Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

Asia Cup: এবার ভারতের কাছে দুরমুশ বাংলাদেশ, এশিয়া কাপের ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া

বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত। ১৬৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ১৯.৩ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১২৭ রানে। 

Asia Cup: এবার ভারতের কাছে দুরমুশ বাংলাদেশ, এশিয়া কাপের ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া

অভিষেক শর্মা

সৌম্য বাগচী

শেষ আপডেট: 24 September 2025 23:44

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত। ১৬৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ১৯.৩ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১২৭ রানে। এদিনও ভারতের জয় এসেছে বাকি ম্যাগুলির মতো অনায়েসেই। এখন সুপার ফোর পর্বের শ্রীলঙ্কা ম্যাচ টিম ইন্ডিয়ার কাছে কেবলমাত্র নিয়মরক্ষার। ভারতের এই জয়ের ফলে এবারের এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কাও। এবার পাকিস্তান—বাংলাদেশ ম্যাচে যে জিতবে, সেই ফাইনালে খেলবে ভারতের সঙ্গে।

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে (Asia Cup 2025, Super Four Match) ভারতের বিরুদ্ধে টসে জিতে (India vs Bangladesh) প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশর অধিনায়ক জাকির আলি। গতকাল অনুশীলনে চোট পেয়েছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। তাই এই ম্যাচে নেই লিটন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম একাদশে এদিন চারটি পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। 

দুবাইয়ের পিচে স্পিনাররা বারবারই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি পাওয়ার প্লেতেও উইকেট পড়তে দেখা গিয়েছে। দলে ভাল স্পিনার থাকায় প্রথমেই বল করার সিদ্ধান্ত নেন জাকির। তবে ভারত অবশ্য তাদের প্রথম একাদশে কোনও পরিবর্তন আনেনি।

প্রথম দুই ওভার পর থেকে এদিন অভিষেক শর্মা ও শুভমন গিল যে ঝড় তুলেছিলেন, মনে হচ্ছিল ভারতের স্কোর ২০০ পার হয়ে যাবে। কিন্তু মাঝের ওভারে দুর্দান্ত বল করলেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষত রিশাদ হোসেন ছিলেন দুরন্ত। ১০ ওভরে ৯৬ রান করেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তুলল ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮। শেষ বলে আউট হন হার্দিক (২৯ বলে ৩৮)। 

জয়ের জন্য ১৬৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ফিরে যান মাত্র এক রান করে। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে ওঠে ৪৪ রান। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষেই জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। তাঁর বলে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন পারভেজ হুসেন ইমন (২১)।

এরপর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি তৌহিদ হৃদয়ের ইনিংসও। অক্ষরের বলে মাত্র সাত রান করে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যান তিনি। ৬৫ রানে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। ভারতের বাকি দুই স্পিনার উইকেট পেলেও বরুণ কাজের কাজ করতে পারছিলেন না। উল্টে তাঁকেই টার্গেট করে নিয়েছিলেন বাংলদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। সামিম হোসেনকে (০) অবশেষে বোল্ড করলেন তিনি। ৭৪ রানে পড়ল বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট। এরপর দলীয় ৮৭ রানে ফিরলেন অধিনায়ক জাকির আলি (৪)। সূর্যর সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হলেন তিনি।

তবে অপর দিকে একের পর এক উইকেট পড়লেও দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান। ৩৬ বলে এল তাঁর অর্ধশতক। ১৩.৪ ওভারে এল বাংলাদেশের ১০০ রান। নিজের শেষ ওভারে তিনটি উইকেট নিতে পারতেন বরুণ। কিন্তু দুটি ক্যাচ মিস হওয়ায় এল মাত্র একটি উইকেট। বরুণ নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি পেলেন মহম্মদ সইফুদ্দিনকে আউট করে।   

নিজের চতুর্থ ওভারের প্রথম ও দ্বিতীয় বলে রিশাদ ও তানজিমকে ফেরালেন কুলদীপ। সেই ওভারেই তিলক বর্মা ক্যাচ মিস না করলে কুলদীপের পকেটে আরও একটি উইকেট আসত। চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে কুলদীপ নিলেন ৩টি উইকেট। চলতি এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকরি এই ভারতীয় স্পিনার। 

বাংলাদেশকে একা টানছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান। দলের সর্বোচ্চ রান (৫১ বলে ৫৯) করে বুমরাহর শিকার হলেন তিনি। বাউন্ডারি লাইনে তাঁর ক্যাচ ধরলেন অক্ষর। সাইফের ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। এরপর আর বাংলাদেশের পক্ষে ম্যাচে ফের সম্ভব হয়নি। তবে বাংলাদেশের শেষ উইকেটটি তুলে নিয় চমকে দিয়েছেন তিলক বর্মা।

এর আগে ভারত তাদের প্রথম দুই ওভারে তোলে মাত্র ১০ রান। দ্বিতীয় ওভারেই স্পিনার নাসুম আহমেদকে নিয়ে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জাকির। ভারতের শুরুটাও অবশ্য এদিন মারকাটারি হয়নি। তিন ওভার শেষে রান ছিল ১৭। তবে ফোর্থ ওভারেই ফোর্থ গিয়ারে কথা বলতে শুরু করে দেয় শুভমন গিলের ব্যাট। সেই ওভারে উঠল ২১ রান। পরের ওভারে মুস্তাফিজুরের ওভারে ১৭। দুই পাঞ্জাব পুত্তরের জুটিতে প্রথম পাঁচ ওভারে উঠল ৫৫ রান আর পাওয়ার প্লেতে উঠল ৭২। চলতি টুর্নামেন্টে যা ভারতের পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রান। এরপরই অবশ্য ৭৭ রানে ভারতের প্রথম উইকেটের পতন হয়। ১৯ বলে ২৯ রান করে রিশাদ হোসেনের শিকার হন শুভমন।

ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ফার্স্ট ডাউনে না নেমে পাঠান শিবম দুবেকে। ২৫ বলে অর্ধশতক এল শর্মাজি বেটার। তবে দুবে অবশ্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। রিশাদের বলে মাত্র ২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। তাতে অবশ্য ভারতের রান ওঠার গতি কমেনি। কারণ ক্রিজে যে ছিলন অভিষেক। প্রথম দশ ওভারে ভারত করে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৬। 

একাদশ ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলের রান ১০০ পার করে দেন অভিষেক। যখন মনে হচ্ছিল ভারতের এই ওপেনারের শতক সময়ের অপেক্ষা, তখনই তিনি ৩৭ বলে ৭৫ রান করে রান আউট হয়ে যান। তাঁর ইনিংসে ছিল ছটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের কথাও বলতে হবে। রিশাদের দুর্দান্ত থ্রো ধরে নন স্ট্রাইকার এন্ডে অভিষেককে আউট করতে ভুল করেননি মুস্তাফিজুর। ফিজের পরের বলেই উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে মাত্র পাঁচ রান করে ফিরলেন অধিনায়ক সূর্য। ফিল্ড আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় পাকিস্তান। 

এরপরই রান ওঠার গতি কমে যায় ভারতের। শুধু তাই নয় দলের ১২৯ রান করে তানজিম হাসান শাকিবের বলে ক্যাচ তুলে মাত্র পাঁচ রান করে ফিরে যান তিলক বর্মা। স্লো পিচে বলও ঠিকমতো ব্যাটে আসছিল না। এরপর হার্দিক ও অক্ষর ভারতের রান পৌঁছে দেন ১৬৮-এ।


```