আজ তাঁর দল ফাইনালে। ভারতের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। একসময় যিনি জাতীয় দলের জার্সি পাননি, তিনিই আজ সেই দলের কোচ হয়ে বিশ্বজয়ের দোরগোড়ায়।
.jpeg.webp)
অমল ও হরমনপ্রীত
শেষ আপডেট: 31 October 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলো–ঝলমলে সাফল্যের দিনে তিনিই নিঃশব্দ নায়ক, বরাবরের মতো আজও নেপথ্যচারী। স্বপ্ন থাকা সত্ত্বেও যিনি মাঠে কখনও দেশের জার্সি গায়ে নামেননি। অথচ আজ ভারতীয় মহিলা দলের (India Women’s Team) কোচ হিসেবে তিনি দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জয়ের এক ধাপ দূরে! তিনি হরমনপ্রীতদের কোচ অমল মজুমদার (Amol Muzumdar)।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন ভারতীয় মহিলা দলের দায়িত্ব নেন, তখন দল খুঁজছিল স্থিরতা। আগের কোচদের আমলে শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে জমেছিল অজস্র প্রশ্ন। অমলের হাতে যখন দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, সেদিন কেউ ভাবেননি, একজন কোচ, যিনি নিজে খেলোয়াড় হিসেবে কখনও জাতীয় দলে খেলেননি, তিনিই একটা টিমকে হাতে গড়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে টেনে তুলবেন।
আসলে ‘কোচ’ অমল মজুমদার জানতেন, পরিচয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্পষ্টতা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মুম্বইয়ের হয়ে খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নামের পাশে ১১ হাজারেরও বেশি রান। ভারতের জার্সি না পেলেও ক্রিকেটকে চিনেছিলেন গভীরভাবে। কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ভারতের জুনিয়র দল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে। মাঠে নামার আগেই তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল স্পষ্ট: ‘বিশ্বাস তৈরি করতে হবে। কথায় নয়, কাজে!’
বিশ্বকাপের শুরুতেই সেই বিশ্বাস নিয়েছিল কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টানা তিন হার। তুমুল সমালোচনা ওঠে। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন আছড়ে পড়ে—এই শান্ত, নরম মেজাজের কোচ কি আদৌ টিমকে টেনে তুলতে পারবেন?
বাইরে যখন তুফান বইছে, সাজঘরে কিন্তু একবারও সংশয় ঘনায়নি। মজুমদার শান্ত থেকেছেন। ম্যাচের আগে তিনি লিখেছিলেন সাদা বোর্ডে—‘ফাইনালে পৌঁছতে হলে শুধু এক রান বেশি তুলতে হবে!’ না কোনও স্লোগান, না কোনও নাটকীয়তা। কেবল পরিষ্কার লক্ষ্য মেলে ধরা। যার ফল—অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রবল প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়, ফাইনালে টিকিট পাকা!
কোচকে নিয়ে দল কতটা আস্থাবান? অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের (Harmanpreet Kaur) ভাষায়, ‘আমরা সবাই বিশ্বাস করি, স্যার যা বলেন সেটা হৃদয় থেকে বলেন। কখনও কঠোর হলেও সেটা আমাদের ভালোর জন্যই।’টিমের অন্দরে তাঁর প্রভাব নীরব, কিন্তু গভীর। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নজর কেড়েছে। ক্রান্তি গৌড় (Kranti Goud) ও শ্রী চরণির (Shree Charani) মতো তরুণ বোলারদের সুযোগ দেওয়া বা ম্যাচের মাত্র কয়েক মিনিট আগে জেমাইমা রদিগেজকে (Jemimah Rodrigues) তিন নম্বরে নামানোর সিদ্ধান্ত—সবই এসেছে তাঁর কৌশলগত সাহস থেকে।
‘জেমাইমার মধ্যে সবসময়ই দেখেছি ধৈর্য ও টেম্পারামেন্ট। তাই মনে হয়েছিল, ও-ই ম্যাচ ঘোরাতে পারবে!’ অকপটে বলেছেন মজুমদার। কোচিং স্টাইলে যিনি ‘টেড লাসো’-র মতো—আত্মবিশ্বাসী কিন্তু সহানুভূতিশীল। কঠোর নয়, বরং সংবেদনশীল নেতৃত্ব। খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগই আসল শক্তি। ক্রিকেটারদের হাসতে, হালকা থাকতে বলেন। বিশ্বাস করেন, চাপ নয়, স্বস্তি থেকেই আসে আসল পারফরম্যান্স। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়েও অমল অবিচল থেকেছেন। বলেছেন, ‘সব ব্যর্থতা খারাপ নয়। কখনও কখনও ছোট ভুলই শেখায় অনেক বড় কিছু!’
আজ তাঁর দল ফাইনালে। ভারতের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। একসময় যিনি জাতীয় দলের জার্সি পাননি, তিনিই আজ সেই দলের কোচ হয়ে বিশ্বজয়ের দোরগোড়ায়।