১-১ থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় ওডিআইয়ে এই পরাজয়ের ফলে সিরিজও হাতছাড়া হয়ে গেল পাকিস্তানের। এই আবহে অভিযোগের পরিণতি কী হবে, সেটা এখন ম্যাচ রেফারির হাতে।

টিম পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 16 March 2026 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ (Bangladesh vs Pakistan 3rd ODI)। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ৩২ রান। প্রথম চার বলে এল ২০—মনে হচ্ছিল অসাধ্যও বুঝি সাধন হয়ে যাবে! কিন্তু পঞ্চম বলে বিতর্ক। রিশাদ হোসেনের বল শাহিন আফ্রিদির (Shaheen Afridi) ব্যাটের পাশ দিয়ে গেলে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা (Kumar Dharmasena) ওয়াইডের নির্দেশ দেন। তখনই বাংলাদেশ দল রিভিউয়ের আর্জি জানায়। আলট্রাএজে স্পাইক নজরে আসতেই সিদ্ধান্ত বদলাল। শেষ দুই বলে পাকিস্তানের দরকার ১২ রান—দুঃসাধ্য! কার্যক্ষেত্রে হলও না। ম্যাচ হাতছাড়া, সিরিজও। হার মেনেই মাঠ ছাড়তে হল শাহিনের দলকে।
কিন্তু মাঠের লড়াই মিটে গেলেও পাকিস্তান থেমে থাকল না। ইতোমধ্যে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ রেফারির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তারা।
বিতর্ক ঠিক কোথায়?
ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার আগেই স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে বলটির রিপ্লে দেখানো হয়—যেখানে বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার প্রমাণ স্পষ্ট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম বলছে, মাঠের বড় স্ক্রিনে রিপ্লে দেখানোর আগে রিভিউ নেওয়া বাধ্যতামূলক। পাকিস্তানের অভিযোগ, সেই নিয়ম মানা হয়নি। স্ক্রিনে রিপ্লে দেখার পরই রিভিউয়ের আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ—অর্থাৎ, অনুচিত সুবিধা নেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। রয়েছে দ্বিতীয় অভিযোগ। সেটা সময় নিয়ে। রিভিউ নিতে হয় সর্বোচ্চ ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে। পাকিস্তানের দাবি, সেই সীমাও নাকি অমান্য করা হয়েছে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কোনও টাইমার দেখানো না হওয়ার জেরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১১ রানের হার, সিরিজও গেল
এই বিতর্কের আগে ছবিটা সরলই ছিল। ঢাকার শের-এ-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে (Shere Bangla National Stadium) বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২৯০ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান দুরন্ত লড়াই চালায়—সলমন আলি আঘা ৯৮ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাতে কাজের কাজ হয়নি। ১১ রানে লজ্জার হার মেনে নিয়েই বাড়ি ফিরতে হবে শাহিন ব্রিগেডকে। ১-১ থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় ওডিআইয়ে এই পরাজয়ের ফলে সিরিজও হাতছাড়া হয়ে গেল পাকিস্তানের। এই আবহে অভিযোগের পরিণতি কী হবে, সেটা এখন ম্যাচ রেফারির হাতে।