অনিল কাপুর চেয়েছিলেন হেমা মালিনী নয়, মুমতাজ তাঁর শাশুড়ির ভূমিকায় অভিনয় করুন। কিন্তু মুমতাজ এই ছবির অফার ফিরিয়ে দেন। হয়তো খলনায়িকা বলেই মুমতাজ করতে চাননি।

'জামাই রাজা'র থেকে 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ'। গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 26 May 2025 20:39
আবার 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ' (Sasurbari Zindabad), ২৫ বছর পর প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটি পর্দা কাঁপাতে আসছেন ৩০ মে। ২০০০ সালে মুক্তি পেয়েছিল হরনাথ চক্রবর্তীর সুপার ডুপার হিট বাংলা ছবি 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ'। ভেঙ্কটেশ ফিল্মকে লক্ষ্মীলাভ এনে দেয় এই ছবি। ২৫ বছর পর আবার সেই ছবি বড় পর্দায় রিরিলিজ করছে। সে সময় রিমেক ছবির ট্রেন্ড শুরু হয়েছিল টালিগঞ্জ পাড়ায়। অনেকেই বলত 'টোকা ছবি'র জমানা এল ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু সেই ধারাতেই বক্সঅফিসে ঝড় তুলেছিল 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ'। হিন্দি ছবি 'জামাই রাজা'র অনুকরণে তৈরি হয় 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ'। তবে 'জামাই রাজা'ও কিন্তু ছিল তেলেগু ছবি 'Attaku Yamudu Ammayiki Mogudu'র রিমেক। একই পরিচালক এ কে রেড্ডি হিন্দিতে 'জামাই রাজা' (Jamai Raja) বানিয়েছিলেন।
১৯৯০ সালের সুপারহিট ছবি ছিল 'জামাই রাজা'। দুর্গেশ্বরী দাপুটে শাশুড়ির ভূমিকায় হেমা মালিনী। ড্রিম গার্ল ইমেজ ছেড়ে সেই প্রথম হেমা এমন খলনায়িকা শাশুড়ির ভূমিকায় অভিনয় করলেন। দুর্গেশ্বরী নামটা তখন লোকের মুখে মুখে ফিরত। হেমার মেয়ের চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিত ও তাঁর বিপরীতে হিরো অনিল কাপুর। হেমা খলনায়িকা হলেও তাঁর ব্যক্তিত্বের গ্রেস কিন্তু মেলায়নি। ভীষণ আভিজাত্যপূর্ণ সাজেই গম্ভীর চরিত্রে হেমা দর্শক মন জয় করে নেন। মাধুরী দীক্ষিত আর অনিল কাপুরের রসায়ন জমে ক্ষীর হয় পর্দায়। তবে বেশি জমেছিল জামাই অনিল কাপুর আর শাশুড়ি হেমা মালিনীর রসায়ন। বড়লোক শাশুড়ি কিছুতেই মেনে নেবে না বেকার বাউন্ডুলে জামাইকে। দুই সময়ের দুই স্বপ্নসুন্দরী নায়িকা হেমা মালিনী আর মাধুরী দীক্ষিতের একসঙ্গে স্ক্রিনশেয়ার পর্দায় অন্য মাত্রা এনেছিল।


হেমা মালিনী কিন্তু ছবি দেখার পর একদম খুশি হননি। তিনি রেগে গিয়ে বলেছিলেন ভুল ভাবে তাঁর চরিত্রটি উপস্থাপিত করা হয়েছে। যা তাঁর ক্যারিয়ারে সবথেকে খারাপ চরিত্র। যদিও হেমা খুব চর্চায় ছিলেন দুর্গেশ্বরী চরিত্রে।
এদিকে অনিল কাপুর চেয়েছিলেন হেমা মালিনী নয়, মুমতাজ তাঁর শাশুড়ির ভূমিকায় অভিনয় করুন। কিন্তু মুমতাজ এই ছবির অফার ফিরিয়ে দেন। হয়তো খলনায়িকা বলেই মুমতাজ করতে চাননি।

হরনাথ চক্রবর্তী ১০ বছর পর 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ' করলেন 'জামাই রাজা'র আদলে। কিছুটা প্লট পরিবর্তন হলেও মূল নির্যাস এক ছিল।
অনামিকা সাহা প্রথমে বেশ ভয় পেয়েছিলেন ড্রিম গার্ল হেমা মালিনীর চরিত্রে তাঁকে দর্শক নেবে কিনা ভেবে।

অনেকে তামাশা করে অনামিকাকে বলেছিলেন 'কুলোরও সাধ হয় চিৎ হয়ে শুতে'। কিন্তু অনামিকা এই শাশুড়ির রোলটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। আর তারপর তো ইতিহাস। বাংলার আমজনতা হেমা মালিনীর থেকেও বেশি মনে রাখল অনামিকা সাহাকে। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার জুটির সফল ছবি হিসেবেও ইতিহাসে রয়ে যাবে 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ'।