বিধবার সাজ ধুয়ে মুছে ফেলতে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে কমলিনীকে। কিন্তু বৌমার স্পষ্ট উত্তর তিনি আর এই খেলাটা খেলতে পারছেন না।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 13 June 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ চলছিল কমলিনী আর নতুন ঠাকুরপোর স্বর্গীয় প্রেম। কিন্তু তারমাঝেই হঠাৎ এসে হাজির কমলিনীর পুরনো বর চন্দ্র। যাতে বেজায় চটেছে দর্শক। এদিকে পুরনো বর ফিরে আসাতে নতুন ঠাকুরপোর ঘরে কমলিনীর যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন শুধুই এ সংসারে দুখের সাথী। আনন্দের দিনে সংসারে আর নতুন কাকু অর্থাৎ স্বতন্ত্রর কোন প্রয়োজন নেই।
এদিকে কমলিনীর শাশুড়ি ছেলে ফিরে আসার আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৌমাকে বিধবা থেকে সধবা করার খেলায় নেমেছেন। বিধবার সাজ ধুয়ে মুছে ফেলতে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে কমলিনীকে। কিন্তু বৌমার স্পষ্ট উত্তর তিনি আর এই খেলাটা খেলতে পারছেন না।

কমলিনী চরিত্রে অপরাজিতা ঘোষ দাসের অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছে। যে শাশুড়ি তাঁকে জোর করে বিধবার সব নিয়ম পালন করাতেন, তিনিই আবার এখন বৌমাকে শাঁখা পলা পরে সধবা সাজতে বলছেন। অনসূয়া মজুমদারের এমন আচরণে খুবই চটছে দর্শক। এদিকে কমলিনী জানিয়ে দিয়েছেন কোনও মানুষ বারো বছরের বেশি নিরুদ্দেশ থাকলে তাঁকে মৃত বলেই ধরে নেওয়া হয়। তাঁর বরের আরও বেশি বছর খোঁজ ছিল না। বিধবার আচার নিয়ম এতকাল মেনে তাঁর পক্ষে আবার সধবার নাটক করা সম্ভব নয়। যে শাশুড়ি মাছ,মাংস খাওয়া বৌমার ছাড়িয়ে দেন, তিনিই এখন বৌমাকে সধবা ব্রত করতে সেসব খেতে বলছেন। ছেলে-বৌমার সামনে কমলিনীকে এখন অপরিচিত লোকের সঙ্গে এক ঘরে থাকতে হবে। কারণ শুধুমাত্র সেই লোকটিকে তাঁর মৃত বরের মতো দেখতে।
কমলিনীর বরের চরিত্রে সন্দীপ চক্রবর্তীর অভিনয় সামনে পজিটিভ হলেও আড়ালে হয়তো তিনি খলনায়ক। দর্শকের কাছেও তাঁর উপস্থিতি গলায় কাঁটা ফোটার মতো ফুটছে। চন্দ্র ওরফে সন্দীপের সঙ্গে অপরাজিতার বিয়ে দেখতে একদমই চায় না দর্শক। কিছু দর্শক আবার বলছে বর ফিরে এসছে তারথেকেও বরের বন্ধু বড় হল! তবে বেশিরভাগ দর্শকের মন পড়ে আছে স্বতন্ত্র অর্থাৎ সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের জন্যই। স্বতন্ত্র এদিকে বুকে পাথর নিয়ে বলছেন বৌঠানকে বন্ধু চন্দ্রর সঙ্গেই এক ঘরে থাকতে। কমলিনী তাই অভিমান আর রাগ থেকে স্বতন্ত্রকে বলে দিয়েছেন 'নতুন ঠাকুরপো তুমি ডলের সঙ্গে ঘর বাঁধো!' মধ্যবয়সে এত বিয়ের ফাঁদে আদৌ কী নতুন ঠাকুরপো আর বৌঠানের প্রেম বজায় থাকবে?

এদিকে কমলিনীর এই পুরনো বর মনে করা হচ্ছে জালি লোক। নতুন কাকুকে বাড়ি থেকে বার করে দিতেই পুত্রবধূ বর্ষা আর বড় ছেলে বুবলাই এই মিথ্যে প্লট সাজিয়েছেন। কারণ কমলিনীর পুরনো বরের কথাবার্তায় অনেক ধোঁয়াশা প্রকাশ পাচ্ছে। মিতিল গোয়েন্দাগিরি করায় চন্দ্রর স্বরূপ প্রকাশ পাচ্ছে ক্রমশ।
যাই হোক, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কলমে কোন উন্নত মানসিকতার গল্প আসছে না। তিনি সেই পুরনো হিন্দি সিরিয়ালের একতা কাপুরের প্লট দিয়ে সিরিয়ালের গল্প বুনছেন। বিধবা সধবার খেলাতে খেলার পুতুল করে ছেড়েছেন লীনা অপরাজিতা ঘোষদাসকে। তবে তিনিই আবার কমলিনীর মুখে বৈপ্লবিক সংলাপ রেখেছেন এসব ছেলেমানুষির বিরুদ্ধে। হয়তো সমাজের কোনও এক অংশের ছবি পর্দায় তুলে ধরতে চাইছেন লীনা।