একাধিক ছবি পরিচালনা করলেও, পরিচালক শতাব্দীর থেকেও কবি শতাব্দী রায় বেশি সফল হয়েছিলেন।

শতাব্দী রায় । গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 June 2025 20:02
মহুয়া রায়চৌধুরীর প্রয়াণের পর, তখন টলিউডে একমাত্র দেবশ্রী রায়ের সাম্রাজ্য। সব পরিচালকদেরই প্রথম পছন্দ শুধুই দেবশ্রী। তাপস পাল, চিরঞ্জিত, প্রসেনজিৎ তিন নায়কের প্রথম পছন্দের নায়িকাও ছিলেন দেবশ্রী। তার ওপর প্রসেনজিতের সঙ্গে দেবশ্রীর ছিল প্রেমের সম্পর্ক। তাঁদের জুটি অন্য নায়িকা এসে ভাঙে কার সাধ্য!
কিন্তু ১৯৮৬ সালে তপন সিনহার 'আতঙ্ক' ছবি দিয়ে টলিউডে অভিষেক ঘটল নবাগত অভিনেত্রী শতাব্দী রায়ের। বিএফজেএ পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন শতাব্দী। তবে নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেলেন শতাব্দী তাপস পালের বিপরীতে 'অমর বন্ধন' ছবিতে। ১৯৮৭ সালে অঞ্জন চৌধুরীর 'গুরুদক্ষিণা' ছবিতে তাপস পালের বিপরীতে নায়িকা হতেই শতাব্দী রায়ের আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা হয়ে যায়। লাল সালোয়ার-কামিজ পরে শতাব্দীর নাচ 'ফুল কেন লাল হয়' বিপুল জনপ্রিয় হয়েছিল। যা হয়ে যায় শতাব্দীর সিগনেচার গান।

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। চিরঞ্জিত, তাপস পাল, প্রসেনজিৎ তিন নায়কের পাশেই হিট মেশিন নায়িকা হয়ে এলেন শতাব্দী। শুধু তাই নয়, দেবশ্রী রায়ের পাশাপাশি একই আসনে জায়গা করে নিলেন শতাব্দী রায়। এমনকি শতাব্দীকে নায়িকা করতে, দেবশ্রীকে নানা ভাবে বোঝাতে লাগলেন প্রসেনজিৎ। তখন টালিগঞ্জ পাড়ার নায়িকা মানেই দুই রায়। দেবশ্রী রায় ও শতাব্দী রায়।

কিন্তু ঠিক নব্বই দশকের শুরুতেই টলিপাড়ায় প্রভাত রায়ের হাত ধরে উদয় হল নতুন নায়িকার। অপর্ণা সেনের 'শ্বেত পাথরের থালা' ছবিতে নবাগত ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অনেকে আবার ঋতুপর্ণাকে শতাব্দীর বোন বলে গুলিয়েও ফেললেন। ততদিনে প্রসেনজিতের সঙ্গে দেবশ্রী রায়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়াতে, দেবশ্রীর জমানা ফিকে হয়ে এসছে। একমাত্র টলিউড শাসন করছেন শতাব্দী রায়।

ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে প্রথমে দেবশ্রী রায়, পরে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত দু'জনেই পেলেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। সঙ্গে ইন্দ্রাণী হালদারও পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার। কিন্তু বানিজ্যিক ছবিতে এক ভাবে নায়িকার দাপট দেখাবার সুযোগ ইন্দ্রাণী পাননি। ইন্দ্রাণী দুষেছিলেন প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটিকেই।
ঋতুপর্ণ ঘোষের পছন্দের নায়িকা শতাব্দী রায় কোনওদিনই ছিলেন না। শতাব্দীকে দেবার মতো রোলও ঋতুপর্ণ খুঁজে পাননি। তাহলেও একসময় মেনস্ট্রিম ছবির হায়েস্ট পেড নায়িকা ছিলেন একমাত্র শতাব্দী রায়। অজস্র ছবি তখন লাল পান বিবির হাতে। পাশাপাশি চলছে সারা গ্রাম বাংলায় রাতের ফাংশন, জলসা মাতিয়ে শতাব্দীর দাপট।

জাতীয় পুরস্কার না পেয়েও শতাব্দীর জনপ্রিয়তা কিছু কমেনি। বরং তাঁকে হ্যাঁ করানোর জন্য পরিচালক, প্রযোজকদের কালঘাম ছুঁটে যেত। এমনকি শ্যুটিং সামলে কোনও মতে ডেট বার করে ২০০০ সালে বিয়ে করেন শতাব্দী। সংসার আর রাজনীতির জগৎ সামলে এরপর পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন শতাব্দী রায়। একাধিক ছবি পরিচালনা করলেও, পরিচালক শতাব্দীর থেকেও কবি শতাব্দী রায় বেশি সফল হয়েছিলেন।

বহু বছর পর পরিচালকের খোলস ছেড়ে, আবার অভিনয়ে ফিরলেন শতাব্দী রায়। মুক্তি পেল মৈনাক ভৌমিকের পরিচালনায় নতুন ছবি 'বাৎসরিক'। এই শতাব্দী অনেক পরিণত, অনেক পথ পেরনো ব্যক্তিত্ব। নতুন রূপে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন দেখা যাক নতুন মাত্রা যোগ করে কিনা? শুভেচ্ছা বকুল প্রিয়াকে।