জারিনা ওয়াহাব জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাংলা ছবিতে হাতেখড়ি করলেন। কিন্তু তিনি বাংলা ছবিতে কিছুই দাগ কাটতে পারলেন না।

জারিনা ওয়াহাব । গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 June 2025 13:17
সুবোধ ঘোষের জনপ্রিয় প্রেমের কাহিনি 'চিত্ত চকোর' অবলম্বনে বাসু চট্টোপাধ্যায় ১৯৭৬ সালে 'চিৎচোর' হিন্দি ছবি বানিয়েছিলেন। সাতের দশকের অ্যাকশন গ্ল্যামারাস ছবির যুগে এমন আটপৌরে প্রেমের ছবি দর্শক হল হাউসফুল করে দেখেছিল। 'চিৎচোর' কাল্ট ছবি আজও। অমল পালেকর ও জারিনা ওয়াহাব দুই প্রথাবর্হিভূত হিরো-হিরোইন এক ছবিতেই স্টার বনে যান। ভীষণ সাধারণ মধ্যবিত্ত গল্প বলিউডে এক নতুন ছবির ঘরানা শুরু করেছিল। সেই জারিনা ওয়াহাব জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাংলা ছবিতে হাতেখড়ি করলেন। কিন্তু তিনি বাংলা ছবিতে কিছুই দাগ কাটতে পারলেন না। কেন এলেন বাংলা ছবি করতে সেটাই বড় প্রশ্ন।
জারিনা ওয়াহাব এই ছবি কেন করতে এলেন? এক অকিঞ্চিতকর মায়ের চরিত্রে টিবি রোগীর ভূমিকায় দু মিনিটের রোল। এই চরিত্র তো কলকাতার যে কেউ করে দিতে পারতেন। তার ওপর ৬৫ পেরনো জারিনা দুই কিশোরের মায়ের চরিত্রে একেবারেই বেমানান। চিত্রনাট্যের দাবী মিটিয়েছেন মাত্র। 'চিৎচোর' নায়িকার একমাত্র বাংলা ছবিতে প্রতিভার অপচয় হল। তবু যদি 'করণ-অর্জুন' ছবির রাখী গুলজারের বলিষ্ঠ মায়ের মতো রোল পেতেন! হতাশ করলেন পরিচালক।

শৌভিক দে পরিচালিত 'ব্রহ্মার্জুন' বাংলা ছবিতে ডেবিউ করলেন বলিউড অভিনেত্রী জারিনা ওয়াহাব। তিনি বাংলা ছবি করতে আসছেন অনেকদিন খবর ছিল। শর্মিলা,রাখী,মৌসুমী আর জারিনার বাংলা ছবি একই সময়ে পরপর মুক্তি পেল। কিন্তু জারিনার উপস্থিতি সবথেকে নগন্য।
দুই অনাথ কিশোরের পাপের পথে চলে যাবার গল্প নিয়ে 'ব্রহ্মার্জুন' বাংলায় অ্যাকশন ছবি। রোহন ভট্টাচার্য আর অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, দুই হিরো নির্ভর ভীষণ রকম অ্যাকশন গল্প। এই দুই হিরো যখন কিশোর তখন তাঁদের মায়ের ভূমিকায় দেখা মিলল জারিনা ওয়াহাবের। না তিনি বাংলায় সংলাপ বলেননি। সবটাই হিন্দিতে তাঁর সংলাপ। কিন্তু তাঁর ক্ষণিকের উপস্থিতি দেখে মনে হল তিনি কী কলকাতা ঘুরতে এসে মুখ দেখানোর জন্যই ছবিটি করলেন? এত বলি নায়িকারা বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন কারোর এমন অকিঞ্চিতকর উপস্থিতিতে বাংলাতে ডেবিউ হয়নি।

যদিও জারিনার এই মায়ের চরিত্রটি আবেগপ্রবণ। কিন্তু অকিঞ্চিতকর। অনাথ অর্জুন মণ্ডলকে দিয়ে গল্পের শুরু। সে হিন্দু হলেও বেড়ে ওঠে এক মুসলিম চাচার কাছে। অর্জুনের ভুল সে কৈশোরেই প্রেমে পড়ে মেহজমিনের। কিন্তু সেই কিশোরীর বাবা শেখমুলুকের চোরা কারবারি নেতা আলম শেখ। আলম শেখ অর্জুনকে মেরেধরে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। ধর্মহারা, বাস্তুহারা হয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় অর্জুন। এইসময় সে আশ্রয় পায় ব্রহ্মার বাড়িতে। ব্রহ্মার মা নিজের সন্তানের সঙ্গে মানুষ করে অর্জুনকে। কিন্তু ক'দিন যেতেই মারা যায় ব্রহ্মার মা। দুই অনাথ কিশোর লক্ষ্মীর ভাড় ভেঙে দেখে তাদের জীবন এই কটা পয়সায় চলবে না। তাই তারা পথে বেরিয়ে পড়ে। তাঁদের আশ্রয় দেয় অন্ধকার জগতের নরেশ পাল। যে দুই কিশোরকে অন্ধকার জগতের নতুন ত্রাস তৈরি করে তোলে।

কিন্তু আদিত্য পাঞ্চোলী জায়া, জারিনা ওয়াহাব এই ছবি কেন করতে এলেন? এক অকিঞ্চিতকর মায়ের চরিত্রে টিবি রোগীর ভূমিকায় দু মিনিটের রোল। এই চরিত্র তো কলকাতার যে কেউ করে দিতে পারতেন। তার ওপর ৬৫ পেরনো জারিনা দুই কিশোরের মায়ের চরিত্রে বেমানান। বলিরেখা ভীষণ স্পষ্ট পর্দায়। তিনি চিত্রনাট্যের দাবী মিটিয়েছেন মাত্র। 'চিৎচোর' নায়িকার একমাত্র বাংলা ছবিতে প্রতিভার অপচয় হল। তবু যদি 'করণ-অর্জুন' ছবির রাখী গুলজারের মতো রোল পেতেন! টিবি রোগী হয়ে মুখ দিয়ে রক্ত তুলতে তিনি বাংলা ছবিতে পা রাখলেন?
হয়তো সৌজন্য সম্পর্কের খাতিরেই জারিনা এমন একটি বাংলা ছবি করে দিলেন। শুধুমাত্র তাঁর বিখ্যাত নামটি ব্যবহার করা হল ছবির জনপ্রিয়তা বাড়াতে। অভিনেত্রীর প্রতিভার ব্যবহার আদৌ হল না। 'ব্রহ্মার্জুন' নতুন যুগের হিরোদের অ্যাকশন মুভি। এই ছবি জারিনা ওয়াহাবের ছবি ভেবে দেখতে গেলে হতাশ হবেন দর্শকরা। শৌভিক দের একটি ছোট ছবিতেও কাজ করেছেন জারিনা। এমন এক অভিনেত্রীকে আরও বলিষ্ঠ চরিত্রে কাজে লাগাতে পারতেন পরিচালক! সে চেষ্টা তিনি করলেন না। হয়তো জারিনা কলকাতা থেকে সে সময় পরিচালককে দিলেন না। 'ব্রহ্মার্জুন' ছবি থেকে জারিনার মৃত্যুর পর শুধুই প্রাপ্তি ইমন চক্রবর্তীর কন্ঠে 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' গানটি।