অনেকেই এ বার গাড়ির বুকিং করতে শুরু করেছেন। এত দিন যাঁরা গাড়ির দাম কমার অপেক্ষায় বুকিং করছিলেন না, এখন করছেন।

শেষ আপডেট: 6 September 2025 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকা বদলাচ্ছে।কথা হচ্ছে গিয়ে গাড়ি বাজারের। উৎসবের মরসুমে পোশাক, ভোগ্য পণ্যের মতো গাড়িও দীর্ঘদিন ধরেই পুজোর কেনাকাটার মধ্যে পড়ে। তা সেই ঝোঁকটাই কিছুটা থমকে গিয়েছিল জিএসটি নিয়ে কী হয় কী হয়, সেই জল্পনায়। গত ৩ তারিখ জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬ তম বৈঠকে (56th GST Council Meeting) দুটি হার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু পণ্যের মতো মোটের উপরে সব রকম গাড়িতেই জিএসটি কমছে (Car gst rate)। ফলে দেশি-বিদশি গাড়ি সংস্থাগুলিও সেই মতো দাম কমানোর কথা ঘোষণা করতে শুরু করেছে। জিএসটি হ্রাসের মতোই যার অধিকাংশই কার্যকর হবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে বিক্রেতাদের (গাড়ি সংস্থা ও ডিলার) মুখে হাসি ফুটিয়ে শোরুমে থমকে যাওয়া ছবির চাকা ধীরে ধীরে ফের ঘুরতে শুরু করেছে। বাজার সূত্রের খবর, অনেকেই এ বার গাড়ির বুকিং করতে শুরু করেছেন। এত দিন যাঁরা গাড়ির দাম কমার অপেক্ষায় বুকিং করছিলেন না, এখন করছেন। তবে তাঁরা গাড়ি কিনবেন দাম কমার পরেই।
জিএসটি (GST) সরলীকরণ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই কথা চলছিল। বিশেষ করে করোনার পরে কর কমিয়ে চাহিদা বৃদ্ধির জন্য শিল্পমহল বারবার কেন্দ্র ও জিএসটি কাউন্সিলের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছিল। গাড়ির কাঁচামালের দাম, পেট্রল-ডিজ়েলের মতো প্রথাগত জ্বালানি, রোডট্যাক্স, বিমা ইত্যাদি মিলিয়ে গাড়ির সার্বিক দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে কম দামি ও ছোট গাড়ির ক্রেতার সাধ থাকলেও গাড়ির চাবি হাতে নেওয়া সাধ্যে কুলোচ্ছিল না।
এত দিন গাড়ির উপর কম পক্ষে ২৮ শতাংশ জিএসটি বসত। গাড়ি বড়, দামি ও ডিজ়েলচালিত হলে করের হার যেমন বাড়ত, তেমনই চাপত আলাদা সেস-ও। সেসের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না হলেও ২৮ শতাংশ হার তুলে দিয়ে কাউন্সিল তা নামিয়েছে ১৮ শতাংশে। ফলে মারুতি-সুজুকি, টাটা মোটরস, হুন্ডাই-এর মতো সংস্থাগুলির ছোট গাড়ির আগ্রহী ক্রেতাদের পকেটে চাপ কমারই সম্ভাবনা। এ ছাড়া তাদের এবং শুধুই দামি ও বিলাসবহুল গাড়ি তৈরি করা সংস্থাগুলির গাড়ির ক্ষেত্রেও কর কিছুটা কমছে। ফলে উপকৃত হতে পারে মার্সিডিজ় বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ-এর মতো সংস্থাগুলিও। তবে দু চাকার গাড়ি সংস্থাগুলি এখনও কিছু না বললেও, আগামী সম্তাহে কিছু আঁচ মিলব বলে বাজার ও ক্রেতা মহলের আশা। জিএসটি কাঠামো সংস্কারের (New GST Slab) পরপরই টাটা মোটরস, হুন্ডাই, মহিন্দ্রা, টয়োটা কির্লোস্কার মোটর, রেনো-র মতো বিভিন্ন সংস্থা কর হ্রাসের সুবিধা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। মারুতি সুজুকি-সহ অন্যান্য আরও কিছু সংস্থা আগামী সপ্তাহের গোড়ার দিকেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
যেমন হুন্ডাই বিবৃতিতেই জানিয়েছে, তাদের ৬০ শতাংশ গাড়ির উপরে এ বারে কর চাপবে ১৮ শতাংশ। বাকিগুলির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ। সংস্থা সূত্রের খবর, কোন মডেলের দাম কতটা কমবে তা ঠিক হতে পারে আগামী সপ্তাহের গোড়ায়। একই ইঙ্গিত হোন্ডা, মারুতি সুজুকি-রও। মারুতি সুজুকি-র চেয়ারম্যান আর সি ভার্গব ছোট গাড়ির কর কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার পদক্ষেপকে জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।
যেমন রেনো ইন্ডিয়ার বিবৃতি অনুযায়ী, তাদের ছোট গাড়ি কুই্যড গাড়ি বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের দাম কমছে ৪০,০৯৫ থেকে ৫৫,০৯৫ টাকা পর্যন্ত। ট্রাইবার গাড়ির ক্ষেত্রে দাম কমবে ৫৩,৬৯৫ থেকে ৮০,১৯৫ টাকা পর্যন্ত। সর্বাধিক দাম কমছে সংস্থাটির কাইগার গাড়ির একটি ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে, ৯৬,৩৯৫ টাকা পর্যন্ত। আর একটি ভ্যারিয়েন্ট সস্তা হবে ৫৩,৬৯৫ টাকা পর্যন্ত।
কিছু শর্ত সাপেক্ষে সর্বনিম্ন ১.০১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সস্তা হবে মহিন্দ্রার থর (Mahendra Thar) (৪ হুইল ড্রাইভ, ডিজ়েল) এবং স্করপিও ক্লাসিক গাড়ির মডেল দুটি। সবচেয়ে বেশি দাম কমছে তাদের এক্সইউভি৩এক্সও (ডিজ়েল) মডেলটির, ১.৫৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। পেট্রল ও ডিজ়েলচালিত অন্যান্য গাড়ি – বোলেরো/নিও, এক্সইউভি৩এক্সও (পেট্রল), থর (টু হুউল ড্রাইভ ডিজ়েল) স্করপিও-এন, এক্সইউভি৭০০, থর রক্স—এসবও সস্তা হচ্ছে জিএসটি হ্রাসের কারণেই। তবে মহীন্দ্রা শনিবার থেকেই নতুন দাম কর্যকর করার কথা জানিয়েছে।
ফেডারেশন অব ডিলার্স অ্যাসোসিয়শনের (ফাডা) চেয়ারপারসন রোহিত চৌধুরি এ দিন বলেন, “জিএসটির কি বদল হয় দেখে অনেক ক্রেতাই গাড়ির খোঁজখবর করলেও অপেক্ষা করছিলেন। শোরুমে এলেও বুকিং করার ক্ষেত্রে ততটা আগ্রহী ছিলেন না। জিএসটি কমার পরে এবং গাড়ি সংস্থাগুলি একে একে সেই সুবিধা ক্রেতাদের দেওয়ার (পাস অন) কথা ঘোষণা বা ইঙ্গিত দিতে শুরু করায় সেই সব গাড়ির বুকিং বাড়তে শুরু করেছে। তবে পুজোর মধ্যেও কয়েকটি দিন আরটিও-গুলি (আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর) নতুন গাড়ির নথিভুক্তির জন্য খোলা থাকলে বিক্রি আরও বাড়বে।” তবে গাড়ি সংস্থা এবং ডিলারের আলাদা করে এই সময়ে কিছু ছাড় ঘোষণা করেন। গাড়ির দাম কমলে সেই ছাড় এ বারে কতটা মিলবে, তা নিয়ে বাজারে জল্পনা রয়েছে। যদি ছাড় প্রায় একই থাকা বা সামান্যও কমে, তাহলে ক্রেতাদের গাড়ি কেনার খরচ আরও কমবে।
প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার রাজ্যের পরিবহণ দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ফাডা-র কর্তাদের রুটিন বৈঠক রয়েছে। সেখানেও বিষয়টি তুলতে পারেন তাঁরা। দফতর সূত্রের খবর, গত বছর অষ্টমীর দিন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চালু ছিল। এ বারেও এখনও পর্যন্ত সেটা থাকারই সম্ভাবনা বেশি। তবে সোমবারের বৈঠকে নতুন কিছু ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার।