জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে নবগ্রহ কীভাবে আমাদের জীবনে শুভ ও অশুভ প্রভাব ফেলে? জন্মছক ও গ্রহযোগ কীভাবে নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ—জানুন বিস্তারিত।

জ্যোতিষশাস্ত্র
শেষ আপডেট: 1 August 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোন দিনটা আপনার জন্য ভাল? চাকরির ইন্টারভিউ কবে রাখবেন? সম্পর্ক বা বিবাহে শুভ সময় কোনটা? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখনও বহু মানুষ ভরসা রাখেন জ্যোতিষশাস্ত্রে। এটা শুধু কোনও প্রাচীন বিশ্বাস নয়, বরং মানুষের ভাগ্য ও মানসিক অবস্থার উপর গ্রহদের প্রভাব ঘিরে এক নিরন্তর অনুসন্ধান।
ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়েও এই অনুসন্ধান থেমে নেই। বরং মোবাইল ও ইন্টারনেটের হাত ধরে আরও বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে জন্মছক বিশ্লেষণের সুযোগ। অসংখ্য অ্যাপ, ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট জ্যোতিষচর্চাকে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। কীভাবে গ্রহরা আপনার জীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা বুঝতে আজকের প্রজন্মও আগ্রহী হয়ে উঠছে।
‘জ্যোতিষ’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত থেকে। এর মানে—আলো বা জ্যোতির শাস্ত্র। প্রাচীন ভারতে, বেদের ছয় অঙ্গের অন্যতম ছিল জ্যোতিষ। তখনকার সময়ে যজ্ঞ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সময় নির্ধারণে এই শাস্ত্র ব্যবহার হত। সেই সময় জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান ছিল একই মুদ্রার দুই পিঠ।
পরবর্তীকালে, গ্রিক ও আরব বিশ্বের প্রভাব পড়লে রাশিচক্র এবং গ্রহভিত্তিক ভবিষ্যৎ নিরূপণ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা এক স্বাধীন শাস্ত্রে রূপ নেয়। এই শাস্ত্রে বিশ্বাস, একজন মানুষের জন্মমুহূর্তে আকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়।
কারা ঠিক করে আপনার ভাগ্য?
জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য ৯টি গ্রহকে একত্রে বলা হয় ‘নবগ্রহ’। এগুলো হল—সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু। যদিও বিজ্ঞান বলছে রাহু ও কেতুর বাস্তব অস্তিত্ব নেই, জ্যোতিষশাস্ত্রে তাদের প্রভাব বিশাল।
সূর্য (রবি): আত্মবিশ্বাস, অহং, পিতা ও নেতৃত্বের প্রতীক। উচ্চ পদস্থ চাকরি, সম্মান বা উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী হতে পারে এই গ্রহ।
চন্দ্র: মন, মা, মানসিক পুষ্টি এবং নারীর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। আবেগ এবং মানসিক স্থিতি নির্ধারণে চন্দ্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গল: সাহস, শক্তি ও রক্তের প্রতিনিধিত্ব করে। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার বা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধ: বুদ্ধি, বাকশক্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগে প্রভাব ফেলে। হিসাব-নিকাশ বা মিডিয়া সংক্রান্ত কাজে বুধের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতি: জ্ঞান, ধর্ম, শিক্ষকতা এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। নারীর কুন্ডলীতে এই গ্রহ ভাল স্থানে থাকলে সংসার সুখের হয়।
শুক্র: প্রেম, বিলাসিতা, দৃষ্টি এবং রূপের প্রতীক। শিল্প ও সৃজনশীলতার উপর প্রভাব ফেলে।
শনি: শ্রম, দুঃখ, ধৈর্য এবং পরীক্ষার প্রতীক। কঠিন সময় এবং কর্মফলের প্রতীক হিসেবে শনির ভয় অনেকেই পান।
রাহু ও কেতু: ছায়াপথে অবস্থানকারী এই ‘গ্রহ’ দু’টি আসলে বাস্তব নয়, বরং শক্তির বিন্দু। তবে এগুলি জীবনে হঠাৎ পরিবর্তন, বিভ্রান্তি ও করুণ ঘটনা ঘটাতে পারে বলেই বিশ্বাস।
ভাগ্য কি লিখে দেয় জন্মের মুহূর্তেই?
জন্মছক বা কুন্ডলী তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় জন্মতারিখ, সময় ও স্থান। সেই মুহূর্তে আকাশে গ্রহদের অবস্থান হিসেব করে তৈরি হয় একটি চার্ট—সেই চার্টই ভবিষ্যতের দিশারী বলে মনে করেন জ্যোতিষীরা। এই জন্মছক অনুযায়ী ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, ক্যারিয়ার, স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় বলে দাবি। যদিও অনেকেই মনে করেন, এই গ্রহেরা স্রেফ প্রবণতা নির্দেশ করে। সিদ্ধান্ত কিন্তু মানুষকেই নিতে হয়।
গ্রহের গতি, যোগ এবং তাদের প্রভাব
গ্রহরা শুধুই স্থির নয়, তারা সারাক্ষণ ঘোরে। এই গতি অনুযায়ী ফলাফলও বদলায়। যখন একাধিক গ্রহ একই রাশিতে থাকে, তখন তা 'গ্রহ যোগ' বা 'যুতি' তৈরি করে—যা হতে পারে খুবই শুভ কিংবা অশুভ। যেমন, বৃহস্পতি ও শুক্র একসঙ্গে থাকলে শিক্ষা, সৌন্দর্য বা সৃজনশীলতার দিকটি তীব্রভাবে জাগ্রত হতে পারে।