্ডা মাথা—টি-২০ টুর্নামেন্টে এই প্রোফাইলটা ভীষণ দরকার।
কেন দশে দশ? ভুল মেনেছে বলে?
এবারের দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় গুণ আত্মসমালোচনার প্রবণতা। আগের বছরগুলোয় ভুল হলেও তা আঁকড়ে ধরে রাখার ধাঁচ ছিল। এ যাত্রায় সেটা হয়নি। গিলকে জোর করে ফিট করানোর চেষ্টা বন্ধ। ওপেনিংয়ে ফের আক্রমণাত্মক মডেল। মাঝের ওভারে পাওয়ার। লোয়ার অর্ডারে গভীরতা।
এই জন্যই প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং (Harbhajan Singh) প্রকাশ্যে বলেছেন—‘দশে দশ’। একই সুর সুনীল গাভাসকরের (Sunil Gavaskar) কথাতেও। তাঁদের বক্তব্যে পরিষ্কার—এটা মন ভাল রাখার দল নয়, প্রয়োজনের দল।
তাই বলে কি একেবারে নিখুঁত? মোটেও না। প্রশ্ন থাকবে। সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) ফর্ম নিয়ে আলোচনা হবেই। টি-২০ ফরম্যাট এমনই। কিন্তু নির্বাচন পর্যায়ে যা করার ছিল, তা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়—উঠতে-বসতে সমালোচনা থাকলেও, এই একবার অজিত আগরকর সমেত বাকি নির্বাচকরা সত্যিই কলার তুলে সাহস দেখিয়েছেন। ভুল ঢাকেননি। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় দাঁড়িয়েছেন। তার জন্য যোগ্য সাবাশি প্রাপ্য! বিশ্বকাপের আগে এটুকুই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।