ভূমিকম্প থেকে জঙ্গি হানা—ভবিষ্যতের বিপদ কি আগাম জানা সম্ভব? সংখ্যাতত্ত্ব (Numerology), AI ও তথ্য বিশ্লেষণে সম্ভাবনার সন্ধান।
.jpeg.webp)
সংখ্যাতত্ত্ব কি পারে ভবিষ্যতের বিপদ মাপতে? ছবি: এআই নির্মিত।
শেষ আপডেট: 1 August 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর প্রতিটি মুহূর্তে ঘটছে নানা ঘটনা। কিছু একেবারে প্রাকৃতিক, কিছু আবার নিছক মানবসৃষ্ট। হঠাৎ করে কেঁপে ওঠে মাটি, ভেঙে পড়ে ভবন, প্রাণ হারায় মানুষ। আবার কোনও এক সকালেই কেঁপে ওঠে নিরাপদ শহর, সন্ত্রাসের থাবায়। তখন একটাই প্রশ্ন জাগে— এই বিপদ যদি আগেভাগে জানা যেত!
এই অনিশ্চয়তার সময়ে আধুনিক বিজ্ঞান (science), সংখ্যাতত্ত্ব (numerology) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence)—তিনের মেলবন্ধনে খোঁজা হচ্ছে সেই জাদুকাঠি, যা বিপদ আসার আগেই সংকেত দেবে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলিতে machine learning, predictive analytics, data modeling, এমনকি numerological patterns বিশ্লেষণ করে বিপদের আগাম পূর্বাভাসের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—সংখ্যা ও প্রযুক্তির খেলা কি সত্যিই ভবিষ্যতের অন্ধকার উন্মোচন করতে পারে?
বিশ্বজুড়ে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রাণঘাতী, তাদের মধ্যে ভূমিকম্প (earthquake) অন্যতম। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বা সুনামির মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে কোনও না কোনও আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়—কিন্তু ভূমিকম্প? মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) স্পষ্ট বলেছে—তারা এখনও পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট ভূমিকম্প পূর্বাভাস (earthquake prediction) দিতে সক্ষম হয়নি, এবং ভবিষ্যতে সেই আশাও নেই।
ভূমিকম্প মূলত হয় টেকটোনিক প্লেটের (tectonic plate) আচমকা সংঘর্ষে। যদিও এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে সরছে, হঠাৎ কোনও চাপে সংঘর্ষ ঘটলে কেঁপে ওঠে মাটি। এই সরণ নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা এখনো অসম্ভব। ফলে ভূমিকম্প ঠিক কখন, কোথায় এবং কত মাত্রার হতে পারে, সেটা বলা অসম্ভব।
অতীতে প্রাণীদের আচরণ, ছোট ছোট কম্পন বা ভূগর্ভস্থ শব্দ দেখে পূর্বাভাস দেওয়ার কিছু প্রচেষ্টা হয়েছে—যেমন চীনে একবার আগাম সরানো হয়েছিল মানুষকে। কিন্তু এইসব চিহ্ন বহু ঘটনায় ঘটতে পারে—সবই ভূমিকম্প নয়।
ভূকম্পবিদ লুসি জোন্স বলেন, “ভয়ের মুখে মানুষ একটি প্যাটার্ন খোঁজে। কিন্তু তা ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং মানসিক প্রতিক্রিয়া।”
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সম্ভাব্যতা হিসাব (probabilistic forecasting) করতে পারেন মাত্র। তবুও গবেষণা থেমে নেই। কিছু বিজ্ঞানী machine learning ব্যবহার করে অতীতের ভূমিকম্প বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করছেন—কিন্তু এখনো তা পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য নয়।
জঙ্গি হানা (terror attack) প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। তাই এখানকার আগাম বার্তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তথ্য (intelligence), data surveillance, human behavior analysis, এবং communication tracking-এর উপর। বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন (terrorist organizations) যেমন ‘The Resistance Front (TRF)’, সোশ্যাল মিডিয়ায় সদস্য সংগ্রহ করছে, কার্যকলাপ চালাচ্ছে। এই ডিজিটাল কার্যক্রম লক্ষ্য করেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হামলার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এক বিবৃতিতে জানান, “বাংলাদেশে জঙ্গিদের নাশকতা ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে।”
তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের ট্র্যাকিং, নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয়তা—সবই একসাথে কাজ করে। এক্ষেত্রে সংখ্যা বা numerological forecasting-এর কোনো বাস্তব ভূমিকা নেই। বরং predictive policing, AI-driven surveillance ও data correlation techniques এই ক্ষেত্রের ভবিষ্যত।
তাহলে কি সংখ্যাতত্ত্ব (numerology) পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক? বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই বলেন—হ্যাঁ। কারণ এর কোনো scientific evidence নেই। তবুও, data science, AI, machine learning (ML) এবং statistics আশার আলো দেখাচ্ছে।

বর্তমানে AI-based systems তৈরি করা হচ্ছে, যা natural disaster, epidemics, economic crash এমনকি cyber threats পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে, এই সব প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, তথ্যের নির্ভুলতা এবং নৈতিকতা বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
ভবিষ্যতের বিপদ নিয়ে আলোচনা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় মানুষকেই। সংখ্যাতত্ত্ব হোক বা AI—এই সব কিছুর মাধ্যমে আমরা কেবল সম্ভাব্য সংকেত পেতে পারি, চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবার ভার মানব বুদ্ধির ওপরেই থাকে।
বিশ্বাস আর বিজ্ঞান, অঙ্ক আর অভিজ্ঞতা—দুটোই আমাদের ভবিষ্যতের প্রস্তুতির হাতিয়ার হতে পারে, যদি আমরা ঠিকভাবে এগোই।
ভবিষ্যতের বিপদের পূর্বাভাস একধরনের বিজ্ঞান, আবার কিছুটা শিল্পও। প্রযুক্তি আমাদের কিছু পথ দেখাতে পারে, কিন্তু তা পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়। সংখ্যাতত্ত্ব একান্তই বিশ্বাসের বিষয়—যা মনকে শান্তি দিতে পারে, বিজ্ঞান নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মানব অভিজ্ঞতা—এই ত্রিসূত্রেই তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতের সুরক্ষার চাবিকাঠি।
('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)