বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে ভারতের একমাত্র বড় সিম-সহায়ক সফর নিউজিল্যান্ডে, আগামী বছরের শেষ দিকে। তার আগে গিলের হাতে সময় আছে বোলিং ইউনিটকে নতুন করে সাজানোর।

গম্ভীর-শুভমান
শেষ আপডেট: 5 August 2025 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেকর্ড পাল্টানো যায় না। খোদাই করা থাকে। ইতিহাস বলবে, ইংল্যান্ড সফর ড্র করে বাড়ি ফিরেছে টিম ইন্ডিয়া। আর সেই দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। দলনায়ক হিসেবে অভিষেক সিরিজে এমন সাফল্য ঈর্ষণীয়। তরুণ বাহিনীকে একসূত্রে গেঁথে দল পরিচালনার যে নমুনা পেশ করেছেন বছর পঁচিশের শুভমান, তা প্রশংসার যোগ্য।
কিন্তু এতকিছুর পরেও আগামী টেস্ট সফরের জন্য পাকাপোক্ত দল তৈরি করতে পারেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম একাদশ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা, প্রশ্ন। সওয়াল উঠেছে, কে দায়িত্ব নিয়ে দল বাছাই করেছে? অধিনায়ক নাকি কোচ? বাকি বাইরের কেউ?
ট্যুরের আগে গিল নিজেই স্বীকার করেছিলেন, এশিয়ার বাইরে তাঁর টেস্ট রেকর্ড ভাল নয়। এটা বদলাতে হবে। সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হতে চান—বুকে ঠুকে টার্গেট স্থির করে দেন। প্রথমবার ইংল্যান্ড সফরে ৭৫৪ রান তুলে শুভমান বুঝিয়ে দিলেন—চাপ তাঁকে পিছু ঠেলে না, বরং প্রশ্ন উঠলেই জ্বলে ওঠেন তিনি। ব্যাট হাতে অসাধারণ ধারাবাহিকতার পাশাপাশি তরুণ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বেন স্টোকসদের বিরুদ্ধে সম্মানজনক ড্র এনে তিনি অধিনায়ক হিসেবেও ছাপ রাখলেন। শুধু একটি প্রশ্ন রয়ে গেল—দলে চূড়ান্ত একাদশ বাছাইয়ের শেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে?
কোহলি ও রোহিতের অবসর নেওয়ার পর নতুন ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু ফলাফল যথেষ্ট ইতিবাচক। পাঁচ টেস্টে ভারতীয় ব্যাটাররা করেছেন ১২টি সেঞ্চুরি। চারটি শতরান হাঁকিয়ে নেতৃত্বে দিয়েছেন গিল নিজেই। সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ও অভিজ্ঞ কেএল রাহুলের দুটি করে সেঞ্চুরি। তরুণ যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাট থেকেও এসেছে সমসংখ্যক শতরান। ম্যানচেস্টারে রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর ম্যাচ বাঁচানো ডাবল সেঞ্চুরি জুটিতে নিজেদের শতক পূর্ণ করেন।
এই সিরিজে ভারত ১০ ইনিংসের মধ্যে আটবার ৩৫০-র বেশি রান তুলেছে। যা টেস্ট ইতিহাসে নজিরবিহীন। ওভালে সবচেয়ে কঠিন উইকেটে প্রথমে ব্যাট করে ২৩ রানের পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯৬ রান তুলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে ভারত।
হেডিংলির প্রথম টেস্টের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছিল দল। সেখানে ভারত সাত উইকেটে ৪১ ও ছয় উইকেটে ৩২ রানে ধস নেমে ‘হারা যায় না’ ম্যাচ হেরেছিল। অথচ ওই ম্যাচেই পাঁচটি শতরান আসে এবং জসপ্রীত বুমরা প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। এরপর থেকে ভারত ব্যাটিং গভীরতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্পেশালিস্ট বোলারের সংখ্যা কমিয়েছে। যে কারণে বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদবকে বারবার দলের বাইরে থাকতে হয়। যদিও শেষপর্যন্ত তা খুব বেশি ক্ষতি করেনি। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ। তাই গিলের এহেন রক্ষণশীল সিদ্ধান্তকে কিছুটা ছাড় দেওয়া যেতে পারে।
এতকিছুর পরেও কুলদীপ আগামী সিরিজে দলে ফিরবেন বলেই মনে হয়। অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুটি করে টেস্ট। সবকিছু ঠিক থাকলে জাদেজা, সুন্দর ও কুলদীপকে নিয়ে তিন স্পিনারের আক্রমণ গড়া হবে। শেষ ঘরের সিরিজে ভারতীয় দল ভয়ঙ্কর ব্যর্থ—নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০-৩ হার। লজ্জাজনক হোয়াইটওয়াশ! তখন থেকেই রোহিতের অধিনায়কত্ব ও টেস্ট কেরিয়ার অস্তাচলে ঢলে পড়ে। এবারের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যারা অতিসম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ল্যাজেগোবড়ে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে স্পিনারদের সামনে তারাও টলমল!
ঘরের মাঠে পেস অ্যাটাক তেমন কাজে আসবে না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে ভারতের একমাত্র বড় সিম-সহায়ক সফর নিউজিল্যান্ডে, আগামী বছরের শেষ দিকে। তার আগে গিলের হাতে সময় আছে বোলিং ইউনিটকে নতুন করে সাজানোর। একসময়কার সমৃদ্ধ পেস ভাণ্ডার এখন প্রায় লুপ্ত। আকাশ দীপের চোট লেগেই চলছে। বুমরার পিঠের ব্যথা সারছে না। নতুন প্রজন্মের পেসারদের মধ্যে আঘাতের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছেন বটে, তবে ওভার প্রতি পাঁচ রান খরচ করলে নির্বাচনে ঝুঁকি থেকে যায়!
গিল জানেন, হাতে থাকা সম্পদ নিয়েই তাঁকে কাজ করতে হবে। তবু তিনি কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের (আগের এনসিএ) প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পেসারদের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারেন।
সিরিজে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কাজে লাগাতে পারলে গিলের প্রথম পরীক্ষার ফল ‘সম্পূর্ণ সফল’হত। তবু যেটুকু করেছেন, যথেষ্ট। ভারতের ভবিষ্যৎ টেস্ট দলের হাল ধরার জন্য শুভমানই একমাত্র বিকল্প। আর সেটাই টিম ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা।