গত কয়েক মাস ধরে এই উচ্চ শুল্কই বাজারের উপর বড় চাপ তৈরি করেছিল। সেই বাধা সরতেই বাজারের প্রতিক্রিয়া আসে দ্রুত ও তীব্রভাবে।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে লম্বা লাফ সেনসেক্সের
শেষ আপডেট: 3 February 2026 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু প্রতীক্ষিত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি (India–US Trade Deal) চূড়ান্ত হতেই সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারবাজারে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা গেল। মঙ্গলবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেনসেক্স প্রায় ২,৩০০ পয়েন্ট লাফ দেয়, আর নিফটি এক ধাক্কায় উঠে যায় ৭০০ পয়েন্টেরও বেশি। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতেই বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এক ঝটকায় বদলে যায়- সতর্কতা ছাপিয়ে আশাবাদ।
সকাল ৯টা ৩১ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স (Sensex) ২,২৯১.১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৮৩,৯৬৬.৯৯-এ পৌঁছয়। একই সময়ে নিফটি (Nifty) ৫০ বেড়ে দাঁড়ায় ২৫,৭৯০.৪০-এ, অর্থাৎ প্রায় ২৫,৮০০ ছুঁয়ে ফেলে।
শুল্ক কমায় বাজারে স্বস্তি
এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এই উচ্চ শুল্কই বাজারের উপর বড় চাপ তৈরি করেছিল। সেই বাধা সরতেই বাজারের প্রতিক্রিয়া আসে দ্রুত ও তীব্রভাবে।
কোন সেক্টরে সবচেয়ে লাভ?
রাইট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ফান্ড ম্যানেজার সোনম শ্রীবাস্তবের মতে, রফতানি নির্ভর ক্ষেত্রগুলিই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। তাঁর মতে, আইটি সার্ভিসেস, ফার্মাসিউটিক্যালস, স্পেশালটি কেমিক্যালস, অটো অ্যানসিলিয়ারিজ এবং বেছে নেওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এই চুক্তির সরাসরি সুফল পাবে।
‘গেম চেঞ্জার’ বলছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা
চুক্তিটিকে ‘ব্রেক থ্রু মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন জিওজেট ইনভেস্টমেন্টের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট। তাঁর মতে, “৫০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে শুল্ক নামানো ভারতীয় অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের জন্য গেম চেঞ্জার। চুক্তি বিলম্বিত হওয়াটাই ছিল বাজারের উপর সবচেয়ে বড় চাপ।”
বিজয়কুমারের অনুমান, এই চুক্তির প্রভাবে চলতি আর্থিক বছরে ভারতের বৃদ্ধির হার প্রায় ৭.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে। কর্পোরেট আয়ের বৃদ্ধি ১৬–১৮ শতাংশ পর্যন্ত গতি পেতে পারে, পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রাও শক্তিশালী হবে। তাঁর মতে, আমেরিকা–ভারত চুক্তির (India-US Trade Deal) পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU Trade Deal) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি এবং বৃদ্ধিমুখী বাজেট মিলিয়ে বাজারে ‘অ্যানিম্যাল স্পিরিট’ ফিরতে চলেছে।
তিনি আরও জানান, ঘোষণার আগে বাজারে বড়সড় শর্ট পজিশন ছিল। স্পষ্টতা আসতেই শর্ট কভারিং শুরু হয়েছে, যা এই র্যালিকে আরও জোরদার করছে। ব্যাঙ্কিং, এনবিএফসি, টেলিকম, ক্যাপিটাল গুডস ও আইটি—এই বড় ক্যাপ শেয়ারগুলিই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ হবে বলে মত তাঁর। টেক্সটাইল স্টকও বিশেষ নজরে থাকবে।
টেকনিক্যাল দিক থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত
ইকুইটি রিসার্চ প্রধান শ্রীকান্ত চৌহানের মতে, দিনের শুরুতে নিফটি (Nifty) ও সেনসেক্স (Sensex) যথাক্রমে ২৪,৭০০ ও ৮০,৪০০ স্তরে সাপোর্ট পরীক্ষা করেছিল। সেই স্তর ধরে রাখতেই বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। ইনট্রাডে চার্টে রিভার্সাল প্যাটার্ন এবং ডেইলি চার্টে শক্তিশালী বুলিশ ক্যান্ডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই উত্থান সাময়িক নয়, বরং কাঠামোগত।
সামনে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাধা সরে যাওয়ায় এখন ‘ডিপে কেনা’ কৌশলই কার্যকর। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, আয়ের পূর্বাভাস উন্নত হচ্ছে, আর টেকনিক্যাল সিগন্যালও অনুকূলে। তাই সোমবারের এই র্যালি শুধু একদিনের প্রতিক্রিয়া নয়—ভারতীয় শেয়ারবাজারে নতুন ও শক্তিশালী এক পর্বের সূচনা হতে পারে।