যেহেতু ১৯৩২ সালের জুন মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লর্ডেসের ময়দানে প্রথমবারের জন্য লাল বলের ক্রিকেট খেলতে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া, তাই সেই স্মৃতিকে সম্মান জানাতে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় যে পতৌদি পরিবার, তাদের নামেই ট্রফির নাম রাখা হয় ‘পতৌদি ট্রফি’।

শচীন তেন্ডুলকর
শেষ আপডেট: 19 June 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রফির নাম বদলে জুড়ে গেল তাঁর নাম। অথচ তিনি জানতেন পর্যন্ত না। খবরে চাউর হতে নজরে আসে। তারপর যোগাযোগ করেন, জানান নিজের আপত্তির কথা। পতৌদি ট্রফির নাম পরিবর্তন বিতর্কে এভাবেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন শচীন তেন্ডুলকর।
২০০৭ সালে ভারতীয় দলের টেস্ট ক্রিকেটে ৭৫তম বর্ষপূর্তির আবহে নতুন এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যেহেতু ১৯৩২ সালের জুন মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লর্ডেসের ময়দানে প্রথমবারের জন্য লাল বলের ক্রিকেট খেলতে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া, তাই সেই স্মৃতিকে সম্মান জানাতে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় যে পতৌদি পরিবার, তাদের নামেই ট্রফির নাম রাখা হয় ‘পতৌদি ট্রফি’।
সম্প্রতি সেই টুর্নামেন্টের নাম বদলে রাখা হয় ‘তেন্ডুলকর-আন্ডারসন ট্রফি’। যা শুরু হতে চলেছে ২০ জুন। এই নিয়ে ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনা দানা বাঁধে। কীসের ভিত্তিতে পতৌদি পরিবার, ভারতীয় ক্রিকেটে যাদের ঐতিহ্য সুমহান, তাদের স্মরণে চালু হওয়া খেতাবের নাম বদলে দিল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড? প্রশ্ন তোলেন সুনীল গাভাসকার থেকে কপিল দেবের মতো অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার।
এতদিন সেভাবে সরব না হলেও এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন শচীন তেন্ডুলকর। তিনি বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টা তুলে ধরছি। প্রথমত, ট্রফির এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যৌথভাবে গ্রহণ করে বিসিসিআই ও ইসিবি ( ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড)। তাঁরা ঐক্যমতে আসার পর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।‘
এরপর জুড়ে দেন, ‘আর পতৌদি পরিবারের কথা বলতে গেলে, ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁদের অবদান নিয়ে আমি ভালমতো ওয়াকিবহাল। ইফতিকার আলি খান পতৌদি ভারত এবং ইংল্যান্ড দু’দেশের হয়ে খেলেছেন। অন্যদিকে টাইগার পতৌদি সম্মানের সঙ্গে ভারতকে নেতৃত্ব দেন। তখনও জন্মাইনি বলে আমি দুজনের কারও খেলা দেখিনি। যদিও তাঁদের গল্প শুনেছি। যা আমায় অনুপ্রাণিত করেছে। আর এই কারণেই গর্বের ঐতিহ্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তার জন্য চেষ্টা চালাই।‘
এই সিদ্ধান্তে যে তাঁর সায় নেই, সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন শচীন। বলেছেন, ‘আমি জানামাত্র পতৌদি পরিবার এবং আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করি, কথা বলি। জানাই—কিছু একটা করা প্রয়োজন, যাতে এই কৌলীন্য বজায় থাকে।‘
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ট্রফির নাম বদলানো না হলেও দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নবাব পরিবারের অবদানের স্মরণিকা হিসেবে সিরিজ বিজিয়ী অধিনায়ককে ‘পতৌদি মেডেল অফ এক্সেলেন্স’ দেওয়া হবে।
কথাপ্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগের কথাও তুলে ধরেছেন শচীন। জানিয়েছেন বেশ কিছু অজানা ইতিহাস। বলেছেন, ‘অনেকের জানা নেই, আমার প্রথম বিমানযাত্রা কিন্তু ইংল্যান্ডে। ১৯৮৮ সালে। স্টার ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য হিসেবে। তারপর প্রথম আন্তর্জাতিক শতরানও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। সেই ম্যাচ-বাঁচানো ইনিংসের দৌলতেই কিন্তু সিরিজে সমতা ফিরেছিল। তা ছাড়া অ-ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে আমিই প্রথম ইয়র্কশায়ারের হয়ে কাউন্টিতে খেলি। উপরন্তু আমার শাশুড়িও ইংরেজ। ফলে একটা পারিবারিক যোগও রয়েছে।‘