তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি মুদ্রাস্ফীতির উপর পড়ে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

শেয়ারবাজারে ধস (ছবি এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 9 March 2026 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালে শেয়ার বাজার খুলতেই ধস (Stock market crash) নামল। আরবদুনিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই পতন! এর ফলে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা (investors lose 9 lakh crore) উধাও হয়ে যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বাজারেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বড় ধস নেমেছে প্রধান সূচকগুলিতে। সোমবার সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে সেনসেক্স (S&P BSE Sensex) ২ হাজার ৪৪৪.৫১ পয়েন্ট পড়ে ৭৬ হাজার ৪৭৪.৩৯-এ নেমে আসে (Sensex falls 2200 points)। অন্যদিকে নিফটি ৫০ (Nifty 50) ৭২৯.৯০ পয়েন্ট কমে ২৩ হাজার ৭২০.৫৫-এ দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে নিফটি ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি নীচে নেমে যায়।
বাজারে এই ধস (Share Market Crash) হঠাৎ করে হয়নি। এর আগের ট্রেডিং দিনেও বাজারের পরিস্থিতি খুব একটা ভাল ছিল না। শুক্রবার সেনসেক্স প্রায় ১ হাজার ৯৭ পয়েন্ট কমে ৭৮ হাজার ৯১৮-এ বন্ধ হয়। একই দিনে নিফটি ৩১৫ পয়েন্ট পড়ে ২৪ হাজার ৪৫০-এ লেনদেন শেষ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বড় ধসের প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইরান (Iran), আমেরিকা (United States) এবং ইজরায়েলের (Israel) সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি মুদ্রাস্ফীতির উপর পড়ে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। ফলে শুধু শেয়ারবাজারই নয়, সাধারণ মানুষের খরচের উপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু ভারতেই নয়, এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও। বিভিন্ন এশীয় সূচকেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, কোথাও কোথাও প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত ধস নেমেছে।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাত (Iran-Israel War) গোটা বিশ্বের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, তার আঁচ গিয়ে পড়ছে বিশ্বের তেলবাজারে (Global Oil Market)। এরমধ্যেই রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম আবার তেলের দাম এতটা বেড়ে গেল।
রবিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক Brent crude নিউইয়র্কে সন্ধ্যার দিকে ব্যারেলপিছু ১০৪ ডলারেরও বেশি দামে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে আমেরিকার প্রধান সূচক West Texas Intermediate-এর দামও ১০০ ডলার পেরিয়ে প্রায় ১০৮ ডলারে উঠে যায়।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১২.৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলারে পৌঁছায়, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে যায়। গত সপ্তাহেই মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৮৩ সালে তেলের ফিউচার ট্রেডিং শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East tension) কারণে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কুয়েত, যা OPEC-এর পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ, ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলকভাবে তেল উৎপাদন ও রিফাইনারির কাজ কমাতে শুরু করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের হুমকির কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।