এই ক’বছরে বহুবার দলের সঙ্গে বিদেশে সফরে গিয়েছেন। নাম উঠেছে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে। কিন্তু প্রথম একাদশের ক্যাপ মাথায় পরার সুযোগ পাননি।

কুলদীপ যাদব
শেষ আপডেট: 31 July 2025 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে করা হচ্ছিল, জসপ্রীত বুমরাহ যখন অনিশ্চিত, তখন তাঁর যোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন অর্শদীপ সিং।
এটা সিরিজ শুরুর অনুমান। আজ, ওভালে সফরের পঞ্চম তথা অন্তিম টেস্ট শুরু হয়েছে। সেখানে ঠাঁই জোটেনি পাঞ্জাবি পেসারের। গত চারটি টেস্টেও একই গল্প। কখনও চোট-আঘাত, কখনও টিম কম্বিনেশন—অর্শদীপের বাদ পড়ার কারণ সময় সময় বদলে গিয়েছে।
সিরিজে ভারত দুরন্ত কামব্যাক করে সিরিজ ড্র করে বাড়ি ফিরতে পারে কি না, সেটা পাঁচদিন বাদেই বোঝা যাবে। কিন্তু চলতি সফরে যে সমস্যা গৌতম গম্ভীর-সহ টিম ম্যানেজমেন্টকে সবচাইতে বেশি ভুগিয়েছে, সেটা প্রথম একাদশ বাছাই। বোলার-অলরাউন্ডার নিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই জাত বোলারদের ঘাড়ে খাঁড়ার ঘা নেমে এসেছে। অর্শদীপকেও সম্ভবত তার বলি হতে হল।
এমনিতে টি-২০-তে জাতীয় দলের বোলিং ইউনিটের বিশ্বস্ত মুখ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে টিম ইন্ডিয়ার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। অথচ টেস্টে অভিষেক পর্যন্ত হয়নি! এর কারণ ঠিক কী? ইংল্যান্ড থেকে বাড়ি ফিরে জবাব খুঁজতে বসবেন অর্শদীপ। বুমরাহ যখন চোট-আঘাত আর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ধাক্কায় বিপর্যস্ত, তখন নির্বাচকদেরও আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে। সত্যিই অর্শদীপ এত লম্বা সময় বাইরে থাকার যোগ্য?
দ্বিতীয় যে খেলোয়াড় নিছক স্কোয়াড প্লেয়ার হয়ে রয়ে গেলেন, ইংল্যান্ডের ময়দানে নামার সুযোগ পেলেন না, তিনি কুলদীপ যাদব। তাঁকে দলে না দেখে অবাক বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ। লর্ডস, এজবাস্টনের বাইশ গজে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারতেন এই বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার। ফ্ল্যাট উইকেটেও উইকেট শিকার করার ক্ষমতা রয়েছে। দলে দুই অলরাউন্ডার স্পিনার হিসাবে ওয়াশিংটন সুন্দর ও রবীন্দ্র জাদেজাকে রাখার কোনও দরকার ছিল কি? প্রশ্ন উঠেছে। বুমরাহ যেখানে খেলেননি, কিংবা খেললেও ক্লান্তির কারণে নির্বিষ-নিষ্প্রভ দেখিয়েছে, সেখানে কুলদীপের উইকেট তোলার ক্ষমতা জাদেজা বা সুন্দরের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হতে পারত!
টিম ইন্ডিয়ার চায়নাম্যান বোলার এখনও পর্যন্ত ১৩টি টেস্ট খেলে ৫৬ উইকেট নিয়েছেন। এতদিন তিনি ঢাকা পড়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার ছায়ায়। ভারতীয় দল থেকে অশ্বিনের বিদায় কুলদীপ যাদবের জন্য ভারতের টেস্ট দলে জায়গা পাকাপোক্ত করার পথ সুগম করেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শুভমান গিলের (Shubman Gill) ধারণা ভিন্ন। যেমন, এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দ্বিতীয় স্পিনার খেলানোর প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও, গিল-গম্ভীর জুটি কুলদীপের পরিবর্তে ওয়াশিংটন সুন্দরকে দলে বেছে নেন। বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে গিল জানান: 'ব্যাটিং গভীরতা' বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। তা কি ভারতকে আখেরে ব্যাকফুটে ঠেলল না? প্রশ্নটা ইতিমধ্যে কাঁটার মতো বিঁধতে শুরু করেছে।
তিন নম্বর নাম অভিমন্যু ঈশ্বরন। জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পর মোট ৯৬১ দিন কেটেছে। কিন্তু একটি ম্যাচেও টিম ইন্ডিয়ার ব্যাগি ব্লু টুপি মাথায় দেওয়ার সু্যোগ পাননি অভিমন্যু। তাঁকে টপকে কারা কারা সুযোগ পেয়েছেন সেই তালিকা ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট হোক চায় প্রস্তুতি ম্যাচ—সবেতেই রান কুড়নো সত্ত্বেও জাতীয় দলের বন্ধ দরজার তালা কিছুতেই খুলতে পারছেন না প্রতিভাবান ব্যাটার। এটা নেহাতই দুর্ভাগ্য? নাকি তিনি পরিকল্পিত বঞ্চনার শিকার? ইংল্যান্ড সিরিজের অন্ত্যপর্বে প্রশ্নটা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
এই ক’বছরে বহুবার দলের সঙ্গে বিদেশে সফরে গিয়েছেন। নাম উঠেছে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে। কিন্তু প্রথম একাদশের ক্যাপ মাথায় পরার সুযোগ পাননি। প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর তাঁকে ডিঙিয়ে যাঁরা দলে নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা হলেন: কেএস ভরত, সূর্যকুমার যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল, ঈশান কিষান, মুকেশ কুমার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, রজত পাটিদার, সরফরাজ খান, ধ্রুব জুরেল, আকাশ দীপ, দেবদত্ত পাড়িক্কল, নীতীশকুমার রেড্ডি, হর্ষিত রানা, সাই সুদর্শন ও অংশুল কম্বোজ। এঁদের সকলেই কি ধারেভারে, যোগ্যতায়-গুণমানে অভিমন্যুর চাইতে এগিয়ে? কীসের ভিত্তিতে এত খেলোয়াড়ের ভিড়ে নাম তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি? করুণ নায়ার বাদ পড়ার পর যদি একই সিরিজে ফের কামব্যাক করতে পারেন, তাহলে অভিমন্যুকে খেলানো হচ্ছে না কেন? প্রশ্ন অনেক। জবাব অধরা।