চিন্নাস্বামী নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। কেএসসিএ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম
শেষ আপডেট: 16 January 2026 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলের (IPL) মাঠে ক্রিকেট যতটা, তার চেয়ে বেশি করে আলোচনায় নিরাপত্তা। আর সেই জায়গাতেই বড় সিদ্ধান্তের পথে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru)। ২০২৬ মরশুমের আগে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে (M. Chinnaswamy Stadium) ৩০০ থেকে ৩৫০টি এআই–চালিত ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে তারা। লক্ষ্য একটাই—ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং ম্যাচের দিনে সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এই প্রস্তাব ইতিমধ্যে কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (Karnataka State Cricket Association) কাছে পৌঁছেছে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই এআই সিস্টেম স্টেডিয়ামের ঢোকা–বেরোনোর প্রতিটি পয়েন্ট রিয়েল–টাইমে নজরে রাখবে। কিউ ম্যানেজমেন্ট, জনসমাগমের চাপ বোঝা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি আগেভাগে চিহ্নিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
চিন্নাস্বামীর ক্ষত এখনও তাজা
এই উদ্যোগ হঠাৎ নয়। গত বছর ৪ জুন, আরসিবির প্রথম আইপিএল খেতাব জয়ের পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা নিয়ে তখন প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। সেই ঘটনার পরই একাধিক বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক তালিকা থেকে বাদ পড়ে চিন্নাস্বামী—এর মধ্যে ছিল মেয়েদের বিশ্বকাপও (Women’s World Cup)।
এই প্রেক্ষাপটেই আরসিবির দাবি, এআই ক্যামেরা শুধু নজরদারি নয়, আগাম সতর্কতার হাতিয়ার। ভিড়ের আচরণ, হঠাৎ বিশৃঙ্খলা, মারপিট বা বেআইনি প্রবেশ—সবই রিয়েল–টাইম ভিডিও অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে ধরা পড়বে। ফলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করাও সহজ হবে।
পুণে কি তবে বিকল্প ঠিকানা?
এখানেই ছবিটা একটু জটিল। একদিকে বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস, অন্যদিকে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের (Maharashtra Cricket Association Stadium) সঙ্গে আলোচনা। সূত্রের খবর, পুণের স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরসিবি ও রাজস্থান রয়্যালসের (Rajasthan Royals) প্রতিনিধিরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বৈঠক করেছেন। উদ্দেশ্য—২০২৬ আইপিএলে হোম ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
পুণের স্টেডিয়াম অতীতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ (ODI World Cup) সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করেছে। অর্থাৎ, বিকল্প ভেন্যু হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আরসিবির এআই প্রস্তাব কি সত্যিই চিন্নাস্বামী বাঁচানোর শেষ চেষ্টা, নাকি ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রেখেই চাপ বাড়ানো?
খরচ আর প্রযুক্তির অঙ্ক
আরসিবি জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের পুরো খরচ তারাই বহন করবে। প্রযুক্তি পার্টনার হিসেবে রয়েছে স্ট্যাক (Staqu)—যারা দেশের একাধিক রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছে। এই সংস্থার এআই সিস্টেমে রয়েছে ফেসিয়াল রিকগনিশন, ভিড় বিশ্লেষণ, যানবাহন ও অবজেক্ট ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা। আরসিবির বক্তব্য, ‘এই প্রযুক্তি কেএসসিএ এবং পুলিশের হাতে এমন এক শক্তিশালী টুল তুলে দেবে, যা ম্যাচের দিন ভিড় নিয়ন্ত্রণে গেমচেঞ্জার হতে পারে।’
সব মিলিয়ে, চিন্নাস্বামী নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। কেএসসিএ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—আইপিএলে ক্রিকেটের পাশাপাশি নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আরসিবি সেই ম্যাচে কতটা জেতে, আদৌ জেতে কিনা—তার ফল জানা যাবে খুব শিগগিরই।