বাংলাদেশের অনুরোধ নিছক খেলার জায়গা বদলের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং কূটনৈতিক বাস্তবতা।

ফারুক আহমেদ
শেষ আপডেট: 5 January 2026 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (International Cricket Council) জানিয়েছে—ভারতে তাদের ম্যাচ খেলতে তারা অনিচ্ছুক। অনুরোধ একটাই, ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাই মূল কারণ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি শুধু নিরাপত্তা-ভিত্তিক, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন? এবার এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন বিসিবি-র ডিরেক্টর ফারুক আহমেদ (Faruque Ahmed)।
উদ্বেগের সূত্রপাত কোথায়?
ফারুক আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি ঘটনা পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আইপিএল চলাকালীন (Indian Premier League) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের (Mustafizur Rahman) নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders) হয়ে খেলার কথা থাকলেও, শেষমেশ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (Board of Control for Cricket in India) তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ফারুকের দাবি, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া (Devajit Saikia) স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজুরের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই বার্তাই ঢাকায় বাংলাদেশের সরকারের দফতরে গিয়ে পৌছয়। এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
ফারুকের কথায়, ‘একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, পুরো দল ও সাপোর্ট স্টাফকে নিয়ে সফর করা কীভাবে সম্ভব? এটা শুধু ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়। আমরা সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য।’
সরকারের ভূমিকা ও রাজনীতির ছায়া
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে সরাসরি সরকারের অধীনে কাজ করে, সেটা ফারুক আহমেদ বারবারই মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত বিসিবি একা নেয়নি। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ আসে—বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সফর ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি মেনেও নিয়েছেন, রাজনীতির প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। ভারতের কিছু অংশে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক রিপোর্ট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সংবেদনশীল। ফারুক বলেন, ‘যখন বোঝা গেল একজন খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে না, তখন গোটা দলের জন্য সেটা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সরকার তখনই হস্তক্ষেপ করে।’
হাইব্রিড মডেলের যুক্তি: নজির পাকিস্তান
বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরদার করতে ফারুক আহমেদ তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের (Pakistan) উদাহরণ। তাঁর যুক্তি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন হাইব্রিড মডেল নতুন কিছু নয়। ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে বহু টুর্নামেন্টেই ভারত পড়শি দেশে যায় না, আবার পাকিস্তানও ভারতে আসে না। সেক্ষেত্রে দু’দলই নিরপেক্ষ ভেন্যু—দুবাইয়ের (Dubai) মতো জায়গায় খেলে। ফারুকের কথায়, ‘একটা স্বীকৃত হাইব্রিড মডেল রয়েছে। ভারত দুবাইয়ে খেলে, পাকিস্তান ভারতে আসে না। তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আলাদা কিছু হওয়ার কথা নয়।’
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ নিছক খেলার জায়গা বদলের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং কূটনৈতিক বাস্তবতা। এখন দেখার, আইসিসি এই অনুরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয়। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে এই বিতর্ক যে আরও ঘনাবে, তা বলাই বাহুল্য।