দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে যুব দলের স্পষ্ট বার্তা—সিনিয়র দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও, ভারতের ক্রিকেটের পাইপলাইন এখনও যথেষ্ট শক্ত।

নায়ক সেই বৈভব
শেষ আপডেট: 8 January 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগে টেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকা দল লাল বলের ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়াকে নাকানিচোবানি খাইয়েছে। টেস্ট সিরিজ জিতেছে। তাও কিনা হোয়াইটওয়াশ! এই লজ্জার হার নিয়ে জল কম দূর গড়ায়নি। কোচ গৌতম গম্ভীরের কুর্সি নিয়ে টানাটানি পর্যন্ত শুরু হয়েছিল।
মাস ঘুরতেই দাদাদের নির্মম পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিল ভাইয়েরা। যুব ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরে ঢুকে তাদের ৩-০-তে বধ করল ভারত। অধিনায়ক বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) এক হাতে ম্যাচের রাশ ধরলেন, অন্য হাতে দেখালেন ব্যাটিংয়ের ধার।
প্রথম উইকেটেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ
বেনোনির উইলোমুর পার্কে সিরিজের শেষ ম্যাচট শুরু থেকেই ভারতের দখলে। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অনূর্ধ্ব-১৯ টিম ইন্ডিয়া। ওপেনিংয়ে নামেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) ও অ্যারন জর্জ (Aaron George)। প্রথম কয়েক ওভারে নতুন বল সামলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন দু’জনেই। জুটিতে ওঠে ২০০-এর বেশি রান।
এই পার্টনারশিপেই কার্যত ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যায়। বৈভব ছিলেন আক্রমণাত্মক, অ্যারন সংযত। বৈভব ৭৪ বলে ১২৭ রান করেন—১০টি ছয়, ৯টি চার। অন্যদিকে অ্যারন নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন (১০৬ বলে ১১৮ রান)। প্রথম উইকেট ভাঙে ২৬তম ওভারে, ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ফেরার সমস্ত রাস্তা বন্ধ।
বড় রান, কিন্তু ছন্দ হারায়নি ভারত
ওপেনিং জুটি ভাঙার পরেও ভারতের ইনিংসে কোনও ধস নামেনি। মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা ঝুঁকি না নিয়ে রানের গতি এগিয়ে নিয়ে যান। লক্ষ্য একটাই—বোর্ডে এমন স্কোর দাঁড় করানো, যাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য লড়াই কাগজে-কলমেই কঠিন হয়ে যায়।
৫০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ৭ উইকেটে ৩৯৩। যুব পর্যায়ের ক্রিকেটে এই রান তাড়া করা যে কতটা কঠিন, তা ভালোই জানত দক্ষিণ আফ্রিকার শিবির। বোলিংয়ে টান্ডো সোনি (Ntando Soni) কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রথম ইনিংসের ধাক্কা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
বল হাতেও ক্ষুরধার দাপট
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা টিম। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই পড়ে যায় চার উইকেট। ভারতের বোলাররা লাইন-লেন্থে কোনও ঢিলেমি দেখাননি। ফিল্ডিংয়েও ছিল টানটান শৃঙ্খলা। অধিনায়ক বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) শুধু ব্যাটেই থামেননি। বল হাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। বাকি বোলাররাও দায়িত্ব ভাগ করে নেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রমশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় লক্ষ্য থেকে বহু দূরে। ব্যবধান—২৩৩ রান!
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ বা একটি সিরিজ জয়ের গল্প নয়। পুরো সিরিজ জুড়েই ভারত প্রতিটি বিভাগে এগিয়ে—ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে ডেথ ওভার, বোলিংয়ের নতুন বল থেকে মিডল ওভার, ফিল্ডিংয়ের তীক্ষ্ণতা—সর্বত্র নিখুঁত টিম ইন্ডিয়া! বিশেষ করে বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Suryavanshi) নেতৃত্বে দল যে পরিকল্পনা মেনে খেলেছে, সেটাই এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের চাবিকাঠি।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে যুব দলের স্পষ্ট বার্তা—সিনিয়র দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও, ভারতের ক্রিকেটের পাইপলাইন এখনও যথেষ্ট শক্ত।