মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার জেরে ভারতীয় শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন। একদিনেই উড়ে গেল ৫ লক্ষ কোটি টাকার লগ্নি। পড়ুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 5 August 2025 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩১ জুলাই, ২০২৫, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের বেশ কিছু রপ্তানি পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা কার্যকর হয়েছে ১ আগস্ট থেকে। ফলস্বরূপ, ভারতীয় শেয়ারবাজারে একদিনেই তীব্র পতন দেখা দিয়েছে। বাজার খোলার পরপরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। শুধু একদিনেই বাজার থেকে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার লগ্নি হাওয়া হয়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব এবার দেখা গেল ভারতের আর্থিক বাজারে।
সূচকের পতন:
নিফটি ৫০: ২৪,৮৫৫ ➡️ ২৪,৫৬৫
বিএসই সেনসেক্স: ৮১,৪৮১ ➡️ ৮০,৫৯৯
ব্যাংক নিফটি: ৫৬,১৫০ ➡️ ৫৫,৬১৭
স্মল-ক্যাপ সূচক: ৫৩,৮৮১ ➡️ ৫২,৫৭৫
মিড-ক্যাপ সূচক: ৪৬,১০২ ➡️ ৪৫,১৫৫
শুধু সেনসেক্স-ই একদিনে ৬০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। নিফটির পতন ঘটে ০.৭ শতাংশ।
🇺🇸 শুল্ক আরোপের কারণ:
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে।
২০২৪ সালে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪,৫০০ কোটি ডলার।
মার্কিন পক্ষের অভিযোগ, ভারতীয় আমদানির উপর উচ্চ শুল্ক, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতা মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে যেসব দেশ ঘনিষ্ঠভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ভারত পাল্টা জানিয়েছে—
“জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখেই তেল আমদানি এবং রফতানি নীতিনির্ধারণ করা হচ্ছে।”
কোন খাতগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
বস্ত্র ও পোশাক: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাবে। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মত দেশ উপকৃত হবে।
ওষুধ শিল্প: যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় জেনেরিক ওষুধের দাম বেড়ে যাবে, মুনাফা কমবে।
অটো যন্ত্রাংশ: শেয়ার দর কমেছে, অর্ডার কমার আশঙ্কা।
ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী: সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ১,২০০ কোটি ডলার।
রত্ন ও অলঙ্কার: মার্কিন বাজারনির্ভর ছোট রপ্তানিকারকরা ক্ষতির মুখে।
তেল ও গ্যাস: রাশিয়া-সংক্রান্ত শাস্তির ইঙ্গিতে শেয়ার দর পড়েছে।
যদিও আইটি খাত সরাসরি শুল্কের আওতায় না এলেও, মার্কিন লজিস্টিকস স্লোডাউনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
অদিতি নায়ার (ICRA): শুল্কের প্রভাব ভারতের GDP ০.২% পর্যন্ত কমাতে পারে।
নোমুরা রিপোর্ট: রপ্তানি কমতে পারে প্রায় ৩,৩০০ কোটি ডলার।
বিনোদ নায়ার (Geojit): প্রভাব সীমিত হলেও প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়বে।
সীমা শ্রীবাস্তব (SMC Global): ফার্মা, বস্ত্র, অটো ও রত্নখাতে প্রভাব থাকলেও দেশীয় চাহিদা তা সামাল দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পতনের কারণ কেবল মার্কিন শুল্ক নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতাও বড় ভূমিকা নিয়েছে।
গত ৯ সেশনে তারা প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
ভারতের সম্ভাব্য পদক্ষেপ:
ভারত সরকার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে
মার্কিন টেক কোম্পানিগুলোর উপর ডিজিটাল ট্যাক্স পুনর্বহাল করার ভাবনা চিন্তা করছে।
তবে একইসঙ্গে আলোচনার দ্বার খোলা রাখা হয়েছে।
চলতি মাসেই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দল দিল্লি সফরে আসতে পারে, যেখানে একটি সম্ভাব্য ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।