'ওগো বধূ সুন্দরী' দেখতে দেখতে বারবার 'মাইফেয়ার লেডি' র সঙ্গে তুলনা করে ফেলছিলাম। দুটো ছবির আকাশ আর পাতাল তফাত।

'ওগো বধূ সুন্দরী'
শেষ আপডেট: 6 June 2025 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির ম্যাটিনি আইডল উত্তমকুমার জীবনের শেষ শট দিয়েছিলেন 'ওগো বধূ সুন্দরী' ছবিতে। ১৯৮০ র ২৪ শে জুলাই উত্তমকুমারের মৃত্যুতে সারা বাংলার মানুষ চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছিল। তারপরের বছর ১৯৮১তে রিলিজ করে উত্তমকুমার, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় ও মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবি 'ওগো বধূ সুন্দরী'। মৃত্যুর পর মহানায়ককে দেখতে দর্শকের ঢল নেমেছিল বাংলার প্রতিটি সিনেমাহলে। তবে দীপঙ্কর দে একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন 'শেষ ছবিতে উত্তমদার অভিনয় খুব খারাপ, 'ওগো বধূ সুন্দরী' হিট করেছিল সিমপ্যাথেটিক গ্রাউন্ডে।'
উত্তম পরবর্তী যুগের সফল নায়ক ছিলেন দীপঙ্কর দে। অপর্ণা সেন, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, রাজশ্রী বসু, মহুয়া রায়চৌধুরী একাধিক নায়িকার নায়ক ছিলেন দীপঙ্কর দে।

দীপঙ্কর বলেছিলেন 'ইন্দিরা সিনেমাহলে দেখতে গিয়েছিলাম ছবিটা। উত্তমদার চলে যাওয়ার আবেগে বাঙালির আলাদা একটা সেন্টিমেন্ট ছিল। সুপারহিট ছবি। কিন্তু আমার অ্যাভারেজ লেগেছিল। ঠিক আছে। এরথেকে হাজার গুণ ভাল অভিনয় উত্তমদা আগের সব ছবিতে করেছেন। একদিকে পরিচালক সলিল দত্ত আর উত্তমদার শেষ ছবি বলেই দেখতে গিয়েছিলাম। বানিজ্যিক ছবির ফর্মূলাটা সলিল দত্ত জানতেন। যেটা অনেকেই পারে না। গান,নাচ সব মিলিয়ে হিট করেছিল 'ওগো বধূ সুন্দরী'। সলিল দার সেন্স অফ কমেডি খুব ভাল ছিল। 'ওগো বধূ সুন্দরী' দেখতে দেখতে বারবার 'মাইফেয়ার লেডি' র সঙ্গে তুলনা করে ফেলছিলাম। দুটো ছবির আকাশ আর পাতাল তফাত। সুমিত্রাকে বড্ড ওভার লেগেছিল। মলিনা দেবী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অবলীলায় কমেডি অভিনয় পারতেন।'

দীপঙ্কর দের কথা একেবারেই ভুল নয়। তবে মানসিক যন্ত্রণা ও শারিরীক যন্ত্রণা নিয়ে এই ছবির শ্যুটিং করেছিলেন উত্তমকুমার। যার ফলে সেটেই ঘটে হার্ট অ্যাটাক। মহানায়কের মতো মৃত্যুর পরেও সেই চরিত্রকে অমর করে দিতে আর কোনও নায়ক পারেননি।