শুধু প্রথম একাদশই নয়, রিজার্ভ খেলোয়াড়রাও পেলেন বড় স্বস্তি। আগে যেখানে রিজার্ভরা দিনে ১০ হাজার টাকা পেতেন, এখন থেকে হাতে আসবে ২৫ হাজার টাকা।

বিসিসিআই লোগো
শেষ আপডেট: 23 December 2025 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিনের আগেই দেশের মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য বড় উপহার। ঘরোয়া ক্রিকেটে মহিলা খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি একলাফে আড়াই গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই (BCCI)। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। বোর্ডের এহেন ঘোষণা মেয়েদের ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আর্থিক ভিত্তিকে অনেকটাই মজবুত করবে বলে মনে করছে ক্রিকেট মহল।
কী সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই?
সোমবার, ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে ঘরোয়া মহিলা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে সম্মতি দিয়েছে বোর্ড। এতদিন সিনিয়র মহিলা ক্রিকেটে একাদশে থাকা খেলোয়াড়রা দিনে ২০ হাজার টাকা করে পেতেন। নতুন কাঠামোয় সেই অঙ্ক বেড়ে হচ্ছে দিনে ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, একলাফে সরাসরি আড়াই গুণ বৃদ্ধি।
শুধু প্রথম একাদশই নয়, রিজার্ভ খেলোয়াড়রাও পেলেন বড় স্বস্তি। আগে যেখানে রিজার্ভরা দিনে ১০ হাজার টাকা পেতেন, এখন থেকে হাতে আসবে ২৫ হাজার টাকা। বিসিসিআইয়ের মতে, দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের আর্থিক সুরক্ষাও সমানভাবে জরুরি। আর এই নীতিরই প্রতিফলন পড়েছে সিদ্ধান্তে।
জুনিয়র ও টি-২০ টুর্নামেন্টে কী বদল?
নতুন কাঠামোয় জুনিয়র মহিলা ক্রিকেটাররাও বড়সড় লাভবান হচ্ছেন। সিনিয়রদের মতোই জুনিয়র স্তরেও ম্যাচ ফি দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এখন জুনিয়র মহিলা টুর্নামেন্টে একাদশে থাকা ক্রিকেটাররা দিনে পাবেন ২৫ হাজার টাকা, রিজার্ভরা ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
টি-২০ টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে ওয়ানডে ম্যাচ ফি-র অর্ধেক হারে পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ, সিনিয়র টি-২০ ম্যাচে একাদশে থাকা ক্রিকেটাররা পাবেন ২৫ হাজার টাকা এবং রিজার্ভরা ১২ হাজার ৫০০ টাকা। জুনিয়র টি-২০-তে এই অঙ্ক যথাক্রমে সাড়ে ১২ হাজার এবং ৬ হাজার ২৫০ টাকা।
বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী, আগে লিগ পর্যায় পর্যন্ত খেললে এক জন সিনিয়র মহিলা ক্রিকেটারের মরশুমি আয় গড়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি থাকত। নতুন কাঠামোয় সেই আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
মহিলা ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা বাড়লেও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিকতম সিদ্ধান্ত সেই শূন্যতা অনেকটাই ভরাট করবে। বিশেষ করে, যাঁরা এখনও জাতীয় দলে জায়গা পাননি, ঘরোয়া ক্রিকেটই আয়ের প্রধান উৎস, ম্যাচ ফি বাড়ায় তাঁদের পক্ষে ক্রিকেটকে পুরো সময়ের পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া সহজ হবে।
এটি বিসিসিআইয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেওয়া মহিলা ক্রিকেট-কেন্দ্রিক নীতিরই দৃষ্টান্তমূলক ধারাবাহিকতা। জয় শাহর (Jay Shah) আমলে মেয়েদের ক্রিকেটে একাধিক কাঠামোগত সংস্কার ঘটেছে। বর্তমানে বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মিঠুন মানহাসও (Mithun Manhas) সেই পথেই বিসিসিআইকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন বলে মত বিশ্লেষকদের।
শেষ কবে বাড়ানো হয়েছিল ম্যাচ ফি?
এর আগে ২০২১ সালে শেষবার মহিলা ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিল বিসিসিআই (BCCI)। তখন সিনিয়র মহিলা ক্রিকেটারদের দৈনিক পারিশ্রমিক সাড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। চার বছর পর এবার তার থেকেও বড় সংশোধন আনল বোর্ড। সব মিলিয়ে, মহিলা ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আর্থিক সংস্কার শুধু তাৎক্ষণিক স্বস্তি নয়—দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের ভিত আরও শক্ত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।