তাঁকে সমধিক পরিচিত এনে দিয়েছে দুনিয়াজোড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। শুধু আইপিএল (IPL) নয়, সারা দুনিয়ার টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট কাঁপিয়েছেন রাসেল।

আন্দ্রে রাসেল
শেষ আপডেট: 17 July 2025 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল (Andre Russell Retirement))। ঘরের মাঠ সাবিনা পার্কেই (Sabina Park) জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নামতে দেখা যাবে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম চর্চিত পিঞ্চহিটারকে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি২০ সিরিজে দলে জায়গা পেলেও পুরো টুর্নামেন্ট খেলবেন না। প্রথম দুই ম্যাচের ভেন্যু জামাইকার সাবিনা পার্ক। যেখানে ছেলেবেলায় ক্রিকেটের হাতেখড়ি। অনুরাগীদের সেখানেই আলবিদা জানাবেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বিদায়বার্তায় ৩৭ বছরের রাসেলের প্রস্থানের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। বিষণ্ণ রাসেলও। তাঁর কথায়, ‘কী বলব! ছোটবেলায় স্বপ্নেও ভাবিনি, একদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে জায়গা পাব। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্রিকেটই হয়ে উঠল জীবন। দেশের জার্সিতে নাম রাখতে চেয়েছিলাম। সেটা হয়তো করতে পেরেছি!’ আরও যোগ করেন, ‘ঘরের মাঠে, নিজের লোকজনের সামনে খেলার মজা আলাদা। দেশের হয়ে শেষ ম্যাচগুলোও উপভোগ করতে চাই। একটাই আশা, আমি যেন আগামী প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকতে পারি!’
ক্রিকেটের তিন ফর্ম্যাটে মাঠে নামলেও ২০১৯ সালের পর থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন রাসেল। দেশের হয়ে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি (T-20) খেলতেন। এই মঞ্চে ৮৪টি ম্যাচে তাঁর রান ১,০৭৮। গড় ২২ হলেও স্ট্রাইক রেট রীতিমতো ভয়-ধরানো—১৬৩.০৮! ঝুলিতে তিনটি হাফসেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ৭১। শুধু ব্যাট হাতে নয়, বোলার হিসেবেও একই রকম সপ্রভ আন্দ্রে রাসেল। নিয়েছেন ৬১ উইকেট, সেরা বোলিং ৩/১৯। ২০১২ ও ২০১৬— দুই বারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ক্যারিবিয়ান দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
কেরিয়ারে একটিমাত্র টেস্ট খেলেছেন রাসেল। ওয়ান ডে-তে ৫৬ ম্যাচে ১,০৩৪ রান, চারটি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯২। বল হাতে নিয়েছেন ৭০টি উইকেট, সেরা স্পেল ৪/৩৫।
যদিও তাঁকে সমধিক পরিচিত এনে দিয়েছে দুনিয়াজোড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। শুধু আইপিএল (IPL) নয়, সারা দুনিয়ার টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট কাঁপিয়েছেন রাসেল। ৫৬১ ম্যাচে ৯,৩১৬ রান। গড় ২৬.৩৯, স্ট্রাইক রেট ১৬৮-র উপর! দু’টি সেঞ্চুরি, ৩৩টি হাফসেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ স্কোর ১২১*। বোলার হিসেবে তুলেছেন ৪৮৫টি উইকেট। গড় ২৫.৮৫। সেরা বোলিং ফিগার— ৫/১৫।
রাসেলকে শেষবার নামতে দেখা গিয়েছে মেজর ক্রিকেট লিগে (MLC), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কেরিয়ারের পড়ন্তবেলায় লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সের (LAKR) হয়ে সেভাবে দাপট দেখাতে পারেননি। ৯ ম্যাচে ৮ ইনিংসে রান মাত্র ১২৬। একটি হাফসেঞ্চুরি— ৬৫*। উইকেট পেয়েছেন ১০টি। গড় ৩২.৯০। সেরা বোলিং ৩/৩০।
রাসেল ছিলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের এক অন্যধারার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। কখনও বল হাতে চার ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। কখনও তিন নম্বরে উঠে ব্যাট হাতে ২০ বলে পাশা পালটেছেন। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতে এবং শ্রীলঙ্কায় বসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এর আগে নিকোলাস পুরান এবং রাসেলের প্রস্থান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টুর্নেমেন্ট শুরুর আগেই ব্যাকফুটে রাখতে চলেছে।