মাঠে ট্রফি ছাড়াই উল্লাসে মেতেছে টিম ইন্ডিয়া। আর বাইরে প্রশাসনিক অঙ্গনে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝড়। নভেম্বরের আইসিসি বৈঠকেই বোঝা যাবে, নকভির ‘ট্রফি-কাণ্ডে'র প্রতিক্রিয়া কতটা বড় আকার নেয়।

সলমন আঘা ও মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 29 September 2025 09:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যুদ্ধ’ খতম। তবু ‘লড়াই’ থামার নাম নেই!
রঙ্গমঞ্চ গতকালের এশিয়া কাপ। ভেন্যু: দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ততক্ষণে ফয়সালা এসে গিয়েছে। ভারত টানটান লড়াই জিতে খেতান ন'নম্বর বারের মতো নিজেদের ঘরে তুলেছে। তাও চিরশত্রু পাকিস্তানকে হারিয়ে!
কিন্তু আসল নাটক মঞ্চস্থ হয় বাইশ গজের খেলা শেষের পর। ফাইনালের মঞ্চে ট্রফি না তোলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে টিম ইন্ডিয়া। সূর্যকুমার যাদবদের (Suryakumar Yadav) বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট—পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে কাপ নেওয়া হবে না। আয়োজকরা অপেক্ষা করেন, বোঝানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু তাতে বরফ গলেনি।
যখন মনে হচ্ছে, এখানেই নাটকের ইতি, টিম ইন্ডিয়া মঞ্চে না উঠলেই স্মারক কখনও না কখনও দলকে পাঠানো হবে, ঠিক তখনই আরেক দফা ট্যুইস্ট! খবর আসে, মহসিন নকভি নাকি ট্রফি নিয়ে সোজা হোটেলে ফিরে গেছেন। এটা কি করা যায়? এই সিদ্ধান্ত কি আইনসঙ্গত? এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন তলে পাক ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির আচরণকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘শিশুসুলভ’ আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)।
বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া (Devajit Saikia) সাফ জানালেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দুবাইয়ে আইসিসির (ICC) বৈঠকে নকভির বিরুদ্ধে জোরাল প্রতিবাদ জানানো হবে। তাঁর কথায়, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছেন, তাঁর হাত থেকে আমরা ট্রফি নিতে পারি না। সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে মাত্র। কিন্তু তাই বলে তিনি কাপ আর মেডেল নিয়ে নিজের হোটেলে চলে যাবেন—এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
রবিবার এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নবমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত। ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিলক বর্মার (Tilak Varma) ৫১ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ঝোড় ইনিংসেই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে যায়। তিনিই ম্যাচসেরা। কিন্তু দিনের শেষে খেলার আবহ ছাপিয়ে যায় ট্রফি বিতরণী নিয়ে তীব্র নাটক।
নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা ছিল নকভির। কিন্তু সূর্যরা তাঁর কাছ থেকে কাপ নিতে অস্বীকার করেন। খেলার পর ভারতীয় দল ১৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকে, মঞ্চে না ওঠায় অনুষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শেষমেশ দীর্ঘ দেরির পর আয়োজকেরা ট্রফি সরিয়ে নিয়ে যান। নকভি কিন্তু থামেননি। ট্রফি আর মেডেল নিয়ে ফিরে যান সোজা নিজের হোটেলে!
এখন বিসিসিআইয়ের অবস্থান পরিষ্কার—এটা শুধু প্রোটোকল ভঙ্গ নয়, ভারতীয় দলের প্রতি অবমাননাও। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সভায় এ নিয়ে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানাবে তারা।
এদিন সাইকিয়া আরও মনে করিয়ে দেন, ভারতীয় দল যে খেলেছে, সেটা কেন্দ্রের নীতি মেনে। ‘সরকার জানিয়েছিল, বহু দেশের অংশগ্রহণ থাকে এমন প্রতিযোগিতায় আমাদের খেলতেই হবে। না হলে অন্যান্য খেলাতেও আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞা নামবে। সেই কারণেই খেলতে নামা, প্রতিবাদ সত্ত্বেও!’ মন্তব্য সচিবের!
যদিও মাঠের সাফল্যে গর্বিত বিসিসিআই। তিনবার পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে সাইকিয়ার সংযোজন, ‘৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেশবাসীকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে ভারতীয় দল। এই জয় দেশের গর্ব।’
সব মিলিয়ে, মাঠে ট্রফি ছাড়াই উল্লাসে মেতেছে টিম ইন্ডিয়া। আর বাইরে প্রশাসনিক অঙ্গনে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝড়। নভেম্বরের আইসিসি বৈঠকেই বোঝা যাবে, নকভির ‘ট্রফি-কাণ্ডে'র প্রতিক্রিয়া কতটা বড় আকার নেয়।