আরসিবি কর্তৃপক্ষ কি চোখে ঠুলি পরেছিল? কেন উন্মাদের মতো ভিড় জমানো দর্শক ও নাগরিকদের সরানো গেল না? কেউ তো অবুঝ নয়। তাহলে কেন ভিড়ের আগাম আন্দাজ পেয়ে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি?

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 June 2025 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিব্যাংশী, দোরেসা, ভূমিকা, সাহানা, অক্ষতা, মনোজ, শ্রবণ, দেবী, শিবলিঙ্গ, চিন্ময়ী এবং প্রোজ্জ্বল।
এগারোটি নাম। প্রত্যেকের বয়স চল্লিশের নীচে। কারও কুড়ি, কারও সতেরো… সর্বোচ্চ তেত্রিশ। আরসিবির (RCB) আইপিএল ট্রফি উদযাপনের (IPL Trophy Celebration) আবহে সবচেয়ে বেশি আনন্দ ও উন্মাদনা ছড়িয়েছিল যাঁদের মধ্যে, সেই তরুণ-তরুণীরাই পদপিষ্টের ঘটনায় (Bengaluru Stampede) মারা গিয়েছেন। মৃতদের তালিকায় একজনও বয়স্ক, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নেই। আইপিএল জয়ের উদযাপন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উৎসাহীরাই যে কাতারে কাতারে ভিড় জমিয়েছিলেন, দুর্ঘটনা-পরবর্তী তালিকায় এই বিষয়টি পরিষ্কার।
পাশাপাশি এই সূত্রে আরও জোরালো হয়েছে প্রশ্ন—আরসিবি কর্তৃপক্ষ কি চোখে ঠুলি পরেছিল? কেন উন্মাদের মতো ভিড় জমানো দর্শক ও নাগরিকদের সরানো গেল না? কেউ তো অবুঝ নয়। তাহলে কেন ভিড়ের আগাম আন্দাজ পেয়ে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি?
সূত্রের খবর, যারা মারা গিয়েছেন, সেই সমস্ত তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোর-কিশোরীদের প্রত্যেকে সপরিবারে নয়—বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে এসেছিলেন। সবাই দল বেঁধে। বেশিরভাগ দর্শকই বেঙ্গালুরুর। কেউ পাশের শহরের।
এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির দায়ভার কেউ নিক চায় না নিক, আসল কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ই কিন্তু প্রধান হয়ে উঠেছে: এক, অপরিকল্পিত আয়োজন। দুই, অযৌক্তিক তাড়াহুড়ো। তিন, সমর্থকদের অনিয়ন্ত্রিত সমাগম।
প্রশ্ন উঠছে সরকারের ভূমিকা নিয়েও। কেন বিধান সৌধের মতো জায়গায় আইপিএল জয়ী টিমকে সংবর্ধনা দেওয়া হল? যেখানে তারকা ক্রিকেটার থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপালের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত—সেখানে উন্মাদনার ঢেউ যে আছড়ে পড়বে, সেটা তো খুব সহজে বোঝা যায়।
তারপর দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। যেখানে দর্শকাসন মেরেকেটে ৩৫ হাজার। অথচ বেলা যত গড়ায়, জনস্রোত আরও থিকথিকে হতে থাকে। হাজার পেরিয়ে সংখ্যাটা লাখে পৌঁছয়। এক লাখ থেকে তিন লাখে। ৩৫ হাজারের স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি লাগায় ৩ লক্ষ ভক্ত! সেটাও উপযুক্ত পুলিশি বন্দোবস্ত ছাড়া।
এক ঝাঁক নিরাপত্তারক্ষী বিধান সৌধ সামলাতে ব্যস্ত। বাকি নামেমাত্র পুলিশ মোতায়েন হয়েছে চিন্নাস্বামীর বাইরে। দুটো ভেন্যু একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। এর পরিণতি যা হওয়ার তাই হয়েছে! স্টেডিয়ামে ঢোকার দরজা বন্ধ হওয়ার পর উন্মাদনা বদলে গিয়েছে আক্রোশে। মুহুর্মুহু দরজায় ধাক্কা পড়েছে, একে অন্যের ঘাড়ে হুমড়ি খেয়েছেন, ব্যারিকেড দেওয়া হলেও তা তাসের ঘরের মতো স্রেফ উবে গিয়েছে!
বেঙ্গালুরু পুলিশ বিজয় মিছিলের অনুমতি দেয়নি। নিরাপত্তার কারণ দর্শানো হয়েছিল। কিন্তু কর্নাটকের রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা ও আরসিবি কর্তৃপক্ষ নাকি সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। বিজয় মিছিল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। উপরন্তু মাঠে ঢোকার ফ্রি পাস-ও বিলি হতে থাকে। এতেই আগুনে ঘি পড়ে। লক্ষাধিক মানুষ পা বাড়ান চিন্নাস্বামীর দিকে। পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভে’র খবর চাউর হতে ভিড় লাগামছাড়া হয়ে ওঠে। পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যার বলি এগারো জন সমর্থক।
দিব্যাংশী, ভূমিকারা চেয়েছিলেন সবার আগে পাস হাতে স্টেডিয়ামে ঢুকতে। কিন্তু কাণ্ডজ্ঞানহীন ‘ভক্তি’র পরিণতি কী—সেটা বুঝতে বড্ড দেরি হয়ে গেল!