KORUS FTA-র আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর মার্কিন শুল্ক হ্রাসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্বস্তি ও নতুন গতি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 August 2025 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) থেকে আমদানি করা বেশ কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তে (Tariff reduction) দুই দেশের বাণিজ্যে (Bilateral Trade) এসেছে স্বস্তির হাওয়া। KORUS FTA-র (Korea-US Free Trade Agreement) আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ককে (International trade relations) আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশের বদলে এখন থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ১ অগস্ট থেকে।
এই চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর করেছে।
KORUS FTA-এর প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহু পুরনো এবং বহুমাত্রিক। ২০০৭ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০১২ সালে কার্যকর হওয়া KORUS FTA দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার বাণিজ্যকে অনেক সহজতর করেছে। যদিও বিগত বছরগুলিতে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ এই সম্পর্ককে মাঝে মাঝে টালমাটাল করে তুলেছিল। বিশেষ করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
বর্তমান শুল্ক হ্রাস সিদ্ধান্ত এই প্রেক্ষাপটে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এটি শুধু রপ্তানিকারকদের জন্য নয়, মার্কিন ভোক্তারাও এর সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক আস্থাও বাড়বে।
কোন পণ্যে শুল্ক হ্রাস?
শুল্ক হ্রাস প্রধানত দক্ষিণ কোরিয়ার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কিছু প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে হয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদকরা আরও প্রতিযোগিতামূলকভাবে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইস্পাত এবং গাড়ি নির্মাণ শিল্প এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা জানিয়েছেন, "এই সিদ্ধান্ত আমাদের শিল্পগুলোর মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও মসৃণ হবে।"

দুই দেশের লাভ
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য: রপ্তানি বাড়বে, উৎপাদন খরচ কমবে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য: ভোক্তার পণ্য আরও সস্তা হবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে, কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র KORUS FTA-কে নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত উপস্থিতিকেও আরও জোরদার করবে।
প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের সহযোগিতার পথ খুলে দিচ্ছে। এটি দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে।" মার্কিন বাণিজ্য দফতর বলেছে, "শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে আমরা ন্যায্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।"
ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। হুন্দাই, পোসকো-সহ দক্ষিণ কোরিয়ার বড় সংস্থাগুলি এবং মার্কিন আমদানিকারক সংস্থাগুলিও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলেই চিহ্নিত করেছে।
ভবিষ্যতের দিশা
স্বল্পমেয়াদে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন বাজারে কোরিয়ার পণ্যের অংশীদারিত্ব বাড়াবে। এটি Supply Chain স্থিতিশীল রাখতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের দিকেও এই অংশীদারিত্ব সম্প্রসারিত হতে পারে।
উপসংহার
এই সিদ্ধান্ত মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্যে একটি নতুন ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। এটি শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।