করদাতাদের জন্য বড় খবর। আয়কর দফতর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ বাড়ানো হল। এই সুযোগ মিলবে শুধুমাত্র যাঁদের হিসেবপত্র অডিটের আওতায় নয়, তাঁদের জন্য।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করদাতাদের জন্য সুখবর। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াল আয়কর দফতর। চলতি অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) অর্থাৎ ২০২৫-২৬ মূল্যায়ন বছরের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর। তবে এই সুযোগ কেবলমাত্র তাঁদের জন্য, যাঁদের হিসেবপত্র অডিটের আওতায় পড়ে না।
এদিকে আয়কর দফতরের পোর্টাল বলছে, নির্ধারিত সময়ে যত সংখ্যক রিটার্ন জমা হওয়ার কথা, তার তুলনায় এখনও অনেকটাই পিছিয়ে ফাইলিং। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোর্টালে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩.৩৫ কোটি। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ মূল্যায়ন বছরের জন্য জমা হয়েছে ৪.৮৯ কোটি আয়কর রিটার্ন। ৪.৬৩ কোটি রিটার্ন ইতিমধ্যেই সফলভাবে ভেরিফাই হয়েছে। ভেরিফাই হওয়া রিটার্নের মধ্যে ৩.৩৫ কোটি প্রসেসও হয়ে গিয়েছে।
এই আবহে একাধিক বাণিজ্য সংস্থা এবং পেশাদারি সংগঠন শেষ তারিখ আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলছিল। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT)-কে চিঠি দিয়ে তারা জানায়, এ বছরও বহু সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে করদাতাদের। তার মধ্যে প্রধান সমস্যা পোর্টালের প্রযুক্তিগত গ্লিচ। সেই সঙ্গে দেরিতে প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন ITR ইউটিলিটি। সময় হাতে না থাকার কারণে করদাতাদের ওপর বেড়েছে চাপ।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন, সুরাত (CAAS) এবং ফেডারেশন অফ কর্নাটক চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FKCCI) স্পষ্ট জানিয়েছে, দেরিতে ইউটিলিটি প্রকাশ, বারবার প্রযুক্তিগত সমস্যার উদ্ভব এবং জটিল কমপ্লায়েন্সই হল প্রধান বাধা। একই মত জানিয়ে বম্বে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস সোসাইটিও (BCAS) ১ সেপ্টেম্বর চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতে কেবল ITR ফাইলিং নয়, ট্যাক্স অডিট কেস এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং ফাইলিং-এর ক্ষেত্রেও সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন করদাতারা জানিয়েছেন, পোর্টালে অনেক সময় সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হচ্ছে না। AIS, TIS এবং ফর্ম ২৬এএস-এর মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন কমপ্লায়েন্সের বোঝা। এই সমস্ত কারণে সময়সীমা আরও কিছুটা পিছোনোর দাবি ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত CBDT এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ফলে যাঁদের হিসেব অডিটের আওতায় নয়, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। করদাতাদের কাছে তাই এখন প্রধান চিন্তা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফাইলিং শেষ করা।